Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

৪৩ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর!‌ পুলিশের অবস্থা বাংলার মতো খারাপ আর কোথাও নেই :‌ শুভেন্দু

RK NEWZ পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে এই মুহূর্তে প্রায় ৪৩ হাজার পদ শূন্য। পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী না থাকায় রাজ্যের বহু থানা সিভিক ভলান্টিয়ার-নির্ভর হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশের লোকবল বাড়ানোর পাশাপাশি পুরনো গাড়ি বদল, থানার পরিকাঠামো উন্নয়ন, মহিলাদের থানা শক্তিশালী করা এবং জরুরি পরিষেবার ‘রেসপন্স টাইম’ কমানোর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “রাজ্য পুলিশে ৪৩ হাজার শূন্যপদ রয়েছে। বহু থানা সিভিক পুলিশ-নির্ভর। পরিকাঠামো, লজিস্টিক্স এবং গাড়ির এমন খারাপ অবস্থা আর কোথাও নেই।”

বছরে এক হাজার নতুন গাড়ি
রাজ্য পুলিশের গাড়ির পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল বা ডিজির সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, রাজ্য পুলিশের প্রায় চার হাজার গাড়ি বদলানো প্রয়োজন। একসঙ্গে এত গাড়ি কেনার অর্থ রাজ্যের অর্থ দফতর দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সেই কারণে ধাপে ধাপে গাড়িগুলি বদলানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একসঙ্গে চার হাজার গাড়ি দিতে না পারলেও বছরে এক হাজার করে দেব। পুলিশের লজিস্টিক্স এবং পরিকাঠামো বাড়ানো হবে।”

প্রতি এক লক্ষে পুলিশ মাত্র ১০৬
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রতি এক লক্ষ মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ রয়েছেন মাত্র ১০৬ জন। এই সংখ্যা দেশের অন্য অনেক রাজ্যের তুলনায় অত্যন্ত কম বলে দাবি করেছেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য, প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য পুলিশের সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত ২০০ জন করা। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে বর্তমান ৪৩ হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও পদ তৈরি করতে হতে পারে।

শুভেন্দু বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের জট কেটে গিয়েছে। নিয়োগ শুরু করুন। পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান এখানে রয়েছেন। আপনাকে বলছি, পুলিশে ম্যানপাওয়ার বাড়াতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করব।”

মহিলা থানা ও সাইবার ইউনিটে জোর
রাজ্যের মহিলা থানাগুলিকে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্তে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত পুলিশকর্মী ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো দেওয়ার উপর জোর দেন তিনি। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় রাজ্য পুলিশ ভাল কাজ করছে বলে প্রশংসাও করেন শুভেন্দু। সাধারণ মানুষ কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন, তা বোঝাতে একটি ঘটনার উল্লেখ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেউ হয়তো পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন, নাতনিকে ডাক্তার করবেন বলে। মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে সব টাকা চলে গেল।” সাইবার অপরাধের তদন্তের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি বলে জানান তিনি।

‘অর্জুন’ নামে নতুন বাহিনী
প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে সিভিল ডিফেন্সের অধীনে ২০০ সদস্যের একটি নতুন বাহিনী তৈরি করছে রাজ্য সরকার। এই বিশেষ বাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘অর্জুন’। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ৮০ জন প্রাক্তন সেনাকর্মীকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অগ্নিবীরদেরও এই বাহিনীতে নিয়োগ করা হবে। আমফানের পর গাছ সরানো ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজে দীর্ঘ সময় লেগেছিল বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আগের সরকারের সময় দেখেছি, আমফানের পরে তিন দিনেও গাছ সরানো যায়নি। ওড়িশা থেকে দল এসে ১২ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কার করে দিয়েছিল।”

থানায় চারটি করে ‘১১২’-র গাড়ি
পুলিশের জরুরি পরিষেবায় সাড়া দেওয়ার সময় বা ‘রেসপন্স টাইম’ কমানোর উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশে জরুরি ফোন পাওয়ার ৬ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কলকাতায় যোগাযোগ ও রাস্তার ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় পুলিশের সাড়া তুলনামূলক দ্রুত হলেও রাজ্যের অন্য এলাকার পরিস্থিতি এক নয়।

শুভেন্দুর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের বহু জায়গায় পুলিশের গড় রেসপন্স টাইম প্রায় তিন ঘণ্টা। এই পরিস্থিতি বদলাতে প্রতিটি থানায় জরুরি পরিষেবা ‘১১২’-র জন্য চারটি করে ডেডিকেটেড গাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরবর্তী বাজেটে থানাপিছু আরও দু’টি গাড়ি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

মহালয়ার দিন নতুন ‘১১২’ পরিষেবার গাড়িগুলির উদ্বোধন করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে দ্রুত সচল হয়ে শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles