RK NEWZ শক্তিগড়ে ল্যাংচার দাম শুরু হয় সাত টাকা থেকে। দশ, পনেরো, কুড়ি টাকারও ল্যাংচা মেলে। চিনির দাম বাড়তে থাকায় ল্যাংচার দাম বাড়ানো হবে নাকি মিষ্টির আকার ছোট করে দেওয়া হবে তা নিয়েই কার্যত দোটানায় ব্যবসায়ী মহল। দাম বাড়ছে চিনির। তার জেরে কার্যত মাথায় হাত পড়েছে পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড়ের ল্যাংচা ব্যবসায়ীদের। উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকায় টান পড়েছে ঐতিহ্যে। এই পরিস্থিতিতে মিষ্টির দাম বাড়ানো হবে, না কি আকার ছোট করে দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে কার্যত দোটানায় ব্যবসায়ীমহল। ইরান-ইজ়রায়েল সংঘর্ষ ও তেল আমদানি নিয়ে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছিল জ্বালানিতে। সেই চাহিদা পূরণ করতে পেট্রলে ইথানল মেশানোর অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। ইথানল তৈরিতে প্রয়োজন চিনি। অন্য দিকে, রাজ্যে সে ভাবে চিনি উৎপান হয় না। অন্য রাজ্য থেকে আমদানি করতে হয়। সব মিলিয়ে অভিযোগ, জোগান কম হওয়ার জন্যই দাম বাড়ছে চিনির। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, সপ্তাহখানেক আগেও খোলা বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। তা বেড়ে হয়েছে ৭২ টাকা। এই কারণেই মাথায় হাত মিষ্টি ব্যবসায়ীদের। চিন্তিত শক্তিগড়ের ল্যাংচা ব্যবসায়ীরাও। এই মিষ্টি তৈরির প্রধান উপকরণ চিনি। এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘‘চিনির দাম অনেকটা বেড়ে যাওয়ার ফলে ল্যাংচা তৈরির খরচও বেড়ে গিয়েছে। দাম বাড়াব, নাকি মিষ্টির আকার ছোট করব তা বুঝে উঠতে পারছি না।’’ এক ক্রেতা বলেন, ‘‘এত দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের উপরেই চাপ পড়বে।’’ তিনি চান কোনও পরিস্থিতিতেই শক্তিগড়ের ল্যাংচার স্বাদ ও মান যেন না নষ্ট হয়। আর এক ক্রেতা বিশ্বজিৎ নন্দী বলেন, “আগের তুলনায় সব কিছুর দামই বেড়েছে। ল্যাংচার দাম বাড়লে ক্রেতাদের উপর বাড়তি চাপ পড়বে।’’ ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ ও ল্যাংচা হাবের সামনে উড়ালপুল তৈরি হওয়ায় মিষ্টি দোকানগুলির সামনে আগের মতো গাড়ি দাঁড়ানোর সুযোগ কমেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এর জেরে কমেছে ক্রেতার আনাগোনাও। মিষ্টি ব্যবসায়ী জর্নাদন ওঝার কথায়, “গ্যাস, চিনি-সহ সমস্ত কাঁচামালের দাম বাড়ছে। অন্য দিকে রাস্তার পরিস্থিতির কারণে আগের মতো গাড়ি দাঁড়াচ্ছে না। সব মিলিয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে ব্যবসা চালানো।




