Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বাংলায় থাকতে হলে বন্দে মাতরম্ গাইতেই হবে! ‘ভোটব্যাঙ্কের কাছে আপস নয়’, বিজেপির ১০ দফা প্রস্তাব

RK NEWZ বন্দে মাতরম নিয়ে বিতর্ক ক্রমশই বাড়ছে। জাতীয় রাজনীতির তর্কের বিষয় বাংলাতেও এসে আছ়ড়ে পড়ল। এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন, বাংলায় থাকতে হলে বন্দে মাতরম্ গাইতেই হবে। ভবানীপুরে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বন্দে মাতরমের ৬ টি স্তবকই গেয়েছেন। গানের দুটি স্তবক ছাড়া বাকিটা যখন অনেকেই জানেন না বা বলতে পারেন না। মুখ্যমন্ত্রী পুরো গানটি গাইলেন। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘পশ্চিমবঙ্গে থাকতে হলে বন্দে মাতরম্ গাইতেই হবে’। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শুভেন্দুর অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম্ বলতে দেওয়া হয় না, জাতীয় পতাকা তোলা হয় না এবং শিক্ষা দফতরকে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতেও বাধা দেওয়া হয়। শুভেন্দু বলেন, “যাদবপুরে জানেন বন্দে মাতরম্ বলতে দেওয়া হয় না? জাতীয় পতাকা ওঠে না? শিক্ষা দফতর বা সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে বাধা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে টুকরে টুকরে গ্যাং, জিহাদি গোষ্ঠী, ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’—এসব কথা যারা বলছে, তাদের মুখ সেলাই করার দায়িত্বটা আমাদের। যাদবপুর নিয়ে যাঁরা মিডিয়ায় কাঁদছেন, জেনে রাখুন, এই রাজ্যে থাকতে গেলে বন্দে মাতরম্ গাইতেই হবে।” সম্প্রতি কংগ্রেস জানিয়েছে, দলীয় অনুষ্ঠানে তারা সেই পুরনো সিদ্ধান্তই অনুসরণ করবে। অন্যদিকে বিজেপির অবস্থান, বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ ছ’টি স্তবকের সম্মান ও ঐতিহ্যের সঙ্গে কোনও আপস করা যাবে না। ফলে বিতর্কটি আর কেবল প্রথম দুই স্তবক বনাম সম্পূর্ণ ছ’টি স্তবকে সীমাবদ্ধ নেই। ধর্মীয় বিশ্বাস, সাহিত্যের ব্যাখ্যা, জাতীয়তাবাদ, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে।

প্রবীণ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর সম্প্রতি বলেছিলেন, প্রথম দুই স্তবকই সর্বধর্মের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য। গানের বাকি অংশে যেহেতু দুর্গা, কালী সহ দেব দেবীর প্রসঙ্গ রয়েছে, তাই যাঁরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করেন, তাঁদের অস্বস্তি হতে পারে। শর্মিলা এও বলেছিলেন, “ভারতের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হলে বন্দে মাতরমের প্রথম দু’টি স্তবকই অত্যন্ত উপযোগী।” সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে আবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শর্মিলার নাতি তৈমুর আলি খানের নাম টেনে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-রও প্রশ্ন, দেশপ্রেমের পাঠ কি বিজেপিকে শর্মিলা ঠাকুর বা কংগ্রেসের কাছ থেকে নিতে হবে? শমীক বলেন,“শর্মিলা ঠাকুর তাঁর ব্যক্তিগত মতামত বলতেই পারেন। কিন্তু যে আক্রমণকারী তৈমুর ভারতে এসে মন্দির ধ্বংস করেছিল, সাধারণ মানুষকে হত্যা ও ধর্মান্তরিত করেছিল, সেই একই নাম রয়েছে ওঁর নিজের বাড়িতেও। উনি নিজের নাতির নাম রেখেছেন তৈমুর আলি খান। তাই বন্দে মাতরম্ নিয়ে উনি যত কম কথা বলেন, ততই মঙ্গল।” সইফ আলি খান ও করিনা কাপুর খানের বড় ছেলে তথা শর্মিলার নাতির নাম তৈমুর।

প্রথম দুই স্তবক নিয়ে বিতর্ক?
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বন্দে মাতরম্ প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। গানটির প্রথম দুই স্তবকে সুজলা, সুফলা, শস্যশ্যামলা মাতৃভূমির সৌন্দর্যের বন্দনা করা হয়েছে। পরবর্তী স্তবকগুলিতে দেশমাতৃকাকে দুর্গা, কমলা বা লক্ষ্মী এবং বাণী বা সরস্বতীর রূপে কল্পনা করা হয়েছে। এই দেবী-অনুষঙ্গ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছেন কিছু ইসলামি এবং এক-ঈশ্বরবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি জাতীয় ও সর্বজনীন অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কংগ্রেসের দাবি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শ এবং মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ও মৌলানা আবুল কালাম আজাদের মতো নেতাদের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক, নাকি সম্পূর্ণ ছ’টি স্তবক—এই প্রশ্নে ফের জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র সংঘাত শুরু হল বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে। দলীয় অনুষ্ঠানে শুধু প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার পুরনো সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে কংগ্রেস। তার পাল্টা হিসেবে বন্দে মাতরমের ‘সম্পূর্ণ ঐতিহ্য’ রক্ষার দাবিতে ১০ দফা প্রস্তাব পাশ করল বিজেপি। বিজেপির জাতীয় পদাধিকারীদের বৈঠকে প্রস্তাবটি গৃহীত। বিজেপির বক্তব্য, সাম্প্রদায়িক চাপ, রাজনৈতিক তোষণ কিংবা সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে দেশের জাতীয় গানের মর্যাদা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। প্রস্তাবে মহাত্মা গান্ধীর বক্তব্যও তুলে ধরেছে বিজেপি। দলের দাবি, গান্ধীজি বন্দে মাতরমকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ধ্বনি এবং দেশের ‘বিশুদ্ধতম জাতীয় চেতনা’র প্রকাশ হিসেবে দেখেছিলেন। ১৯ আগস্ট কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, দলের অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবকই গাওয়া হবে। এর মাধ্যমে ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্তকেই পুনরায় অনুমোদন করা হয়েছে। কংগ্রেসের বক্তব্য, ১৯৩৭ সালের সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, সুভাষচন্দ্র বসু ও মৌলানা আবুল কালাম আজাদের মতো নেতারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শও বিবেচনা করা হয়েছিল। ১৯৩৭ সালের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে ১৯৫০ সালের সাংবিধানিক বন্দোবস্ত কিংবা ২০২৬ সালে সংসদে পাশ হওয়া আইনের উপরে স্থান দেওয়া যায় না। এই অবস্থান থেকেই ১০ দফা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে দল।

বিজেপির ১০ দফা প্রস্তাব?
১. কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা
১৯ আগস্ট কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত পুনর্বহাল করে দলীয় অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার কথা বলেছে। বিজেপি সেই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা এবং দ্ব্যর্থহীন বিরোধিতা করেছে।

২. সম্পূর্ণ বন্দে মাতরমের মর্যাদা রক্ষা
বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ রচনাকে দেশের জাতীয় চেতনা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের অমর প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। দলের মতে, সম্পূর্ণ গানটির সম্মান, ঐতিহ্য ও জাতীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা প্রয়োজন।

৩. সাংবিধানিক ও আইনি মর্যাদার দাবি
বিজেপির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১৯৫০ সালে গণপরিষদের ঘোষণার মাধ্যমে বন্দে মাতরমের জাতীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৬ সালে সংসদে আইনি সংশোধনের মাধ্যমে জাতীয় সঙ্গীতের সমতুল্য সংরক্ষণ জাতীয় গানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়েছে বলে দাবি করেছে দল। তবে সংবিধানের কোনও অনুচ্ছেদে বন্দে মাতরমকে সরাসরি ‘জাতীয় গান’ হিসেবে ঘোষণা করা নেই। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদের সভাপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ বন্দে মাতরমের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও জাতীয় মর্যাদা সম্পর্কে ঘোষণা করেছিলেন। বিজেপি সেই ঘোষণাকেই তার প্রস্তাবে সাংবিধানিক বন্দোবস্তের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।

৪. ‘তোষণ’ ও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান
সাম্প্রদায়িক চাপ, রাজনৈতিক তোষণ কিংবা সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্কের বিবেচনায় জাতীয় গানের মর্যাদাকে খাটো করার যে কোনও চেষ্টার বিরোধিতা করবে বিজেপি। দলের বক্তব্য, জাতীয় প্রতীক নিয়ে কোনও রাজনৈতিক দলের সুবিধা বা অসুবিধার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

৫. কংগ্রেসের প্রস্তাব আইনের ঊর্ধ্বে নয়
বিজেপির মতে, কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির কোনও সিদ্ধান্ত দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কিংবা সংসদে পাশ হওয়া আইনকে অগ্রাহ্য করতে পারে না। দলের দাবি, ১৯৩৭ সালের একটি রাজনৈতিক সমঝোতাকে ১৯৫০ সালের জাতীয় বন্দোবস্ত এবং ২০২৬ সালের সংসদীয় আইনের উপরে তুলে ধরা গ্রহণযোগ্য নয়।

৬. মুসলিম লিগের আপত্তির ইতিহাস সামনে আনা
বন্দে মাতরমের পরবর্তী স্তবক নিয়ে মুসলিম লিগের আপত্তি এবং সেই সময়ের সাম্প্রদায়িক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী রাজনীতির প্রেক্ষাপট দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরবে বিজেপি। কী পরিস্থিতিতে বন্দে মাতরমকে প্রথম দুই স্তবকের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন। কংগ্রেসের বক্তব্য, সিদ্ধান্তটি কোনও একটি সংগঠনের চাপের কারণে নেওয়া হয়নি। বহু ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের জন্য একটি সর্বজনগ্রাহ্য জাতীয় অংশ চিহ্নিত করাই ছিল তার উদ্দেশ্য।

৭. গান্ধীর বক্তব্য প্রচার
বিজেপির ১০ দফা প্রস্তাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ মহাত্মা গান্ধীর বক্তব্য। দলের দাবি, গান্ধীজি বন্দে মাতরমকে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ধ্বনি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তিনি গানটিকে ‘বিশুদ্ধতম জাতীয় চেতনা’র সঙ্গেও যুক্ত করেছিলেন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজেপির যুক্তি, নির্দিষ্ট কোনও স্তবকের সাহিত্যিক বা ধর্মীয় অনুষঙ্গের ঊর্ধ্বে বন্দে মাতরমের একটি বৃহত্তর জাতীয় ও ঐতিহাসিক পরিচয় রয়েছে।

৮. দেশজুড়ে প্রচারে নামবেন বিজেপি কর্মীরা
বন্দে মাতরমের ইতিহাস, অর্থ, স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা এবং জাতীয় গুরুত্ব প্রচার করতে দেশজুড়ে অভিযান চালাবে বিজেপি। দলের কর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সভা, আলোচনা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে বন্দে মাতরমের ঐতিহ্য তুলে ধরবেন। বিজেপির আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইটেও জাতীয় পদাধিকারীদের বৈঠকে এই প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

৯. তরুণ প্রজন্মকে সম্পূর্ণ গান শেখানো
তরুণ প্রজন্ম যাতে বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ ছ’টি স্তবক এবং তার ইতিহাস ভুলে না যায়, তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তুলতে বন্দে মাতরমের ভূমিকা সম্পর্কে স্কুল-কলেজের পড়ুয়া ও তরুণদের সচেতন করতে চায় বিজেপি।

১০. রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কোনও আপস নয়
প্রস্তাবের শেষ দফায় বিজেপি জানিয়েছে, রাজনৈতিক সুবিধা বা তোষণের স্বার্থে বন্দে মাতরমের সম্মান ও ঐতিহ্যের সঙ্গে কোনও আপস মানা হবে না। দলের মতে, এটি কেবল একটি গান নিয়ে বিতর্ক নয়। এর সঙ্গে স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতি এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে।

গান্ধীকে সামনে রেখে কংগ্রেসকে জবাব কেন?
বন্দে মাতরমের প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে কংগ্রেস ১৯৩৭ সালের নেতৃত্ব এবং মহাত্মা গান্ধীর উপস্থিতির কথা তুলে ধরেছে। সেই যুক্তির পাল্টা দিতেই গান্ধীর বন্দে মাতরম-সংক্রান্ত ইতিবাচক মূল্যায়নকে সামনে এনেছে বিজেপি। দলের বক্তব্য, গান্ধীজি গানটিকে কেবল সাহিত্যিক বা ধর্মীয় রচনা হিসেবে দেখেননি। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদের ধ্বনি হিসেবেও দেখেছিলেন। অর্থাৎ, বন্দে মাতরমের ব্যাখ্যা নিয়ে দুই দলই এখন গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসকে নিজেদের যুক্তির পক্ষে ব্যবহার করছে।

কংগ্রেসের দাবি, বন্দে মাতরমের প্রতি তাদের আবেগ বা সম্মানে কোনও ঘাটতি নেই। প্রথম দুই স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন নয়। ১৯৩৭ সালে দেশের বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষকে সঙ্গে রাখার উদ্দেশ্যেই সেই নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালের বক্তব্য, বন্দে মাতরম ও জাতীয় সঙ্গীত কংগ্রেসের কাছে আবেগের বিষয়। বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিতর্কটি তৈরি করছে। জয়রাম রমেশও জানিয়েছেন, ১৯৩৭ সালের ২৮ অক্টোবর কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাব অনুসরণ করেই দল প্রথম দুই স্তবক গাইবে। রবীন্দ্রনাথের পরামর্শে সেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।

১০ দফা প্রস্তাব পাশ করার পর বন্দে মাতরম নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রচারে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে সম্পূর্ণ ছ’টি স্তবকের ইতিহাস পৌঁছে দিতে চাইছে দল। ফলে বন্দে মাতরমের কতটি স্তবক গাওয়া হবে, তা আর শুধু সাংস্কৃতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকছে না। জাতীয় প্রতীক, ধর্মীয় বহুত্ব, স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস এবং ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি—সব মিলিয়ে বিষয়টি বিজেপি বনাম কংগ্রেসের নতুন রাজনৈতিক সংঘাত তুঙ্গে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles