RK NEWZ সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূলই সাধারণ মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। আশ্বাস দেন, কোনও ‘যোগ্যই’ বঞ্চিত হবেন না। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা থেকে কোনও ‘যোগ্য’ মহিলা বঞ্চিত হবেন না। শনিবার তা ফের এক বার জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে বিরোধী শিবির এবং সমালোচকদেরও বুঝিয়ে দিলেন, ‘ধমকে চমকে’ কোনও লাভ হবে না। মাসিক তিন হাজার টাকার মহিলা ভাতা ঘিরে সম্প্রতি রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। পথ অবরোধ হয়েছে। রেললাইন অবরোধ করেও বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভাকারীদের দাবি, তাঁদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা আসছে না। এ অবস্থায় শনিবার নিজ বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আশ্বাস দিলেন, এক জনও ‘যোগ্য’ মহিলা ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন না। শুভেন্দু ঘোষণা করেন, আগস্ট মাসে রাজ্যের ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। আশ্বাস দেন, আরও যদি ২০-৩০ লক্ষ প্রকৃত দাবিদার থাকেন— তাঁদেরও ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর রাজ্য জুড়ে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ পালিত হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি। ভবানীপুরের সুভাষ উদ্যানে এক কর্মসূচিতে বক্তৃতা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মূলত অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের নিয়েই ওই কর্মসূচি ছিল। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিজ বিধানসভা এলাকা প্রসঙ্গে বলেন, “ভবানীপুরে এই মাসে প্রায় ১৪,৫০০-র বেশি মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। দফতর থেকে আমাকে বলা হয়েছে, আরও প্রায় আড়াই হাজারের নাম অনুমোদিত হয়েছে। তাঁদের অ্যাকাউন্টে প্রত্যেক মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ সরকার টাকা পাঠাবে।”
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অগস্ট মাসে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলাকে ভাতার টাকা দেওয়া হয়েছে। সরকার যে নবীন সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। জুন মাস থেকে কী ভাবে ধাপে ধাপে অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, জুন মাসে উপভোক্তা ছিলেন ২৮ লক্ষ। জুলাইয়ে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১ কোটি ১৯ লক্ষ। অগস্টে তা আরও বেড়ে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ হয়েছে। আশ্বাস দেন, যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার ‘প্রকৃত হকদার’, যাঁরা প্রকৃত অর্থেই এই ‘সামান্য, অল্প ভাতার’ উপর নির্ভর করেন— তাঁদের কথা বিবেচনা করবে সরকার। তিনি বলেন, “যাঁরা প্রকৃত হকদার, এমন আরও যদি ২০-৩০ লক্ষের দরকার হয়, আমি সেটা দেওয়ার ব্যবস্থা করব।” রাজ্যের মহিলাদের আশ্বস্ত করার পরেই সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চান, সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এ সব বিক্ষোভ করাচ্ছে তৃণমূলই। রাজ্যের পূর্বতন শাসকদল যে বর্তমানে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে, তা-ও স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ধমক-চমক দিয়ে, রিল বানিয়ে, আর মিডিয়া ট্রায়াল করে, ২০ জন লোককে রাস্তায় নামিয়ে হেরে যাওয়া তৃণমূল, খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যাওয়া… আপনাদের এ সব কোনও বুদ্ধি চলবে না।”
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সমাজমাধ্যমে একাংশ ‘বড় বড় কথা’ বলছেন। তা দেখে সাধারণ মহিলাদের ‘বিচলিত না হওয়ার’ পরামর্শ দেন তিনি। পূর্বতন সরকারের কথা স্মরণ করিয়ে শুভেন্দু বলেন, “২০২১ সালে মাত্র ৫০০ টাকা দিতে কত দিন লাগিয়ে দিয়েছিল? ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের দু’মাস আগে তা হয়েছিল ১০০০ টাকা। বিধানসভা ভোটের তিন মাস আগে তা হয়েছিল ১৫০০ টাকা।” তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে বেছে বেছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বঞ্চিত করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে যে সব এলাকায় বিজেপি জিতেছিল, সেখানকার মহিলাদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। এ অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, “যাঁরা বিজেপি করার জন্য বিগত সরকারের আমলে বঞ্চিত হয়েছেন, এই সরকার তাঁদের অগ্রাধিকার দেবে। যাঁরা আর্থিক ভাবে দুর্বল, তাঁদের অগ্রাধিকার দেবে।” সাম্প্রতিক বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওই ২০-২৫ বা ৫০ জনকে জড়ো করে, মিডিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে লেকচার দিলে… শুভেন্দু অধিকারী মাথা নত করার লোক নয়।”
বস্তুত, এ বারের নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল অন্নপূর্ণা যোজনা। এই মহিলা ভাতায় মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সেই মহিলা ভাতা চালুও করে দিয়েছে শুভেন্দুর সরকার। তবে কারা ভাতার সুবিধা পাবেন, কারা পাবেন না— তা নিয়ে একগুচ্ছ শর্ত ঘোষণা করেছে সরকার। তা নিয়ে সাধারণ জনতার একাংশের মধ্যে ক্ষোভও দানা বেঁধেছে। এ অবস্থায় রাজ্যের মহিলাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী এ-ও জানান, শুধু ভাতা নয়, সর্বস্তরে ব্যাপক উন্নয়নের জন্যই মানুষ বিজেপি-কে সরকারে এনেছে। ‘যোগ্যেরা’ কেউ বঞ্চিত হবেন না বলেও আশ্বাস দেন তিনি। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর রাজ্য জুড়ে অন্নপূর্ণা দিবস পালন করা হবে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী মোদীর জন্মদিন। শুভেন্দু ঘোষণা করেন, “আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অন্নপূর্ণা দিবস পালন করব। আমি কলকাতায় ১ লক্ষ অন্নপূর্ণাকে নিয়ে সভা করব। মোদীজির জন্মদিন পালন করব।”



