Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশালের হাতে জয় মোহনবাগানের!‌ রবিবার ডুরান্ড ফাইনালে কলকাতা ডার্বি!

মোহনবাগান ০ নর্থইস্ট ইউনাইটেড ০
(টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয়ী মোহনবাগান)

RK NEWZ বিশালের চওড়া হাত আবারও পরিত্রাতা মোহনবাগানের। দু-দু’টি পেনাল্টি বাঁচিয়ে সবুজ-মেরুনের নয়নের মণি তিনি। তিন বছর পর আবার ডুরান্ড কাপের ফাইনালে কলকাতা ডার্বি। বৃহস্পতিবার নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে টাইব্রেকারে ৪-৩ হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেল মোহনবাগান। রবিবার যুবভারতীতে তাদের সামনে ইস্টবেঙ্গল। দিমিত্রি পেত্রাতোসের গোলে তিন বছর আগে মোহনবাগান ট্রফি জিতেছিল ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে। এ বার লাল-হলুদের সামনে বদলা নেওয়ার সুযোগ। মোহনবাগান জবাব দিল নর্থইস্টকেও। দু’বছর আগে নর্থইস্টের কাছে টাইব্রেকারে হেরেই শেষ হয়ে গিয়েছিল টানা দু’বার ডুরান্ড জেতার স্বপ্ন। শিলংয়ে নর্থইস্ট সমর্থকদের চিৎকারের সামনেই ম্যাচ জিতল তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে জামশেদপুরের বিরুদ্ধেও একটি শট বাঁচিয়ে নায়ক হয়েছিলেন বিশাল কাইথ। এ দিন তিনি পর পর দু’টি শট বাঁচালেন। তাঁর হাতেই ফাইনালে মোহনবাগান। ডুরান্ডে ১৭ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহনবাগান। এক বার কম ট্রফি জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। টাইব্রেকারে নর্থইস্টের হয়ে প্রথম শট মারতে এগিয়ে আসেন নিনকোভিচ। তিনি গোল করে ১-০ এগিয়ে দেন। সমতা ফেরান রাহুল ভেকে। নর্থইস্টকে ২-১ এগিয়ে দেন আলাদিন। তাঁর শট বিশাল কাইথের হাতে লেগে গোলে ঢোকে। শুভাশিস বসু গোল করে ২-২ করেন। নর্থইস্টকে ৩-২ এগিয়ে দেন এথিয়েন। ৩-৩ করেন লিস্টন। চতুর্থ প্রয়াসে রবিন যাদবের শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন বিশাল। চতুর্থ শটে গোল করে মোহনবাগানকে ৪-৩ এগিয়ে দেন জেমি ম্যাকলারেন। পার্থিব গগৈয়ের শট বিশাল বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচাতেই মোহনবাগানের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। ম্যাচের আগে ভালই বৃষ্টি হয় শিলংয়ে। ফলে দেখা না গেলেও মাঠের জায়গায় জায়গায় জমে ছিল জল। ঘাসের নীচেও জল ছিল। এ ধরনের মাঠে পাসিং ফুটবল খেলা ছিল অসম্ভব। ফলে শুরু থেকে দু’দলেরই খেলতে অসুবিধা হয়। প্রথম একাদশে আলবের্তো রদ্রিগেজ় এবং সামির জেলকোভিচ, এই দুই বিদেশিকে নামিয়েছিলেন মোহনবাগান কোচ পানাজিয়োটিস দিমপেরিস। দেজান দ্রাজিচের চোট থাকায় এ দিন শুরু করেন কিয়ান নাসিরি। শুরুতেই একটি সুযোগ পায় নর্থইস্ট। তবে জিতিন এমএসের ক্রস এতই দুর্বল ছিল যে কোনও সতীর্থ ধরতে পারেননি। মোহনবাগানের সাহাল সামাদও একটি ফ্রিকিক কাজে লাগাতে পারেননি। ১০ মিনিটের মাথায় আলবের্তোর থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে উঠেছিলেন নাসিরি। কিন্তু লিস্টন কোলাসোর কাছে ক্রস পৌঁছনোর আগেই বাধা দেন নর্থইস্টের মহম্মদ রাবিহ। মোহনবাগান বল বেশি নিয়ন্ত্রণে রাখলেও সুযোগ তৈরির ব্যাপারে নর্থইস্ট এগিয়ে ছিল। মাঝে ম্যাকার্টন এবং অভিষেকের মধ্যে কিছু ক্ষণ ঝামেলা হয়। নর্থইস্টের নিকসনকে দেখা যায় মোহনবাগানের এক ফুটবলারকে ধাক্কা দিতে। দুই দলের ফুটবলারেরাই জড়ো হয়ে যান। তবে ঝামেলা বাড়ার আগে পরিস্থিতি শান্ত করেন রেফারি। কাউকে কার্ড দেখাননি। ৩৬ মিনিটের মাথায় সামির বল নিয়ে নর্থইস্টের দু’জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর পাস সতীর্থের কাছে পৌঁছনোর আগেই মাঠে আটকে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম সুযোগ তৈরি করে নর্থইস্ট। আলাদিনের ক্রস বারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। দু’মিনিট পরেই সামিরের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৬৩ মিনিটে ভাল একটি সুযোগ নষ্ট করে নর্থইস্ট। ডান প্রান্ত থেকে একটি বল ভেসে এসেছিল। কিন্তু আলাদিন বা এথিয়ান কেউই বলের কাছে পৌঁছতে পারেননি। আরও দু’টি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি নর্থইস্ট। গোল আসছে না দেখে ৭১ মিনিটে সামিরের জায়গায় মিগুয়েল ফেরেরা এবং ৮০ মিনিটে মনবীর সিংহের জায়গায় লালিয়ানজুয়ালা ছাংতেকে নামিয়ে দেন দিমপেরিস। ৮৬ মিনিটে আরও একটি ভাল সুযোগ নষ্ট করে নর্থইস্ট। এ বারও ডানপ্রান্ত থেকে বল পেয়েছিলেন ম্যাকার্টন। ঘুরে মোহনবাগানের গোলে শট মারেন। পোস্টের পাশে দিয়ে তাঁর শট বেরিয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ে আর কোনও দলই গোল করতে পারেনি। গত দু’বারের চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্টকে হারিয়ে ১৮তম ডুরান্ড কাপ জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেল মোহনবাগান। ফাইনালে সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল। অর্থাৎ ডুরান্ড কাপের মঞ্চে ফের কলকাতা ডার্বি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles