RK NEWZ কলকাতা পুরসভার বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৮টি ওয়ার্ডকে ভেঙে ১২৩টি নতুন ওয়ার্ড করা হচ্ছে। বাকি ৮৬টি ওয়ার্ড সরাসরি ভাঙা না হলেও পুনর্বিন্যাসের কারণে সেগুলির আয়তন, সীমানা এবং ক্রমিক সংখ্যায় পরিবর্তন হবে। অর্থাৎ, পুরনো ওয়ার্ডের কাঠামো সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত থাকছে না। কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৪৪টি ওয়ার্ড ভেঙে ২০৯টি ওয়ার্ড করার সংশোধনী বিল ইতিমধ্যেই বিধানসভায় পাস হয়েছে। এখন রাজ্যপালের স্বাক্ষরের অপেক্ষা। স্বাক্ষর হয়ে গেলেই সংশোধিত আইন কার্যকর করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। এর পর গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ২০৯টি ওয়ার্ডের সীমানা-সহ চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ করবে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। সেই খসড়া প্রকাশের পর নাগরিক এবং রাজনৈতিক দলগুলির কাছ থেকে মতামত জানতে চাওয়া হবে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫৮টি ওয়ার্ডকে ভেঙে ১২৩টি নতুন ওয়ার্ড করা হচ্ছে। বাকি ৮৬টি ওয়ার্ড সরাসরি ভাঙা না হলেও পুনর্বিন্যাসের কারণে সেগুলির আয়তন, সীমানা এবং ক্রমিক সংখ্যায় পরিবর্তন আসবে। অর্থাৎ, পুরনো ওয়ার্ডের কাঠামো সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত থাকছে না। যে ওয়ার্ডগুলিতে বড় ধরনের পরিবর্তন বা বিভাজন হতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে ১, ৩, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৪, ১৮, ২৩, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪৪, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫১, ৫৪, ৫৫, ৫৭, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৫, ৬৬, ৬৮, ৬৯, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৫, ৭৭, ৭৮, ৭৯, ৮১, ৮২, ৮৩, ৮৪, ৮৮, ৮৯, ৯০, ৯২, ৯৪, ৯৯, ১০০, ১০১, ১০২, ১০৩, ১০৪, ১০৬, ১০৭, ১০৮, ১০৯, ১১১, ১১২, ১১৩, ১১৪, ১১৫, ১১৬, ১২১, ১২২, ১২৩, ১২৪, ১২৫, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৪, ১৩৫, ১৩৬, ১৩৭, ১৩৮ এবং ১৪১। পুর প্রশাসনের কর্তাদের মতে, এই পুনর্বিন্যাসের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল ওয়ার্ডগুলির মধ্যে জনসংখ্যা ও ভোটারের সংখ্যায় ভারসাম্য আনা। কলকাতা পুরসভার বেশ কিছু ওয়ার্ডে তুলনামূলক ভাবে বিপুল সংখ্যক ভোটার রয়েছেন। সেই ওয়ার্ডগুলি ভাগ হয়ে গেলে প্রতিটি ওয়ার্ডের আয়তন ও ভোটারসংখ্যা কমবে। ফলে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়ার্ডগুলির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে পুর পরিষেবা ব্যবস্থাপনাতেও। বর্তমানে বড় আয়তনের ওয়ার্ডগুলিতে পুরকর্মী ও আধিকারিকদের উপর পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার অতিরিক্ত চাপ থাকে। ওয়ার্ড ছোট হলে, সেই চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। নাগরিক পরিষেবা আরও দ্রুত এবং সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে।
নতুন ডিলিমিটেশন নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। কোন পুরনো ওয়ার্ড ভেঙে কতগুলি নতুন ওয়ার্ড তৈরি হচ্ছে, পুরনো ওয়ার্ডের সাপেক্ষে নতুন ওয়ার্ডগুলির ক্রমিক নম্বর কী হবে, কোন ওয়ার্ডে কতগুলি পার্ট বা বুথ থাকবে— এসব তথ্য নতুন খসড়াতেই স্পষ্ট হবে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এর পর ২০৯টি ওয়ার্ডের সীমানা উল্লেখ করে নতুন খসড়া প্রকাশ করা হবে। সেই খসড়ার উপর আপত্তি ও মতামত জানানোর সুযোগ পাবেন নাগরিক এবং রাজনৈতিক দলগুলি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মূলত ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতেই ডিলিমিটেশনের কাজ করা হচ্ছে। ওয়ার্ড বিভাজনের প্রাথমিক পর্যায়ে ইংরেজি অক্ষর— ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ইত্যাদি— ব্যবহার করে পৃথক অংশ চিহ্নিত করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিটি ওয়ার্ডকে নতুন ক্রমিক নম্বর দেওয়া হয়েছে।



