RK NEWZশ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারে শিবের মাথায় জল ঢালতে গিয়ে মন্দিরেই পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু ৭ পুণ্যার্থীর। গুরুতর জখম বেশ কয়েকজন। বিহারের লখিরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে গিয়েছিলেন পুণ্যার্থীরা। সোমবার সকাল ৭ নাগাদ ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটে মন্দিরে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মন্দির চত্বরে একটি বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে আছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন পুণ্যার্থীরা। মন্দিরে অত্যাধিক ভিড়ের মধ্যে এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন তাঁরা। যার জেরে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ধাক্কাধাক্কিতে বেশ কয়েকজন পড়ে যান। ভিড়ের চাপে উঠতে না পেরে পদপিষ্ট হয়েই মৃত্যু হয় সাতজনের। বিহারের লাখিসরাইয়ের জেলাশাসক শৈলেন্দ্র কুমার জানান, “সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টার মধ্যে দুটি ট্রেন এসে পৌঁছানোর ফলে পুণ্যার্থীদের মারাত্মক ভিড় তৈরি হয়। যার জেরে মন্দিরের বাইরের ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে। ভিড় সামলানোর জন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তারপরেও মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ের চাপে একদিকের ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে।” বিহারের মন্দিরে চরম পরিণতি। বিহারের লখিরাইয়ের অশোকধাম মন্দিরে গিয়েছিলেন পুণ্যার্থীরা। বিহারের প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে একটি বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গিয়েছিল, এর ফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। তারপরেই বিশৃঙ্খলা পরিস্থিততে এমন দুর্ঘটনা ঘটে। সাতজনের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এখনও পর্যন্ত। তবে কী ঘটনার ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত ও যাচাইয়ের পরেই নিশ্চিতভাবে জানানো হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।ঘটনা ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ বলে এক্স হ্যান্ডেলে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী লেখেন, ‘আহতদের যথাযথ ও দ্রুত চিকিৎসার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ ঘটনার পর পুলিশ উদ্ধারকাজ শুরু করে। জখম পুণ্যার্থীদের চিকিৎসার জন্য লখিসরাই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও মৃতের সংখ্যা জানানো হয়নি। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় মন্দিরে হুড়োহুড়ি, পদপিষ্ট হয়ে বিহারে অন্তত সাত পুণ্যার্থীর মৃত্যু! আহত বেশ কয়েক জন। জখম পুণ্যার্থীদের ইতিমধ্যেই লখিসরাই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও জানায়নি লখিসরাই জেলা প্রশাসন। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লখিসরাইয়ের জেলাশাসক শৈলেন্দ্র কুমার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টার মধ্যে পর পর দু’টি ট্রেন পুণ্যার্থীদের নিয়ে মন্দিরের নিকটবর্তী স্টেশনে পৌঁছোয়। তাই মন্দির চত্বরে ভিড় আরও বেড়ে যায়। তাঁর কথায়, “সাত জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বলা হচ্ছে যে, বিদ্যুতের একটি খুঁটি পড়ে যাওয়ায় মন্দিরের ভিতর কয়েকজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। আর তার জেরেই এই পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা। তবে সব কিছু খতিয়ে দেখার পরেই আমরা আপনাদের আসল কারণ জানাতে পারব।” জেলাশাসক এ-ও জানিয়েছেন যে, ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কিন্তু হুড়োহুড়িতে একদিকের ব্যারিকেড ভেঙে যায়। একে অপরের গায়ে পড়ে যান পুণ্যার্থীরা। বেশ কয়েকজনকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করা গেলেও ভিড়ের চাপে সবাইকে বার করে আনা সম্ভব হয়নি। লখিসরাইয়ের অশোকধাম মন্দির ইন্দ্রদমনেশ্বর মন্দির নামেও পরিচিত। জেলার অন্যতম বিখ্যাত শিবমন্দির। ইন্দ্রদমনেশ্বরের মন্দির ছাড়াও সেখানে রয়েছে পার্বতী, নন্দী এবং দুর্গার মন্দির। সারা বছর জুড়েই এই মন্দিরে ভক্তদের ভিড় হয়। তবে শ্রাবণমাসে, বিশেষত সোমবারে এবং শিবরাত্রির দিন ভিড় আরও বাড়ে। গত মার্চ মাসে বিহারের নালন্দায় শীতলামাতা মন্দিরে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে আট জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হন ১২ জন। সেই ঘটনার পর পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল বিহারের আর এক মন্দিরে।




