Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বাংলায় বিজেপি সরকারের মঙ্গলেই ১০০ দিন! নির্বাচনী ‘সঙ্কল্পপত্রে’ বিজেপির প্রতিশ্রুতি মতোই কাজ?‌

RK NEWZ রাজ্যের নতুন সরকার ১০০ দিন পূর্ণ মঙ্গলবার। ক্ষমতায় আসার তিন মাস অতিক্রান্ত ভারতীয় জনতা পার্টির। প্রথম ১০০ দিনে যে যে উল্লেখযোগ্য কাজ সম্পন্ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার কাজ সাধারণ জনপরিসরে সর্বাধিক চর্চিত। বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতের দফতরের কাজ নিয়ে গোড়া থেকেই আলোচনা তুঙ্গে। ভূমি ও ভূমিসংস্কার দফতর। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকা স্বাধীনতা তথা দেশভাগের সুদীর্ঘ বছর পরেও উন্মুক্ত পড়ে ছিল। ছিল না কাঁটাতারের বেড়া। ফলে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ পশ্চিমবঙ্গে বড় সমস্যা হয়ে উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি বিএসএফ-কে দিচ্ছে না এবং তার ফলে রাজ্যের নানা প্রান্তে জনবিন্যাস ক্রমশ বদলে যাচ্ছে। বিজেপি লাগাতার এমনটাই অভিযোগ করছিল। উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে বলেও দাবি ছিল। নির্বাচনী ‘সঙ্কল্পপত্রে’ বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গড়লেই সীমান্তে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া লাগিয়ে সীমান্ত সুরক্ষিত করা। এ ক্ষেত্রে যেমন কথা, প্রায় তেমনই কাজ। বেড়াহীন সীমান্তের অধিকাংশেই বিএসএফ-কে রাজ্য সরকার জমি দিয়ে দিয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীও উল্লেখযোগ্য দ্রুততায় বেড়া দেওয়ার কাজ শেষ করেছে বিরাট এলাকায়। ভূমি ও ভূমিরাজস্ব দফতরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের ন’টি সীমান্তবর্তী জেলায় ইতিমধ্যেই ৭৬৭ একরের বেশি জমি বিএসএফ-কে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রায় ৩৬২ একর জমি হস্তান্তরে মন্ত্রিসভা অনুমোদন সম্ভব হয়েছে। ফলে বিএসএফ-কে দেওয়া জমির পরিমাণ ১১০০ একর অতিক্রান্ত। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থেই দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ৪৪ একরের বেশি জমি দেওয়া হয়েছে সশস্ত্র সীমা বলকে অর্থাৎ এসএসবি-‌কে। দার্জিলিঙে আইটিবিপি-র ব্যাটালিয়নের সদর দফতর তৈরির জন্য দেওয়া হয়েছে আরও ১১০ একর জমি। ভূমি ও ভূমিসংস্কার দফতর উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও। সেবক-রংপো ব্রডগেজ রেল প্রকল্পের জন্য রেলকে ২০ একর জমি দিয়েছে রাজ্য সরকার। পশ্চিম মেদিনীপুরে ১০০ শয্যার ইএসআই হাসপাতাল তৈরির জন্য প্রায় ৬ একর জমি দেওয়া ছাড়াও সরকারি গুদাম তৈরির জন্য, বিদ্যুতের সাবস্টেশন তৈরির জন্য, অন্যান্য পরিকাঠামোর জন্যও জমি জোগানোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন। দু’বছর ধরে আটকে থাকা চিংড়িঘাটা মোড়ে মেট্রো লাইনের কাজ প্রায় সম্পন্ন। ১২০ ঘণ্টার জন্য ওই মোড়ে যান চলাচল বন্ধ রাখলেই চিংড়িঘাটা মোড়ের উপরের অংশ ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ সেরে ফেলা যাবে বলে নির্মাতা সংস্থা রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড অর্থাৎ আরভিএনএল জানিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও চিংড়িঘাটা মোড়ে কয়েক দিনের জন্য যান চলাচল বন্ধ করতে রাজি হননি মমতা। শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হয়েই রাজ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন আরভিএনএল-এর সঙ্গে সহযোগিতার করার জন্য। মে মাসের দু’টি সপ্তাহান্তে চিংড়িঘাটা মোড়ে দু’ফায় যান চলাচল বন্ধ রেখেই ভায়াডাক্ট বসানোর কাজ শেষ করা হয়। রাজ্য সরকারের বয়স তিনমাস পেরোনোর আগেই চিংড়িঘাটার দু’দিকের দুই স্টেশন বেলেঘাটা এবং গৌরকিশোর ঘোষের মাঝে রেলসংযোগের কাজ সম্পন্ন করে আরভিএনএল।

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই খুলে গিয়েছে বেশ কিছু বন্ধ চটকল। রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিংহের ভূমিকা প্রশংসিত। শ্রম দফতরের হিসাব অনুযায়ী, বিগত ১০০ দিনে হুগলি নদীর দু’পারে ১৬টি বন্ধ চটকল ফের খোলা হয়েছে। ৩৫ হাজারেরও বেশি শ্রমিকের রুটিরুজি নিশ্চিত হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি। অর্জুনের হাতে থাকা পরিবহণ দফতরও অনেকেরই প্রশংসনীয়। ‘সঙ্কল্পপত্রে’ দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত। তৃণমূল জমানায় রাজ্যের রাস্তাঘাট থেকে সরকারি বাস প্রায় উধাও হয়ে গিয়েছিল, সে পরিস্থিতি কাটাতেও অর্জুন তৎপর। বেশ কিছু রুটে নতুন সরকারি বাস রাস্তায় নেমেছে। তবে সে সংখ্যা এখনও পর্যাপ্ত নয়। গণপরিবহণ ব্যবস্থার হাল ফেরাতে সরকারি বাস আরও অনেক বেশি সংখ্যায় রাস্তায় নামাতে হবে বলে রাজ্যের শাসকদলের নেতারাই বলছেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিমতো ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ও চালু করেছে শুভেন্দুর সরকার। মহিলারা সে প্রকল্পে এখন ৩০০০ টাকা করেই পেলেও এই প্রকল্প নিয়ে ঈষৎ সমালোচনাও শোনা যাচ্ছে। তৃণমূল জমানায় ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে মাসে ১৫০০ টাকা মহিলা ভাতাপ্রাপকের সংখ্যা এখনকার চেয়ে বেশি ছিল। সে ভাতার জন্য আবেদনের প্রক্রিয়াও সরল ছিল। ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ র জন্য ১২-১৩ পাতার ফর্ম পূরণ করা নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ। রাজ্য সরকারের যুক্তি, তৃণমূল জমানায় ভুয়ো পরিচয় দেখিয়ে অনেকেই অন্যায্য ভাবে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর সুবিধা নিতেন। সেই ভুয়ো এবং অন্যায্য প্রাপকদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দিতেই বড় ফর্ম পূরণ করাতে হয়েছে। কিন্তু সেই ফর্ম পূরণের পরেও অনেক ন্যায্য দাবিদার ভাতা থেকে এখনও বঞ্চিত বলেও অভিযোগ। রাজ্য সরকার এবং শাসকদলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ন্যায্য দাবিদারেদরও ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পের সুবিধা পাইতে দিতে সরকার সচেষ্ট। অল্প সময়েই সমস্যা মিটে যাবে বলে সরকারের আশ্বাস। তবে, ভাতা হাতে না-পাওয়া পর্যন্ত অনেকে সে আশ্বাসে ভরসা রাখতে নারাজ। নিখরচায় চিকিৎসার জন্য আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প, কৃষকদের আর্থিক অনুদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি প্রকল্প, শিল্পী ও কারিগরদের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা, বিদ্যুৎ বিলে সাশ্রয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনার আওতায় ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসিয়ে দেওয়ার প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছে রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভা। কিসান সম্মান নিধি রাজ্যকে এড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকার আগেই চালু করেছিল। নতুন সরকার এসে আরও বেশি প্রাপককে সেই প্রকল্পেরও আওতায় এনেছে। অন্য প্রকল্পগুলি এ রাজ্যে এত দিন চালু হতে দেওয়া হয়নি। নতুন সরকার এসেই এই প্রকল্পগুলি রূপায়ণের জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে দ্রুত ‘মউ’ স্বাক্ষর করেছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিনেই রাজ্যে এত দিন চালু না-থাকা একের পর এক কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হতে শুরু করেছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় শেষপর্যন্ত কত পরিবার ঠাঁই পায়, সূর্যঘর যোজনা শেষপর্যন্ত কত বাড়িতে পৌঁছোয়, তা দেখার। তবে কেন্দ্র ও রাজ্য যেহেতু এখন একই দলের সরকার, তাই এ সব প্রকল্পের দ্রুত প্রসারে খুব একটা সমস্যা হবে না বলে শাসকদলের আশা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টিও নানা মঞ্চ থেকে ইতিমধ্যেই উল্লেখ করেছেন। রাজ্যে আইনের শাসন বলবৎ হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন। কোথাও বিজেপিকর্মীদের বিরুদ্ধে যদি বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে, তা হলেও আইন নিজের পথেই চলবে বলে মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যেই সতর্কবার্তা দেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় সমালোচনা শুরুর অবকাশ এখনও তৈরি হয়নি বলে অনেকেরই ধারনা। গত ১০০ দিনে রাজ্যের নতুন সরকার বিনিয়োগবান্ধব বেড়েছে বলে বিজেপি নেতাদের অনেকের দাবি। বস্ত্রশিল্পে বড়সড় বিনিয়োগের শিলান্যাস দেখেছে রাজ্য। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দই কারখানা তৈরির লক্ষ্যে আমুলের প্রকল্পের শিলান্যাসও হয়েছে হাওড়ায়। ইস্পাত শিল্পে বিনিয়োগ এসেছে। মঙ্গলবার অর্থাৎ ১৮ আগস্ট সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ার দিনে পুরুলিয়াতেও ইস্পাত ক্ষেত্রে বিনিয়োগের শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই। যে রাজ্য থেকে ব্যবসা গুটিয়ে ভিন্‌রাজ্যে চলে যাওয়া শুরু করেছিল একের পর এক সংস্থা। সরকার বদলের ১০০ দিনের মধ্যেই বিনিয়োগ অনুপ্রবেশ কল্পনাতীত বলে মনে করছে রাজ্য বিজেপি।‌ দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের গলায় উষ্মার সুর শোনা গিয়েছে দলের একাংশের “তোলাবাজি” নিয়ে। একটা দল তখনই সাফল্যের পথ দীর্ঘমেয়াদী ভাবে দেখতে পায় যাদের কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা আছে। ২২ আগস্ট থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হচ্ছে প্রশিক্ষণ শিবির। এইমর্মে বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে একপ্রস্থ আলোচনা করেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিজেপি সাংসদ, জেলা সভাপতি এবং পদাধিকারীরা। মোট ১০ টি বিষয়ের উপর আজ প্রশিক্ষণ হয়েছে। প্রযুক্তি শিখতে হবে।সফলতা বিফলতা থাকবে কিন্তু কোনভাবে নীতি বদলানো যাবে না, সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।ভালোমানের নেতৃত্ব দরকার। সংবেদন শীলতা থাকবে। হতে হবে বিনম্র। সবজায়গায় মঞ্চে উঠে সামনে বসতেই হবে এমন কোন মানে নেই। দলের কার্যকর্তারাই সম্পদ একথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে আরো একবার। সম্মান করতে হবে তাদের সকলকে। কেন্দ্রীয় সরকারের যে যে প্রকল্প বিগত সরকারের আমলে কার্যকর হয়নি রাজ্যে সেই সকল প্রকল্প নিয়ে রাজ্য বাসীকে বোঝাতে হবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এদিনের শিবিরে। গত ১০০ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকার কি কি কাজ করল এই সংক্রান্ত একটি বই দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ শিবিরে আসা সকলকে। ৪১ পাতার এই বই নিয়ে জেলায় জেলায় প্রশিক্ষণ শিবিরে বিস্তারিত আলোচনা করার নির্দেশও রয়েছে।‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles