Thursday, August 13, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কলকাতা থেকে তথ্য পাচার হত নেপালে-বাংলাদেশে! ধৃত রানার নোটবুক ঘেঁটে উদ্ধার আরও ৬ পাক-সঙ্গীর নাম

RK NEWZ বাংলাদেশে ঢোকার আগে কয়েকজন সীমান্ত দালালের সঙ্গেও রানা যোগাযোগ করেছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের কাছ থেকে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের একাধিক মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, দু’টি সিম কার্ড ও ফোন নম্বর লেখা নোটবুক উদ্ধার হয়েছে। কিছু চ্যাট ও নম্বর মুছে ফেলার প্রমাণও মিলেছে বলেই এসটিএফ সূত্রের খবর। আগে পাক-যোগ সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার ও আদিত্য সিংয়ের সঙ্গে রানা ও ইজাজের যোগাযোগ ছিল বলে এসটিএফের দাবি। রানার মোবাইলে ওই তিনজনের নম্বর সেভ করা ছিল। তাঁদের সূত্র ধরে আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগ থাকা সন্দেহে আরও কয়েকজনের নাম তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে খবর। ফলে ১৪ বছর কলকাতায় থেকে তাদের কার্যকলাপ কতটা বিস্তৃত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ রাজ্যে কার আশ্রয়ে ছিল তারা, কীভাবে ভারতীয় নথি তৈরি করল, আয়ের উৎস কী এবং সেনা-রেলের তথ্য কীভাবে বাইরে পাঠানো হত—এসবই এখন তদন্তের কেন্দ্রে।

ধৃত আইএসআই এজেন্ট রানা রউফ খালিদের ডায়েরি ও নোটবুক ঘেঁটে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ধার করল রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল এসটিএফ-এর গোয়েন্দারা। সঙ্গীদের পরিচয় গোপন রাখতে মোবাইল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল সে। তবুও শেষ রক্ষা হল না। রানার নোটবুক থেকে উঠে এসেছে আরও অন্তত ৬ জন আন্তর্জাতিক পাক এজেন্টের নাম। এর মধ্যে ৫ জন নেপালের এবং ১ জন বাংলাদেশের বাসিন্দা। হাবড়া থেকে গ্রেফতার করা হয় পাকিস্তানি চর রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলম। তাকে সাহায্য করার অপরাধে তপসিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় তার সঙ্গী মহম্মদ ইজাজকেও। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কলকাতার পূর্ব দিকের আরও দুই বাসিন্দা এই চরবৃত্তিতে রানাকে সাহায্য করত। কলকাতা এবং সংলগ্ন বিভিন্ন সেনা ছাউনি, সীমান্ত এলাকার বিএসএফ ক্যাম্প, গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন, রেলপথ ও মানচিত্রের মতো সংবেদনশীল ছবি ও ভিডিও অ্যাপের মাধ্যমে নেপালে থাকা ৫ চরের কাছে পাঠাত রানা।

প্রমাণ লোপাটের জন্য নেপালেই নিজের ব্যবহৃত মোবাইলটি ভেঙে ফেলেছিল রানা। তবে সঙ্গে থাকা দুটি সিমকার্ড সে নষ্ট করতে পারেনি, যা এখন গোয়েন্দাদের হাতে। নোটবুক উদ্ধার হতেই ফাঁস হয় নেপালের ৫ এজেন্ট কাশিফ, হানিফ চৌধুরি, সোহায়েল, জেডি ও হারুণ সফদারের নাম। এছাড়া বাংলাদেশে থাকা আর এক আইএসআই এজেন্ট পাভেলের নামও পাওয়া গিয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, কাঠমান্ডুতে গোপন বৈঠকের পর বনগাঁ হয়ে বাংলাদেশে পাড়ি দেওয়ার ছক ছিল রানার। সেখানে যশোরে পাভেল তার জন্য একটি নতুন মোবাইল নিয়ে অপেক্ষা করছিল। বাংলাদেশে গিয়ে ওই মোবাইলে পুরনো সিম ভরে পুনরায় নেপাল ও পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা ছিল তার।

আটক করার সময় নিজেকে বাঁচতে তপসিয়ার বাসিন্দা ‘ওয়াহাব আলম’ পরিচয়ে আধার ও ভোটার কার্ড দেখায় রানা। কিন্তু এনআরসি এবং পরিচয়পত্র সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে চরম অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় ঘাবড়ে যায় সে। টানা জেরার মুখে অবশেষে নিজেকে পাকিস্তানি নাগরিক বলে স্বীকার করে নেয় ওই চর। রানার কাছ থেকে মাত্র ৩৫০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়ানো এই চরচক্রের তথ্য ইতিমধ্যেই বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে নেপাল ও বাংলাদেশ সরকারকেও জানানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

ধৃত পাক চরের কাছে ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি-ম্যাপ, স্বাধীনতা দিবসের আগে বড় নাশকতার ছক ফাঁস!
১৪ বছর ভারতে থেকে ভুয়ো ভোটার ও আধার কার্ড তৈরি! শেষে বাংলাদেশ পালানোর পথে হাবড়ায় এসটিএফের জালে পাক আইএসআই এজেন্ট। মঙ্গলবার রাতে যশোর রোড ধরে বেনাপোল সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলমকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও এক সহযোগী মহম্মদ ইজাজকে। ধৃত রানাকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য এসটিএফের হাতে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, ধৃতের কাছ থেকে ফোর্ট উইলিয়মের ছবি এবং একটি ম্যাপ উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু কীভাবে কলকাতায় সেনা সদর দপ্তরের ছবি এবং ম্যাপ ধৃত পাক আইএসআই এজেন্টের কাছে গেল সেটাই ভাবাচ্ছেন তদন্তকারীদের। এমনকী আগামী ১৫ আগস্টের আগে ধৃতদের বড়সড় কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কিনা, তাও এখন এসটিএফের তদন্তের রাডারে। তবে এই বিষয়ে ইতিমধ্যে সেনা গোয়েন্দাদের সঙ্গে এসটিএস যোগাযোগ করছে বলে খবর।

ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ভারতীয় সেনার গতিবিধি, সামরিক পরিকাঠামো ও রেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাদের কাজ। এমনকী পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙা সীমান্তে সেনার গতিবিধি ও সামরিক পরিকাঠামো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে এই বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে দফায় দফায় রানা এবং মহম্মদ ইজাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এসটিএফের আধিকারিকরা। ঠিক কী কী তথ্য পাক গুপ্তচর সংস্থার কাছে গিয়েছে সে বিষয়ে আরও তথ্য পেতে মরিয়া তদন্তকারীরা। এসটিএফ সূত্রে খবর, ধৃতদের বাড়ি পাকিস্তানের ফয়সলাবাদ জেলার হাফিজাবাদ গ্রামে। ২০১২ সালে নেপালের কাঠমান্ডু সীমান্ত দিয়ে রকসোল হয়ে এ রাজ্যে ঢোকার পর কলকাতার তপসিয়া সেকেন্ড লেনে থাকতে শুরু করে। ইজাজের সাহায্যে রানা ‘ওয়াহাব আলম’ নামে ভুয়ো ভোটার ও আধার কার্ড বানিয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বেশ কয়েকবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়েছে সে। কিন্তু বাংলাদেশে পালানোর আগে ফাঁস হয়ে যায় গোটা বিষয়টি। এসটিএফের দাবি, ১১ আগস্ট বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে রানার গতিবিধির খবর পাওয়ার পর নজরদারি শুরু হয়। যশোর রোড ধরে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল রানা ও ইজাজ। সেই সূত্রে মঙ্গলবার রাতে হাবড়ার চোংদা মোড়ে নজরদারি বাড়ায় এসটিএফ। আনুমানিক রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলম এবং মহম্মদ ইজাজকে।

যদিও বাংলাদেশে ঢোকার আগে কয়েকজন সীমান্ত দালালের সঙ্গেও রানা যোগাযোগ করেছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের কাছ থেকে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের একাধিক মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, দু’টি সিম কার্ড ও ফোন নম্বর লেখা নোটবুক উদ্ধার হয়েছে। কিছু চ্যাট ও নম্বর মুছে ফেলার প্রমাণও মিলেছে বলেই এসটিএফ সূত্রের খবর। আগে পাক-যোগ সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার ও আদিত্য সিংয়ের সঙ্গে রানা ও ইজাজের যোগাযোগ ছিল বলে এসটিএফের দাবি। রানার মোবাইলে ওই তিনজনের নম্বর সেভ করা ছিল। তাঁদের সূত্র ধরে আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগ থাকা সন্দেহে আরও কয়েকজনের নাম তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে খবর। ফলে ১৪ বছর কলকাতায় থেকে তাদের কার্যকলাপ কতটা বিস্তৃত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ রাজ্যে কার আশ্রয়ে ছিল তারা, কীভাবে ভারতীয় নথি তৈরি করল, আয়ের উৎস কী এবং সেনা-রেলের তথ্য কীভাবে বাইরে পাঠানো হত—এসবই এখন তদন্তের কেন্দ্রে। এসটিএফ সূত্রে খবর, ধৃতদের বাড়ি পাকিস্তানের ফয়সলাবাদ জেলার হাফিজাবাদ গ্রামে। ২০১২ সালে নেপালের কাঠমান্ডু সীমান্ত দিয়ে রকসোল হয়ে এ রাজ্যে ঢোকার পর কলকাতার তপসিয়া সেকেন্ড লেনে থাকতে শুরু করে। ইজাজের সাহায্যে রানা ‘ওয়াহাব আলম’ নামে ভুয়ো ভোটার ও আধার কার্ড বানিয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যায়। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বেশ কয়েকবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে গিয়েছে সে। কিন্তু বাংলাদেশে পালানোর আগে ফাঁস হয়ে যায় গোটা বিষয়টি। এসটিএফের দাবি, ১১ আগস্ট বিশেষ সূত্রের মাধ্যমে রানার গতিবিধির খবর পাওয়ার পর নজরদারি শুরু হয়। যশোর রোড ধরে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল রানা ও ইজাজ। সেই সূত্রে মঙ্গলবার রাতে হাবড়ার চোংদা মোড়ে নজরদারি বাড়ায় এসটিএফ। আনুমানিক রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলম এবং মহম্মদ ইজাজকে।

যদিও বাংলাদেশে ঢোকার আগে কয়েকজন সীমান্ত দালালের সঙ্গেও রানা যোগাযোগ করেছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের কাছ থেকে পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের একাধিক মোবাইল নম্বর, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, দু’টি সিম কার্ড ও ফোন নম্বর লেখা নোটবুক উদ্ধার হয়েছে। কিছু চ্যাট ও নম্বর মুছে ফেলার প্রমাণও মিলেছে বলেই এসটিএফ সূত্রের খবর। আগে পাক-যোগ সন্দেহে ধৃত হামিম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার ও আদিত্য সিংয়ের সঙ্গে রানা ও ইজাজের যোগাযোগ ছিল বলে এসটিএফের দাবি। রানার মোবাইলে ওই তিনজনের নম্বর সেভ করা ছিল। তাঁদের সূত্র ধরে আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগ থাকা সন্দেহে আরও কয়েকজনের নাম তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে খবর। ফলে ১৪ বছর কলকাতায় থেকে তাদের কার্যকলাপ কতটা বিস্তৃত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ রাজ্যে কার আশ্রয়ে ছিল তারা, কীভাবে ভারতীয় নথি তৈরি করল, আয়ের উৎস কী এবং সেনা-রেলের তথ্য কীভাবে বাইরে পাঠানো হত—এসবই এখন তদন্তের কেন্দ্রে।

প্রমাণ লোপাটের জন্য নেপালেই নিজের ব্যবহৃত মোবাইলটি ভেঙে ফেলেছিল রানা। তবে সঙ্গে থাকা দুটি সিমকার্ড সে নষ্ট করতে পারেনি, যা এখন গোয়েন্দাদের হাতে। নোটবুক উদ্ধার হতেই ফাঁস হয় নেপালের ৫ এজেন্ট কাশিফ, হানিফ চৌধুরি, সোহায়েল, জেডি ও হারুণ সফদারের নাম। এছাড়া বাংলাদেশে থাকা আর এক আইএসআই এজেন্ট পাভেলের নামও পাওয়া গিয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, কাঠমান্ডুতে গোপন বৈঠকের পর বনগাঁ হয়ে বাংলাদেশে পাড়ি দেওয়ার ছক ছিল রানার। সেখানে যশোরে পাভেল তার জন্য একটি নতুন মোবাইল নিয়ে অপেক্ষা করছিল। বাংলাদেশে গিয়ে ওই মোবাইলে পুরনো সিম ভরে পুনরায় নেপাল ও পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা ছিল তার।

আটক করার সময় নিজেকে বাঁচতে তপসিয়ার বাসিন্দা ‘ওয়াহাব আলম’ পরিচয়ে আধার ও ভোটার কার্ড দেখায় রানা। কিন্তু এনআরসি এবং পরিচয়পত্র সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে চরম অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় ঘাবড়ে যায় সে। টানা জেরার মুখে অবশেষে নিজেকে পাকিস্তানি নাগরিক বলে স্বীকার করে নেয় ওই চর। রানার কাছ থেকে মাত্র ৩৫০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়ানো এই চরচক্রের তথ্য ইতিমধ্যেই বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে নেপাল ও বাংলাদেশ সরকারকেও জানানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles