RK NEWZ বিস্ফোরক মোহন ভাগবত। নিট প্রশ্নফাঁস ঘিরে দেশ জুড়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষের আবহে তরুণ প্রজন্মের মন বুঝতে এবং তাদের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে সক্রিয় হয়েছে আরএসএস। সঙ্ঘপ্রধান ভাগবত বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রায় দু’হাজার প্রতিনিধির মুখোমুখি হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনপর্বে তরুণ প্রজন্মের উপর আক্রমণের অভিযোগের সত্যতা মেনে নিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে শিক্ষার্থী এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় কর্মসূচিতে তিনি বলেন, ‘‘সম্প্রতি যা ঘটেছে, সে প্রসঙ্গে বলতে গেলে তাদের (তরুণ প্রজন্ম) উদ্বেগ এবং অভিযোগ ন্যায্য। তারা যে প্রশ্ন তুলেছে, তার যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর দেওয়া প্রয়োজন।’’ যন্তর মন্তরে ধর্না-বিক্ষোভের সময় শাসকদল বিজেপির বেশ কয়েক জন নেতা আন্দোলনকারীদের ‘দেশদ্রোহী’ বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগ তুলেছিলেন, আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে বিদেশি আর্থিক মদত। কিন্তু বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের ‘ইন্ডিয়াজ় ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশন্স’-এর বার্ষিক অনুষ্ঠানে দেশের ১০০টি শহর থেকে আসা ১৫-১৯ বছর বয়সি প্রায় ২,০০০ স্কুল-কলেজের পড়ুয়াকে নিয়ে মুখোমুখি আলোচনায় এ সংক্রান্ত প্রশ্ন তোলা হলে তিনি বলেন, ‘‘তরুণ প্রজন্ম যদি প্রতিবাদ করে, তা হলেই তারা দেশদ্রোহী হয়ে যায় না। তারা আমাদেরই। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম।’’ এর পরেই তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘আমি মনে করি আজকের প্রজন্ম আমাদের প্রজন্মের চেয়ে বেশি সৎ। দেশভক্তি এবং দেশসেবার সৎ মনোভাব রয়েছে তাদের।’’ সেই সঙ্গেই প্রতিবাদের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরসঙ্ঘচালক ভাগবত। তাঁর কথায়, আমি বলব না যে জেন জ়ি (এটি আদতে আমেরিকায় বিপণন কৌশলের অঙ্গ হিসাবে বয়সভিত্তিক বিভাজন, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মানো প্রজন্মকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়)-দের প্রতিবাদ করা উচিত নয়। প্রতিবাদ হল ঐকমত্যে পৌঁছানোর একটি পথ। কিন্তু গণতন্ত্রে প্রতিবাদের নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। যখন আমার বয়স আজকের জেন জ়ি-দের মতো ছিল, তখন আমাদের প্রজন্ম বড়দের কথা শুনত। কিন্তু এখন তারা প্রশ্ন করে, তারা যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর চায়।’’ দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, পেলেট হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে সরসঙ্ঘচালক বলেন, ‘‘প্রকৃত ঘটনা কী, তা আমি এখনও জানি না। কিন্তু যদি চোখ বন্ধ করে ভরসা রাখতে বলা হয়, আমি জেন জ়ির উপরেই ভরসা রাখব।’’ নিট প্রশ্নফাঁস ঘিরে দেশ জুড়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষের আবহে তরুণ প্রজন্মের মন বুঝতে এবং তাদের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে সক্রিয় হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর দল বিজেপি। শুধু ফেসবুক বা এক্স হ্যান্ডল নয়, ইনস্টাগ্রাম, রেডিট, স্ন্যাপচ্যাটের মতো ‘সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম’-কেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীও নেটমাধ্যমে তরুণ প্রকন্মের সঙ্গে নৈকট্য বাড়াতে সক্রিয় হয়েছেন। সেখানে দেশের শিক্ষা পরিকাঠানো এবং পঠনপাঠনের উন্নতির জন্য বাজেট বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করার পক্ষে সওয়াল করেছেন সঙ্ঘপ্রধান। জানিয়েছেন, ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যে উদ্বেগগুলি উঠে এসেছে, তার সত্যতা রয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র চাকরি-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থায় তাঁর সায় নেই জানিয়ে ভাগবত বলেন, ‘‘কর্মসংস্থান বলতে শুধু চাকরি নয়, উদ্যোক্তাও বোঝায়।’’ শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন শুধুমাত্র সরকারের দায়িত্ব নয় জানিয়ে ভাগবতের বার্তা, ‘‘এ ক্ষেত্রে সমাজেরও অবদান রাখা উচিত।’’ শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক পরিস্থিতিও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। সমপ্রেমী ও রূপান্তরকামীদের ভারতীয় সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মন্তব্য করে ভাগবত বলেন, ‘‘ওঁদের একঘরে বা সমাজচ্যুত করে রাখা অনুচিত। বরং তাঁরা যাতে একসঙ্গে থাকতে পারেন তার আইনি ব্যবস্থা করা উচিত।’’



