RK NEWZ ক্লাস থ্রিতে পড়ার সময় ক্যানসারে ঠাকুমাকে হারিয়েছিলেন আরিয়ান গুপ্তা। সেদিনই অঙ্কোলজিস্ট হওয়ার শপথ নিয়েছিলেন। নিট ইউজি ২০২৬-এ ৭১৫ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় প্রথম হয়ে সেই স্বপ্নের দিকেই আরও এক ধাপ এগোলেন তিনি। সেই শোকই এক শিশুর জীবনের লক্ষ্য বদলে দেয়। হাসপাতালে কাটানো সেই দিনে নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, বড় হয়ে ক্যানসারের চিকিৎসক হবেন। অন্য কোনও পরিবার যেন তাঁর মতো যন্ত্রণা না পায়। বহু বছর পরে সেই অঙ্গীকারই পৌঁছে দিল তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সাফল্যের মঞ্চে। নিট ইউজি ২০২৬-এ ৭২০-এর মধ্যে ৭১৫ নম্বর পেয়ে দেশে প্রথম হয়েছেন লুধিয়ানার ১৭ বছরের আরিয়ান গুপ্ত। হবেন অঙ্কোলজিস্ট। আরিয়ানের জীবনের মোড় ঘুরে যায় খুব ছোট বয়সে। ঠাকুমার ক্যানসারের চিকিৎসা চলাকালীন কাছ থেকে দেখেছিলেন রোগের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই। শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। সেই অভিজ্ঞতাই আরিয়ানের মনে ছাপ ফেলে। তখনই ঠিক করেন, তিনি অঙ্কোলজিস্ট হবেন। ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করবেন। বছরের পর বছর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। একমাত্র স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়া। সেটাই হবেন। পরীক্ষা বাতিল, তবু হার মানেননি। এ বছরের নিট পরীক্ষা প্রশ্নফাঁস বিতর্কে বাতিল হয়ে যাওয়ার পর বহু পরীক্ষার্থীর মতো আরিয়ানও হতাশ হয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর আবার পরীক্ষা দিতে হবে— এই বিষয়টা মেনে নেওয়া সহজ ছিল না। তবে সেই হতাশায় ডুবে না থেকে পরিস্থিতিকে নতুন সুযোগ হিসেবে দেখেন তিনি। প্রথম পরীক্ষায় কোথায় কোথায় ভুল হয়েছিল, তা খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করেন। পুনরায় প্রস্তুতি নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষায় বসেন। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাঁকে দেশের সেরার সেরা স্থানে পৌঁছয়। পুনঃপরীক্ষায় ৭২০-এর মধ্যে ৭১৫ নম্বর পেয়েছেন আরিয়ান। তাঁর সাফল্য শুধু মেধার নয়, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়ার উদাহরণ হিসেবে থেকে যাবে। আরিয়ান জানিয়েছেন, এই সাফল্য তার কাছে নতুন পথের শুরু। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি। তাই অঙ্কোলজিস্ট হয়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে চান আগামী দিনে।




