RK NEWZ ‘তেরঙা যাত্রা’। নামছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। মিছিল শুরু হবে ধর্মতলায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশ থেকে। সেখান থেকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অতিক্রম করে শেষ হবে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে। বিজেপি সূত্রে দাবি, ‘তেরঙা যাত্রা’ শেষ হওয়ার পর বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ থেকে ভাষণ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আক্রমণেরও জবাব দিতে পারেন। গত মাসে একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে মমতা ও অভিষেক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেছিলেন। বিধানসভায় তার জবাব দিলেও রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে পাল্টা বার্তা দেওয়া হয়নি বলে বিজেপির একাংশের মত। শুক্রবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের অন্তর্গত আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিং থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত প্রথম দফায় ‘তেরঙা যাত্রা’ করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
চন্দ্রনাথ খুনে ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআইয়ের! রয়েছেন বিজেপি কর্মী দুই ভাইও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যা মামলায় চার্জশিট দিল সিবিআই। মোট ১১ জনের নাম রয়েছে তাতে। রয়েছেন বিজেপি কর্মী দুই ভাই সাগর সোনকর এবং সাহেব সোনকরও। তাঁদের কিছু দিন আগেই গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গোটা ঘটনায় অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের হাত রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চন্দ্রনাথ খুনের মামলায় বৃহস্পতিবার চার্জশিট দিয়েছে সিবিআই। তাতে যে দুই ভাইয়ের নাম রয়েছে, ২০২০ সালে তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেন। তার আগে পর্যন্ত অন্য দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি, বিরোধী রাজনৈতিক দলের এক বিধায়কের হয়ে কাজ করতেন তাঁরা। পরে দলবদল করেন। অভিযোগ, তাঁরাই উত্তরপ্রদেশের ভাড়াটে খুনিদের চন্দ্রনাথকে হত্যার কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। বরাতের পাশাপাশি ভাড়াটে খুনিদের টাকাও দিয়েছিলেন এই দুই ভাই। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে চন্দ্রনাথকে খুনের পরিকল্পনা চলছিল। দিনক্ষণ ঠিক হয়ে যাওয়ার পরেও নানা কারণে একাধিক বার তা বদলেছে। শেষ পর্যন্ত ৬ মে চন্দ্রনাথকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছ’জন শুটারকে সিবিআই গ্রেফতার করেছে। তাঁরা হলেন, মনু সিংহ, রাজ সিংহ, গোলু সিংহ, ময়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং নবীন কুমার সিংহ। এ ছাড়া, বিনয় রায়, সঞ্জয় রায় এবং বিকাশ মিশ্র নামের তিন ‘মিডলম্যান’কেও গ্রেফতার করা হয়েছে। খুনের বরাত নিয়েছিলেন তাঁরাই। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার অনেক খুঁটিনাটি তথ্য উঠে এসেছে বলে সিবিআই সূত্রে খবর। তবে তদন্তকারীদের দাবি, এখনও এক জন অভিযুক্ত পলাতক। তাঁর খোঁজ চলছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছিল গত ৪ মে। তার ঠিক দু’দিনের মাথায় ৬ তারিখ মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথকে। সিবিআইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের আগে থেকেই তাঁকে সরানোর চক্রান্ত চলছিল। বিজেপি কর্মী ওই দুই ভাই গোটা ঘটনার অন্যতম মূল চক্রী বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। তবে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের কেউ এর সঙ্গে জড়িত কি না, নেপথ্যে থেকে ষড়যন্ত্রে কেউ ইন্ধন জুগিয়েছেন কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কী কারণে চন্দ্রনাথকে খুন করা হল, তা-ও এখনও স্পষ্ট নয়। এই সমস্ত জল্পনার মধ্যেই ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিল সিবিআই।




