Thursday, August 6, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্বের কনিষ্ঠতম অধ্যাপক!‌ ১০ বছর বয়সে কলেজ, ১৪-য় মাস্টার্স হয়ে গিনেস বুকে যুবক!

RK NEWZ ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে অধ্যাপনা শুরু করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছেন ফ্লোরিডার তরুণ নাথান থমাস। ৩০৬ বছরের পুরনো রেকর্ড চুরমার করে মিয়ামি ডেড কলেজে সমবয়সীদের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াচ্ছেন এই নতুন প্রফেসর। ১৮ বছর বয়সে কোনও তরুণ যখন সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার বা প্রথম সেমিস্টারের ক্লাসে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করেন, ফ্লোরিডার নাথান থমাস তখন ক্লাসরুমের একদম সামনে দাঁড়িয়ে সমবয়সী ছাত্রদের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাঠ দিচ্ছেন। তাঁর বর্তমান বয়স ১৮ বছর ৩৪৬ দিন। আর এই বয়সেই বিশ্বের কনিষ্ঠতম পুরুষ অধ্যাপক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নিজের নাম নথিভুক্ত করেছেন নাথান। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৩০৬ বছরের পুরনো এক ঐতিহাসিক রেকর্ডও ভেঙেছেন তিনি। এর আগে ১৭১৭ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে স্কটিশ গণিতবিদ কলিন ম্যাকলরিন অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে এই বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন। মিয়ামি ডেড কলেজের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে যোগ দিয়ে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন নাথান। ১০ বছর বয়সে কলেজে পা, ১৪-য় জোড়া ডিগ্রি। নাথানের এই বিস্ময়কর শিক্ষাজীবনের সূচনা অবশ্য বেশ ছোটবেলা থেকেই। মাত্র ১০ বছর বয়সে একটি বিশেষ ডাবল-এনরোলমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্কুলে পড়ার পাশাপাশি মিয়ামি ডেড কলেজে নিজের নাম নথিভুক্ত করেন। এরপর মাত্র ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সাম্মানিক-সহ ব্যাচেলরস এবং মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পূর্ণ করে ফেলেন এই মেধাবী তরুণ। যেই কলেজে একসময় ছাত্র হিসেবে ভর্তি হয়েছিলেন, কয়েক বছর পরে সেখানেই ফেরেন শিক্ষক হিসেবে। ২০২৩ সালের অগস্ট মাস থেকে তিনি ‘সি ফর ইঞ্জিনিয়ার্স’ কোডিং কোর্স পড়ানো শুরু করেন। নিজের প্রায় সমবয়সী শিক্ষার্থীদের পড়ানো নিয়ে বিন্দুমাত্র সংকোচ নেই এই তরুণ অধ্যাপকের। নাথানের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘শেখার ক্ষেত্রে বয়স কখনোই বাধা হতে পারে না, আসল হল জানার আগ্রহ আর নিষ্ঠা।’ ক্লাসের প্রতিটি ছাত্রই শেখার এবং আত্মোন্নতির লক্ষ্য নিয়ে আসে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। কঠিন কোনও বিষয়কে সহজভাবে বুঝিয়ে দেওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে তৃপ্তির। ছোট থেকেই ইঞ্জিনিয়ার পরিমণ্ডলে বড় হওয়া নাথান নিজের মায়ের অবদানকে নিজের সাফল্যের পিছনে কৃতিত্ব দিয়েছেন। সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, মা-ই তাঁকে ছোটবেলায় খেলার ছলে অঙ্ক শেখান এবং সেই বিষয়ই তাঁর জীবনের মোড় পাল্টে দেয়। অধ্যাপনার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন নাথান। বর্তমানে মায়ামি ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল-তে ‘জুরিস ডক্টর’ ডিগ্রির পড়াশোনা করছেন। ২০২৮ সালে তাঁর এই আইন বিভাগের ডিগ্রি সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। নাথানের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য হল বুদ্ধিভিত্তিক সম্পত্তি আইন বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি ল নিয়ে কাজ করা। সায়েন্স ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনগুলোকে আইনি সুরক্ষা দিতে নিজের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চান। ১০ বছর বয়সে কলেজে পা রাখা থেকে শুরু করে ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভাঙা—নাথান প্রমাণ করলেন শেখার অদম্য ইচ্ছে থাকলে বয়স কোনও প্রতিবন্ধকতা হতে পারে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles