Thursday, August 6, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বাবা কাঠমিস্ত্রি, সরকারি স্কুলে পড়াশোনা!‌ ১৪ বছরে মহাকাশ গবেষণার সুযোগ পেল কিশোরী!

RK NEWZ বাবা পেশায় কাঠমিস্ত্রি। দিন-রাত কাজ করে ক’টা টাকা বাড়িতে আসে। তা দিয়ে খুব বেশি কিছু দিতে পারেননি মেয়েকে। বছর ১৪ কিশোরী পড়ে এলাকারই এক সরকারি স্কুলে। আর পাঁচটা বাচ্চার মতো দিনযাপন তার। স্কুলের দিদিমণিরাও একই সিলেবাস পড়ান। কিন্তু তাতেই তাক লাগানো সাফল্য পেল সে। বিশ্বের প্রথম সর্ব-মহিলা চন্দ্র কিউবস্যাট কর্মসূচি ‘মিশন শক্তিস্যাটে’ ভারতের ২০ জন প্রতিনিধির অন্যতম হিসেবে নির্বাচিত হল অন্ধ্রপ্রদেশের কান্দুলা জেসি। এই মিশনে অংশ নিয়েছে ১০৮টি দেশের প্রায় ১২ হাজার আবেদনকারী। তার মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নিল জেসি। সে অন্ধ্রপ্রদেশের একমাত্র ছাত্রী যে এই মিশনে কাজ করার সুযোগ পাবে। জেসি ধবলেশ্বরমের জিলা পরিষদ গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী। বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহ প্রথম লক্ষ্য করেছিলেন তাঁর ফিজিক্যাল সায়েন্সের শিক্ষিকা এবং অটল টিঙ্কারিং ল্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত মণিমালা। গত বছর তিনিই জেসিকে এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে উৎসাহ দেন। শুধু নিজে আবেদন করেই থেমে থাকেনি জেসি, স্কুলের আরও আটজন ছাত্রীকেও আবেদন করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। আবেদনের পর জানা যায়, অনলাইন পাঠক্রম শুরু হয়ে গেছে ততক্ষণে। তখন মণিমালা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন সুযোগের ব্যবস্থা করেন। সেই সুযোগই জেসিকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্থান দেয়। দশম শ্রেণির পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রতিদিন স্কুল শেষে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিয়েছে এই কিশোরী। মিশন শক্তিস্যাটে প্রায় ৫৫০টি সেশন এবং ২১টি মডিউল রয়েছে, যেখানে স্যাটেলাইট সিস্টেম, প্রপালশন, থার্মোডাইনামিক্স ও মহাকাশ প্রযুক্তির মতো উচ্চতর বিষয় শেখানো হয়। স্কুলের পাঠ্যক্রমের তুলনায় এই বিষয়গুলি অনেক কঠিন হলেও নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে জেসি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ শেষ করে ফেলে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ছিল অনলাইন পাঠ, বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এক ঘণ্টার সাক্ষাৎকার এবং মিশনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে এক মিনিটের ভিডিও উপস্থাপনা। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের সঙ্গে সম্পূর্ণ ইংরেজিতে কথা বলতে হবে জেনে জেসি শিক্ষকদের সাহায্যে নিজের যোগাযোগ দক্ষতাও বাড়ায়। ২৩ আগস্ট থেকে নয়াদিল্লিতে শুরু হবে মিশনের পরবর্তী প্রশিক্ষণ। সেখানে স্যাটেলাইট ডিজাইন, পেলোড ডেভেলপমেন্ট এবং মিশন পরিচালনা বিষয়ে হাতে-কলমে কাজ করবে সে। ছাত্রীদের তৈরি করা ‘চন্দ্র কিউবস্যাট’ আগামী ১১ অক্টোবর শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ করবে। জেসির স্বপ্ন, একদিন ইসরোতে কাজ করা এবং নিজের পরিবার, শিক্ষক ও স্কুলের নাম উজ্জ্বল করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles