RK NEWZ পহেলগাঁও হামলার পর উঠে এসেছিল এক লাস্যময়ীর নাম। ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রা। পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোয়েন্দারা জানায়, জ্যোতির মাধ্যমেই পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হাতে চলে যেত ভারতীয়দের গোপন সব তথ্য। হামিম কাণ্ডে ফের চর্চায় সেই জ্যোতি মালহোত্রা। কারণ, জ্যোতির মতো করেই নাকি তালিম দেওয়া হচ্ছিল হামিমের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে। বিষয়টা ঠিক কী? পহেলগাঁও হামলার পর জানা গিয়েছিল ইউটিউবার জ্যোতি তাঁর পরিচিতিকে ভীষণভাবে কাজে লাগাতেন। এ দেশের প্রভাবশালীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তিনি। অভিযোগ, তাঁর মাধ্যমে ভারতের গোপন খবর হাতাত আইএসআই। সেই মতোই তৈরি করা হয় অপারেশনের নীলনকশা। হামিম মণ্ডলের হাত ধরে পাক জইশ-ই-মহম্মদের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় অর্পিতা সরকারের। এরপরই তাঁকে জ্যোতির ধাঁচে তৈরির পরিকল্পনা করে জঙ্গিগোষ্ঠী। শুরু হয় তালিম। কারণ, সোশাল মিডিয়ায় যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিলেন অর্পিতা। পাকিস্তান থেকে আসা নির্দেশেই এরাজ্যের একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তা ও নেতার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন তরুণী। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, হামিম এবং অর্পিতাকে দুবাইতে দেখা করতে ডেকেছিল পাকিস্তানি গ্যাংস্টার ভট্টি গোষ্ঠীর হ্যান্ডলারেরা। কিন্তু হামিমের পাসপোর্ট না থাকায় তাঁদের দুবাই যাওয়া হয়নি। তবে আবিদ জাট নিজেই যোগাযোগ রাখতেন অর্পিতার সঙ্গে। সরাসরিই আসত নির্দেশ। এসটিএফ সূত্রে খবর, নিষিদ্ধ অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতো হামিম ও পাক জঙ্গিগোষ্ঠীর মাথারা। অনলাইনে পরিচয় জমিয়ে প্রথমে মগজধোলাই করে হামিমদের মতো যুবকদের টাস্ক দেওয়া হতো। হামিমদের মগজধোলাইয়ের পর তাদের স্মার্ট, উচ্চাকাঙ্খী মেয়েদের মগজধোলাই করে জালে ফাঁসানোর নির্দেশ আসতো পাকিস্তানের থেকে। সেইভাবেই হামিমের জালে জড়ায় অর্পিতা। প্রশ্ন উঠছে, শুধুই কি অর্পিতা নাকি হামিমের জালে জড়িয়ে পাক জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল বাংলার আরও তরুণী? হলে তাঁরা কারা? সেটাই এখনও জানার চেষ্টায় তদন্তকারীরা।

তদন্তে জানা গিয়েছে যে, মুখ্যমন্ত্রীর উপরও অস্ত্র নিয়ে হামলার ছক কষেছিল জঙ্গিরা। কী পদ্ধতিতে ও কোন রুটে হামলা চালানো যেতে পারে, তার একটি খসড়াও তৈরি করে জঙ্গিরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই প্রাথমিক খসড়া এই রাজ্য থেকে পাঠানো হয় পাকিস্তানে হামিমদের হ্যান্ডলারদের কাছে। তারাও সেই খসড়া দেখে মন্তব্য করে সম্ভাব্য রুটও পাঠায়। সেই রুটে রেইকি করা হয়েছিল কি না, সেই তথ্য গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন। হামিমের মোবাইল ঘেঁটে এই ব্যাপারে গোয়েন্দাদের হাতে তথ্য এসেছে। গোয়েন্দারা জেনেছেন, এই নাশকতার কাজে হামিম মণ্ডল একা নয়, সোশাল মিডিয়ায় আরও কয়েকজনকে নিয়োগ করেছিল পাকিস্তানের হ্যান্ডলার রানা, উজায়ের, আবিদ জাঠ, হমার। তাদের দিয়ে আলাদাভাবেও নাশকতার কাজ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে ধারণা গোয়েন্দাদের। ইতিমধ্যে অসম, রাজস্থান, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ থেকে এই জঙ্গি সংগঠনের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলায় টিটিএইচের একাধিক মডিউল তৈরির ছক কষা হয়। তার জন্য হামিম পাকিস্তানের নির্দেশে কয়েকটি জায়গায় বৈঠকও করে। অস্ত্র নিয়ে নাশকতার জন্য হামিম কিছু দুষ্কৃতীকেও কাজে লাগানোর ছক কষছিল। তহবিল ও অস্ত্র সংগ্রহের জন্য রাজ্যের কয়েকটি জায়গায় স্লিপার সেলও তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।পাকিস্তানের নির্দেশে পুলিশের উপর সরাসরি অস্ত্র নিয়ে হামলার ছক কষছিল জঙ্গি হামিম মণ্ডল। স্বাধীনতা দিবসের সময় ওই হামলা চালানোর ছক কষা হয়েছিল কি না, সেই তথ্য গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে রাজ্যের অন্তত ৬ জন মন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের লোকেদের হানিট্র্যাপে ফেলার ছক কষে পাকিস্তানের শেহজাদ ভাট্টি জঙ্গিরা। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ধৃত জঙ্গি নেতা হামিম মণ্ডলের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে। গোয়েন্দাদের কাছে খবর, হামিম মণ্ডল শেহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের হয়ে কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্থান বা টিটিএইচের সদস্যও ছিল। এই বছরের ফেব্রুয়ারি ও মে মাসে পাঞ্জাবে পুলিশ আধিকারিকদের হত্যা করে টিটিএএইচ। এবার কলকাতা বা এই রাজ্যে একই ধাঁচে পুলিশকর্তা বা আধিকারিকের উপর হামলা চালিয়ে তাঁদের খুনের ছক কষা হচ্ছিল বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন। কয়েকজন পুলিশকর্তা বা আধিকারিককে টার্গেট করতে শুরু করেছিল তারা। নিজেদের প্রচার থেকে শুরু করে হামলা বা নাশকতার জন্য পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু করে তিন লাখ টাকা খরচ করে পাক চর সংস্থা আইএসআই। শেহজাদ ভাট্টি ও তেহরিক-ই-তালিবান হিন্দুস্থানের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীদের দিয়েই এই নাশকতা বা হামলার ছক কষা হয়। দেখা গিয়েছে, শুধু কয়েকটি দেশবিরোধী পোস্টার লাগাতে জঙ্গিরা একেকজনের পিছনে খরচ করেছে পাঁচ হাজার টাকা করে। আবার হামলার জন্য তিন লাখ টাকা করেও খরচ করেছে তারা। পুলিশের উপর হামলার নির্দেশ ও কীভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করা হবে, সেই ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়ার হ্যান্ডেলে নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল পাকিস্তান থেকে।




