RK NEWZ বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে অঞ্জন মিত্রের স্ত্রী সুজাতা মিত্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে মরণোত্তর ‘মোহনবাগান রত্ন’। পুরস্কার তুলে দেবেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। ২০০১ সালে শুরু হওয়া মোহনবাগান দিবস সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছেও সমান জনপ্রিয়। একইভাবে ‘মোহনবাগান রত্ন’-ও আজ ক্লাবের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মান। শৈলেন মান্নাকে দিয়ে যার সূচনা, পরে সেই সম্মানের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। গত বছর এই সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন প্রয়াত টুটু বোস। পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। পাশাপাশি ক্লাবে হাজির ছিলেন বহু প্রাক্তন তারকা ফুটবলার। বিদেশ বোস, সুব্রত ভট্টাচার্য, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়দের উপস্থিতিতে স্মৃতিচারণের আবহ তৈরি হয়। প্রাক্তন ফুটবলারদের নিয়ে একটি প্রদর্শনী ম্যাচও আয়োজন করা হয়। ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “মোহনবাগান কেবল পশ্চিমবঙ্গের নয়, শুধু বাঙালিরও নয়, গোটা ভারতের সবচেয়ে গৌরবান্বিত ক্লাব। ব্রিটিশদের খালি পায়ে পরাস্ত করার যে অদম্য সাহস মোহনবাগান দেখিয়েছিল, তা অতুলনীয়। এখানে এসে যে পরিবেশ প্রত্যক্ষ করলাম, তার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ।

” ২৯ জুলাই, ১৯১১। ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। সেই দিনই আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে হারিয়ে খালি পায়ে খেলতে নামা মোহনবাগান লিখেছিল স্বাধীনতার আগমনী বার্তা। সেই ঐতিহাসিক জয়ের ১১৫তম বর্ষে বুধবার গোষ্ঠ পাল সরণির সবুজ-মেরুন ক্লাবে প্রতিবছরের মতো পালিত হল ‘মোহনবাগান দিবস’। মোহনবাগান দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্ত বলেন, “অন্য ক্লাব হয়তো অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান করে। কিন্তু আমাদের বিশেষত্ব মাঠ দিয়ে শুরু করা। কারণ খেলা তো মাঠেই হয়। আজ ১৩৫ জন প্রাক্তন ফুটবলার এসেছেন। না-আসার তালিকায় কার্যত কেউ নেই। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে আছেন বলে আসতে পারেননি। বাকি সবাই এসেছেন। মানস ভট্টাচার্য, শিলটন পাল, সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়রা প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই আবেগ, এই উন্মাদনা, এই পরিবেশ কিন্তু অন্য কোথাও দেখা যায় না।”

প্রয়াত অঞ্জন মিত্রের অবদানের কথাও বিশেষভাবে স্মরণ করেন সভাপতি। তাঁর কথায়, “সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দেব অঞ্জন মিত্রকে। অনেকেই ২৯ জুলাইয়ের গুরুত্ব ভুলতে বসেছিলেন। তিনিই মোহনবাগান দিবস শুরু করেছিলেন। আজ গোটা বাংলা তো বটেই, দেশের বাইরেও এই দিন উদ্যাপিত হয়। আমার মনে হয়, ১৯১১ সালের ২৯ জুলাই-ই ভারতীয় ফুটবলের প্রকৃত জন্মদিন।” একইসঙ্গে মহিলা ফুটবলের প্রসঙ্গ টেনে আইএফএ-র ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন দেবাশিস। ক্লাব সচিব সৃঞ্জয় বোস এই দিনের ইতিহাসের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমাদের ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবস ১৫ আগস্ট। কিন্তু ভারতীয় ফুটবলের জন্মদিন যদি কোনও দিনকে বলা যায়, তা হল ১৯১১ সালের ২৯ জুলাই। যে মানুষটির জন্য মোহনবাগান দিবস ও মোহনবাগান রত্ন চালু হয়েছিল, সেই অঞ্জন মিত্রকেই এবার মরণোত্তর মোহনবাগান রত্ন দেওয়া হবে। নিজেদের সত্যিই ভাগ্যবান মনে করছি।”



