RK NEWZ হাওড়ার শিবপুরে থ্রেট কালচার। সরাসরি ফোনে হুমকি। ‘আপনি রুদ্রনীলের সঙ্গে ‘দাগী’দের ছবি ছেপেছেন কেন?’ হুমকি দিলেন শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের অফিসের চতুর্থ শ্রেণীর এক কর্মী। সংবাদমাধ্যমের এডিটর ইন চিফকে সরাসরি থ্রেট দিলেন শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের অফিসের কর্মী ‘রাজা’। প্রশ্ন উঠছে কে এই ‘রাজা’? শিবপুরের বিধায়ক হয়ে আসার কিছুদিন আগে পর্যন্তও কেউ চিনত না। হঠাৎ কলেবরে বেড়ে ওঠা মাস খানেকের মধ্যে, ছিপছিপে ‘রাজা’র বাড়বাড়ন্ত সাধারন মানুষকেও নানান ভাবে নাজেহাল করছে বলে শিবপুরবাসীর অভিযোগ। কিছুদিন আগে রুদ্রনীল ঘনিষ্ঠ ভোম্বলের কাছে থেকেও হোয়াটস অ্যাপে জনৈক সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া হয়। প্রশ্ন উঠছে কারা এই রুদ্রনীল ঘনিষ্ঠ ‘ভোম্বল’ কিংবা ‘রাজা’? কী এদের পরিচয়। কেনই বা বিধায়ক ঘনিষ্ঠ? বিধায়ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগে ‘রাজা’দের পেশা কী ছিল? বিধায়ক ঘনিষ্ঠ হওয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ অথবা স্পৃহার কারণ? যদি পি এ বা সি এ হয়, তাহলে এরা কি ডব্লিউবিসিএস অথবা স্নাতকোত্তর? একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে শিবপুরবাসীর মুখে মুখে? জনসাধারনের সঙ্গেও এঁদের কথাবার্তায় অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। কিছুদিন আগেই এক মহিলা নিজের অসহায়তার কথা জানাতে গিয়ে এই ‘রাজা’র কাছে চরম অপমানিত হয়েছেন বলে তীব্র অভিযোগ। রুদ্রনীল ঘনিষ্ঠ এই ‘ভোম্বল’ কিংবা ‘রাজা’ দের থেকে এবার থ্রেট কালচারের অভিযোগ উঠল। শিবপুরের অসংখ্য অধিবাসীর কাছে এই থ্রেট কালচারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়ে, লিলুয়ার এক অধিবাসী জানান, ‘উনি এক হাঁটু জলে নেমে ছবি করে অভিনয় করবেন, আর সেই ছবি ওনার চ্যালাচামুন্ডারা সোস্যল মিডিয়ায় ভাইরাল করবেন। এটাই এখন দেখছি আমরা।’ কোনা ভুতবাগানের বাসিন্দাদের অভিযোগ, নানান রকম ছবি করতে আসেন, আর অফিসে কোনও কাজের জন্য গেলেই ‘রাজা’ নামে একজনের কাছ থেকে দুর্ব্যবহার জোটে। এমনকি কেউ জরুরী প্রয়োজনে বিধায়কের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে এই ‘রাজা’ বাধা দেন বলেও অসংখ্য অভিযোগ। বিদায়ী বিধায়ক মনোজ তিওয়ারীর পিএ ‘পিয়ু্ষ’ এর ভুমিকাও এই একই ছিল বলে শিবপুরবাসীর ক্ষোভ। এই ‘পিয়ু্ষ’এর তোলাবাজি ও অসংলগ্ন আচরনের সংবাদ প্রকাশ করে হুমকির শিকার হয়েছিলেন সাংবাদিকরা। শিবপুরবাসীর অভিযোগ নতুন কিছু ফিরে পেলেন না তাঁরা। এক তোলাবাজ দুর্নীতিবাজ মনোজ তিওয়ারী ঘনিষ্ঠ ‘পিয়ু্ষ’ এর বিদায়ে হাজির এবা নতুন হুমকিবাজ ‘রাজা’ রা, এমনটাই অভিযোগ শিবপুরবাসীর। শিবপুরবাসী এখনই মুক্তির ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না বলে অভিযোগ। সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া ‘ভোম্বল’ কিংবা ‘রাজা’ দের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সাধারন মানুষের মনে। সংবাদ ছাপা হয়েছিল সত্য খবর ও ছবি সম্বলিত। দাগী এফআইআর থাকা সিকন্দাররা কেন রুদ্রনীলের পাশ ঘেঁষে? এই প্রশ্নই করা হয়েছিল সংবাদমাধ্যমে। সুত্রের খবর, গত এক সন্ধ্যায় তৃণমূলের বর্ধমান জেলার ভাইস প্রেসিডেন্ট অসিত চট্টোপাধয়ায়ের সঙ্গে রুদ্রনীল ঘনিষ্ঠ ‘ভোম্বল’ কিংবা ‘রাজা’দের সেটিংএর বার্তার কানাঘুঁষো শোনা যাচ্ছে? তাহলে কী পুনরায় একই অবস্থা ফিরতে চলেছে রুদ্রনীল ঘনিষ্ঠ ‘ভোম্বল’ কিংবা ‘রাজা’দের হাত ধরে? প্রশ্ন সাধারন মানুষের? এই হুমকি ও থ্রেট কালচারে ভীত শিবপুরবাসী।
যে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার কারণে রুদ্রনীল ঘনিষ্ঠ ‘ভোম্বল’ কিংবা ‘রাজা’ দের হুমকি —
হেডলাইন ছিল — রুদ্রনীলের গা ঘেঁষে হাওড়ার ‘দাগী’ সিকন্দার-রাখালরা? ক্ষোভ কর্মীদেরই! ‘মেসি গোল্ডেন বুট পাবে’! অরূপ বিশ্বাসের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে খোঁচা রুদ্রনীলের
RK NEWZ বহুবার মহিলা ঘটিত কেসে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে একদা তৃণমূলের নেতা রাখাল কাউরের। এমনকি রাখালের স্ত্রীর তরফেও এবশ কিছু অভিযোগ ও মামলা পেন্ডিং বলে শোনা যায়। অথচ সেই রাখাল কাউর বর্তমানে আর্জেন্টিনার ফ্যান সেজে শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তীব্র অভিযোগ জেলা বিজেপি কর্মীদের একাংশের। একটি অবৈধ স্কুল চালানোর অভিযোগ ছিল রাখালের নামে বলে শোনা যায়। আপাতত পুলিশের কব্জায় দাগী জালিয়াত মানস রায়ও কিছুদিন ধরেই বিজেপি নেতাদের নানান সুযোগ দিয়ে নিজের পিঠ বাঁচাতে চেষ্টা করছি বলে অভিযোগ। হাওড়া জেলার প্রকৃত বিজেপি কর্মীদের সিংহভাগ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। একের পর এক দাগী তোলাবাজ তৃণমূল নেতাকর্মীরা বিধায়ক রুদ্রনীলের ঘনিষ্ঠ হয়ে দলে ঢোকার মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে বিজেপি দলের একাংশের ক্ষোভ। জেলা সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্যের সঙ্গেও দাগী তৃণমূলী সিকন্দার খানদের দেখা গেছে ঘনিষ্ঠ ভাবে গেরুয়া উত্তরীয় পরে। অভিযুক্ত সিকন্দরের নামে ২০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে শিবপুর থানায়। একদা চোলাই মদ বিক্রেতা, জমি মাফিয়া সাগর সিং থেকে শুরু করে তৃণমূলী তোলাবাজ বলে অভিযোগের শীর্ষে থাকা বিপ্লব দে সহ বেশ কিছু সমাজবিরোধীদের সঙ্গে বিধায়ক ও বিজেপি জেলা শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগের অভিযোগ এসেছে খোদ বিজেপি কর্মীদের থেকেই। দলের অন্দরমহলে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে একের পর এক সমাজবিরোধী ও তৃণমূলী তোলাবাজদের অনুপ্রবেশ হচ্ছে খুব সন্তর্পণে বলে অভিযোগ বিজেপি কর্মীদের।

লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পালাবদলের পর সেই ঘটনার জল গড়ায় আদালত অবধি। খোদ বিচারপতি খোঁচা দিয়ে অরূপ বিশ্বাসকে প্রশ্ন করেছিলেন, “মেসি কি আপনার বাল্যবন্ধু?” সেই ঘটনার রেশেই ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে প্রাক্তন মন্ত্রী ভবিষ্যদ্বাণী করেন, “আমার ধারণা, মেসি গোল্ডেন বুট পাবেন।” রবিবার চূড়ান্ত ম্যাচের আগে সেই মন্তব্য দাবানল গতিতে ভাইরালও হয়। সেই প্রেক্ষিতেই ফাইনালে আর্জেন্টিনার হারের পর আবারও উত্তরোত্তর কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে অরূপ বিশ্বাসকে। এমন আবহে বিরোধী শিবিরের প্রাক্তন মন্ত্রীকে খোঁচা দিতে ছাড়লেন না রুদ্রনীল ঘোষও। নিজস্ব বিধানসভা কেন্দ্রে ফাইনাল ম্যাচ দেখার আয়োজন করেছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। সেখানেই দলীয় সদস্য, সমর্থকদের নিয়ে স্পেন বনাম আর্জেন্টিনার ম্যাচ উপভোগ করেন বিজেপির তারকা বিধায়ক। তবে নীল-সাদা জার্সিতে মেসির ভক্ত হিসেবে গলা ফাটালেও শেষরাতে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা! বুকে কষ্ট চেপে মেসিবাহিনির হারের নেপথ্যের কারণ জানালেন রুদ্রনীল ঘোষ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিনেতা-বিধায়কের মন্তব্য, “আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হতে পারি। মেসির ফ্যান হতে পারি, কিন্তু ব্রিলিয়ান্টলি যারা খেলেছে, তারাই জিতল। দুঃখ হচ্ছে, অনেকে অনেক কিছু বলছে, বুকে পাথর চাপা দিয়ে সয়ে নিচ্ছি। আবার পরের বিশ্বকাপে দেখা হবে, তখন নাহয় আরও কথা হবে। অনেকে বলছেন, অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যদি মেসির দেখা না হত, তাহলে হয়তো রেজাল্টটা অন্যরকম হত। কী করা যাবে, দুঃখ পেয়েছি।” ডিসেম্বরে ভারত সফরে এসেছিলেন লিওনেল মেসি। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে সামনে থেকে একঝলক দেখার জন্য উদগ্রীব হয়েছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। মোটা টাকা খরচ করে টিকিটও কেনেন। কিন্তু চূড়়ান্ত বিশৃঙ্খলার কারণে সময়ের আগেই যুবভারতী ছাড়েন মেসি। তারপর ক্ষোভে ব্যাপক ভাঙচুর চালান দর্শকরা। এই ক্ষোভের কারণ ছিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কারণ, ঘটনার দিন শুরু থেকে মেসির সঙ্গে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে মেসির সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবি-ভিডিও। তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও মেসির ছবি দেখা যায়। কিন্তু অব্যবস্থার অভিযোগে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করা হয় মেসির ভারত সফরের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে। তিনি ছাড়া পেতেই অরূপের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। বলেন, “গা জোয়ারি করে, প্রভাব খাটিয়ে মেসির কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন অরূপ।” সেই ঘটনার জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। এমন আবহে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের দায় অরূপ বিশ্বাসের উপরই চাপালেন রুদ্রনীল ঘোষ।




