RK NEWZ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করল চুঁচুড়ার প্রথম দায়রা আদালত। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য, আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ায় আর তাঁকে গ্রেফতারে বাধা রইল না গত ৭ জুলাই চন্দননগর পুরসভার এক ঠিকাদার প্রদীপ দে তোলাবাজির অভিযোগ তুলে থানার দ্বারস্থ হন। অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে তাঁর থেকে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পুরসভারই কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন প্রদীপ। প্রতারণার অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। প্রদীপের অভিযোগের তির ছিল চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধেও। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে চন্দননগর থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে আগেই চন্দননগর পুরসভার প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র মুন্না অগ্রবালকে গ্রেফতার করা হয়। পরে এই মামলাতেই পুরসভার চিফ ইঞ্জিনিয়ার শৈবাল রায়কেও পাকড়াও করেছিল পুলিশ। তবে আগাম জামিন চেয়ে চুঁচুড়ার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ইন্দ্রনীল। মঙ্গলবার ইন্দ্রনীলের আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি ছিল। সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় আদালতে আবেদন করেন, যাতে কোনও অবস্থাতেই ইন্দ্রনীলের আগাম জামিন মঞ্জুর না-করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, চন্দননগর বিধানসভা উৎসবের নাম করে অনেকের থেকে টাকা ইন্দ্রনীল টাকা তুলেছিলেন। তবে সেই টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। শুনানি শেষে প্রাক্তন মন্ত্রীর আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক। হুগলি জেলা মুখ্য সরকারি আইনজীবী শঙ্কর বলেন, ‘‘তোলাবাজির অভিযোগে আগেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বার প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের আবেদন বাতিল হওয়ায় তাঁকে আর গ্রেফতার করায় কোনও বাধা রইল না পুলিশের।’’ আদালতের নির্দেশের পর ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে সরব বিজেপি। চন্দননগরের বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ বলেন, ‘‘ঠাকুর ঘরে কে, আমি তো কলা খাইনি। কেন তিনি আগাম জামিনের আবেদন করলেন, তা বুঝতে পারলাম না। আমার মনে হয় উনি নিজেই প্রমাণ করলেন, সব অভিযোগ সত্যিই।’’ রাজ্যে পালাবদলের পর পরই ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছিল। তৃণমূল জমানায় সরকারি অনুষ্ঠানে সুযোগ না-পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন শিল্পীদের একাংশ। শুধু তা-ই নয়, দুর্গাপুজো নিয়ে বেআইনি ভাবে ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছিল সস্ত্রীক ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। যদিও সেই মামলায় কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী।




