Monday, July 27, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘‌জয় তো সবে শুরু’‌!‌ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেই শেষ নয়! পরবর্তী রণকৌশল ঘোষণা করবে ককরোচ জনতা পার্টির দীপকে

RK NEWZ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর নিট আন্দোলন স্থগিত করলেও লড়াই থামেনি! পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং পড়ুয়াদের ওপর দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চলেছে সিজেপি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর টানা ৩৭ দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সাময়িক বিরতি টেনেছে ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’। কিন্তু নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম নিয়ে তাঁদের আন্দোলন যে এখানেই থেমে যাচ্ছে না, তা স্পষ্ট করে দিল দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সম্প্রতি আন্দোলন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করলেও, পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে খুব শীঘ্রই পরবর্তী পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হবে বলেও দেশের পড়ুয়াদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি। শীঘ্রই আসবে পরবর্তী রণকৌশল। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, মাত্র গতকালই আন্দোলন স্থগিত রাখা হয়েছে। এই আন্দোলনের ফলাফল এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। মূল আন্দোলন কিছুটা সময়ের জন্য থামলেও এটি কোনও ইতি টানা নয়, বরং আরও বড় এক আন্দোলনের সূচনা মাত্র। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র নিট বিতর্ক নয়, পাঞ্জাবে যে সমস্ত পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোকেও তারা নতুন করে তুলে ধরবেন। সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই ব্লু প্রিন্ট তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। আন্দোলন প্রত্যাহার হলেও কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা যে পুরোপুরি থেমে নেই, তা স্পষ্ট করেছেন দীপকে। তিনি জানান, বিক্ষোভ চলাকালীন বেশ কিছু পড়ুয়া ও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এখন মূল নজর সেই আইনি মামলাগুলো প্রত্যাহারের দিকে। তাঁর বক্তব্য, “কোনও সাধারণ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রাখা যাবে না।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে পরপর তিন দফায় বৈঠকের পরই সিজেপি তাদের দেশব্যাপী এই দীর্ঘ আন্দোলন সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়। আগামী চার সপ্তাহ পর আবারও উভয় পক্ষ বৈঠকে বসবে এবং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা করবে। আন্দোলন প্রত্যাহারের পর বাড়ি ফিরে অভিজিৎ দীপকে এক ভিডিও বার্তায় সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান এবং স্বীকার করেন যে, এই ৩৭ দিন তাঁদের সকলের জন্যই অত্যন্ত কঠিন ছিল। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে তিনি যুবসমাজের এক ঐতিহাসিক জয় হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে একইসঙ্গে সতর্ক করে তিনি জানান, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা না আসা পর্যন্ত লড়াই জারি থাকবে, এই জয় তো স্রেফ শুরু।

‘অন্যায় দেখলে তরুণরা গর্জে উঠবেই’, নিট আন্দোলনকে সমর্থন নির্মলার! স্মরণ করলেন নিজের জেএনইউ-র দিনগুলিও। নিট-প্রশ্নফাঁস বিতর্ক ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিয়ে বড় বয়ান নির্মলা সীতারামনের। “পড়ুয়াদের প্রতিবাদ সরকার কখনও আটকায়নি”, এনডিটিভি-র সাক্ষাৎকারে মন্তব্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর। ‘কেন্দ্র কখনওই ছাত্রদের এই প্রতিবাদ বন্ধ করার চেষ্টা করেনি।’ ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরদিনই নিট আন্দোলন নিয়ে কথা বললেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। রবিবার এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের জেএনইউ-এর দিনগুলির কথাও স্মরণ করলেন।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে অর্থমন্ত্রী নিজের জেএনইউ-এর ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতা টেনে বলেন, “প্রতিটি প্রজন্মের তরুণরাই আদর্শহীন বা ভুল কিছু দেখলে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। তারা সঠিক, দ্রুত এবং কার্যকরী পদক্ষেপ চায়, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক। সরকার এই আন্দোলনকে হালকাভাবে নেয়নি বা থামানোর চেষ্টা করেনি। অনুমতি নিয়েই পড়ুয়াদের বিক্ষোভ করতে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই আন্দোলন থেকে সরকারের শেখা উচিত যে, তাদের সব সময় মাটির কাছাকাছি থাকতে হবে যাতে সাধারণ মানুষের মনের কথা সহজেই বোঝা যায়।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দিতে কেন কিছুটা সময় লাগল, সেই প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নফাঁসের খবর সামনে আসার পরই প্রথম কাজ ছিল অপরাধীদের গ্রেফতার করা এবং দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা, যাতে শিক্ষার্থীদের একটি পুরো বছর নষ্ট না হয়। স্পষ্ট জানান, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সেই পুনর্মূল্যায়ন ও পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করেন এবং ফলাফল প্রকাশের পরই নিজের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন। যদি পরীক্ষা শেষ না করে আগেই তিনি সরে দাঁড়াতেন, তবে তা পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রতি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ হত। জেন-জি-র ভাষা শেখার তাগিদ ও আইনি বাধ্যবাধকতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন প্রজন্মের ভাষা ও প্রতিবাদের ধরণ নিয়েও মন্তব্য করেন সীতারামন। তিনি স্বীকার করেন যে, তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সরকারের ভাষা আরও সহজ হওয়া উচিত। এর একটি সীমানাও তিনি মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “সরকার যখন কোনও মন্তব্য করে, তা আদালতে আইনি পর্যালোচনার মুখে পড়তে পারে। তাই সরকারের বক্তব্য এমন হতে হয় যা আদালতে টিকবে, চাইলেও খুব হালকা বা অস্পষ্ট ভাষা ব্যবহার করা সম্ভব নয়।” নিটকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলা মাসব্যাপী এই বিশাল ছাত্র আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় সরকারের এক শীর্ষ মন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, তরুণদের এই ক্ষোভ ও প্রতিবাদকে সরকার যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গেই বিচার করছে।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবত বলেছেন, এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের মানুষরা ভারতীয় সমাজেরই অংশ এবং তাঁদের সমান মর্যাদা ও অধিকার প্রাপ্য। হায়দরাবাদের এক অনুষ্ঠানে ভাগবত মন্তব্য করেন যে, সমকামিতা বা রূপান্তরকামিতার মতো প্রবণতাগুলি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এবং প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয় সংস্কৃতিতে তাঁদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) সম্প্রদায়ের মানুষদের সমাজ থেকে আলাদা করে দেখার কিছু নেই, ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে চিরকালই তাঁদের মর্যাদা ও জায়গা দেওয়া হয়েছে, রবিবার হায়দরাবাদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-এর সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। হায়দরাবাদে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে ভাগবত বলেন, “আমাদের সমাজে এলজিবিটিকিউ+ এবং এই ধরনের সমস্ত সম্প্রদায়ের উপস্থিতি বরাবরই রয়েছে। এই প্রবণতাগুলি সমাজেরই অংশ। কিছু বিষয় প্রাকৃতিক বা জন্মগত, তারা ঠিক যেভাবে জন্মেছে সেটাই তাদের পরিচয়। আবার কিছু জিনিস পরবর্তীকালে শারীরিক বা মানসিক প্রবণতার কারণে তৈরি হয়।” “তারাও মানুষ, বাঁচার অধিকার আছে” আরএসএস প্রধান জোর দিয়ে বলেন, রূপান্তরকামী বা সমকামী মানুষদের সমাজচ্যুত বা একঘরে করে রাখা কোনওভাবেই উচিত নয়। তিনি যোগ করেন, “আমাদের সনাতন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তাঁদের অস্তিত্বকে স্বীকার করে। তাঁরাও মানুষ এবং তাঁদের সমানভাবে বাঁচার অধিকার রয়েছে। সমাজিক জীবনের এক বিশাল ক্যানভাসে তাঁদের নিজস্ব স্থান রয়েছে।” ভারতীয় সমাজ ঐতিহাসিকভাবেই বৈষম্যের বদলে এই ধরনের বিষয়গুলিতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছে উল্লেখ করে মোহন ভাগবত বলেন, “আজও তাঁদের নিজস্ব দেব-দেবী, মন্দির রয়েছে। এমনকি কুম্ভমেলায় তাঁদের ‘মহামণ্ডলেশ্বর’রা অংশগ্রহণ করেন। ভারতীয় সমাজ চিরকালই বিষয়টিকে অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে দেখেছে এবং তাঁদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে।” সমকামিতা এবং এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়কে নিয়ে মোহন ভাগবতের এই মানবিক বার্তা অবশ্য প্রথম নয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন। ২০২৩ সালে আরএসএস ঘনিষ্ঠ একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এলজিবিটিকিউ+ মানুষদের নিজেদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্থান পাওয়া উচিত। মানুষ হিসেবে অন্যদের মতোই তাঁদের স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার রয়েছে।” মহাভারত ও হিন্দু শাস্ত্রের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেছিলেন, ভারতীয় সভ্যতা কখনোই তাঁদের বর্জন করেনি। ২০১৯ সালের অক্টোবরে একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে মহাভারতের ‘শিখণ্ডী’-র চরিত্র উল্লেখ করে ভাগবত বলেছিলেন, লিঙ্গ ও যৌনতার বৈচিত্র্য ভারতীয় সমাজে বহুকাল ধরে রয়েছে। একে নিয়ে অহেতুক সেনসেশন তৈরি করার প্রয়োজন নেই, বরং সময়ের সঙ্গে সমাজকে বদলে যেতে হবে। আইনি প্রেক্ষাপট ও আরএসএস-এর অবস্থান হল ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা বন্ধ করে সমকামিতাকে অপরাধমুক্ত করে। সেই সময়ও আরএসএস আদালতের এই রায়কে সমর্থন জানিয়ে বলেছিল, প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিক্রমে সমকামিতা কোনও অপরাধ নয়। সমকামী বিবাহ বা এই সংক্রান্ত অন্যান্য আইনি স্বীকৃতির বিষয়ে আরএসএস কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়ে এসেছে। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট যখন সমকামী বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে, তখন সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিল সংঘ। মোহন ভাগবতের রবিবারের এই বক্তব্য অবশ্য স্পষ্ট করে দেয় যে, বিয়ের আইনি জটিলতা যা-ই থাক না কেন, এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের সামাজিক মর্যাদা ও অধিকারের বিষয়ে আরএসএস কোনও বৈষম্যের পক্ষে নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles