Sunday, July 26, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘‌আজকে যিনি কয়লা মন্ত্রী কালকে দেখেন শিক্ষা’‌!‌ পাঁচ বারের সাংসদ! দেশের নয়া শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা?

RK NEWZ নচিকেটার সেই বিখ্যাত গান — ‘‌আজকে যিনি কয়লা মন্ত্রী কালকে দেখেন শিক্ষা’‌। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন প্রাক্তন কয়লামন্ত্রী। কলেজজীবনে আরএসএস-এ নাম লেখালেও সেই সময় রাজনীতির দিকে বিশেষ নজর দেননি দেশের নয়া শিক্ষামন্ত্রী। স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি বেশ কিছু দিন ব্যবসায়ীর জীবন কাটান। এর পর কোমর বেঁধে রাজনীতির ময়দানে নামেন। নিটের প্রশ্নফাঁস ঘিরে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছিল আন্দোলন। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তরফে সেই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হয় বিক্ষোভ। ক্রমেই তা দেশের অন্যান্য জায়গা-সহ বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের প্রধান দাবি ছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। অবশেষে সেই দাবি মানল কেন্দ্র। ২৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন ধর্মেন্দ্র। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নিয়ম অনুযায়ী তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। রাষ্ট্রপতি সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেন। দীর্ঘ আন্দোলন চলাকালীন সরকারের সঙ্গে সিজেপি-র প্রতিনিধিদের দু’দফা বৈঠক হয়। নিজেদের দাবিতে অনড় ছিলেন আন্দোলনকারীরা। শনিবার বিকেলে তৃতীয় দফার আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। সেই বৈঠকের আগেই পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার পর শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়ে প্রহ্লাদ জোশীকে। শনিবার রাতেই বিজেপির তরফে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়াতেই প্রহ্লাদ জানান, তিনি সাধ্যমতো দায়িত্ব পালন করবেন। নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রকের কাজ চালাবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন দেশবাসীকে। শিক্ষা মন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়ার আগেই নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার বর্ষীয়ান এই সদস্য কেন্দ্রের অপর দু’টি মন্ত্রকের দায়িত্বে আছেন। প্রহ্লাদ ইতিমধ্যে উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক এবং নতুন ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রক সামলাচ্ছেন। শনিবার তাঁর রাজনীতির মুকুটে অন্য একটি পালক যুক্ত হল। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই প্রহ্লাদ কেন্দ্রের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক সামলেছেন। মনে করা হচ্ছে, সংসদে প্রহ্লাদের অভিজ্ঞতা, কক্ষের কার্যক্রম সামলানোর দক্ষতা এবং কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা এ ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। হয়তো সেই কারণেই কঠিন সময়ে বৈতরণী পার করানোর জন্য শিক্ষামন্ত্রীর পদে প্রহ্লাদকে বেছে নিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। অন্যান্য বিজেপি মন্ত্রীর মতোই প্রহ্লাদেরও রাজনীতি জীবনে প্রবেশ ঘটে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) হাত ধরে। ১৯৬২ সালের ২৭ নভেম্বর কর্নাটকের বিজয়াপুরে জন্ম হয় প্রহ্লাদ জোশীর। হুব্বালিতেই স্কুলজীবন কাটে তাঁরা। এর পর কর্নাটক বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা স্বীকৃত হুব্বালির কে এস আর্টস কলেজ থেকে জোশী কলা বিভাগে স্নাতক হন। কলেজজীবনে আরএসএস-এর কর্মী তালিকায় নাম লেখালেও, সেই সময় রাজনীতির দিকে বিশেষ নজর দেননি দেশের নয়া শিক্ষামন্ত্রী। স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি বেশ কিছু দিন ব্যবসায়ীর জীবন কাটান। এর পর তিনি কোমর বেঁধে রাজনীতির ময়দানে নামেন। প্রহ্লাদ আলোচনায় উঠে আসেন ১৯৯০-এর হুব্বালি ইদগাহ ময়দান আন্দোলনের সময়। বিজেপি এবং আরএসএস কর্মীদের নেতৃত্বে এই আন্দোলনে হুব্বালির এক বিতর্কিত মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সেই আন্দোলনে প্রহ্লাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এর পর আর জোশীকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি বিজেপির হয়ে রাজনীতির ময়দানে কাজ করে চলেন। ফলস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি কর্নাটকের ধারওয়াড়ে প্রথম বারের জন্য লোকসভার নির্বাচনে লড়ার টিকিট পান। বিপুল ভোটে জয়ীও হন। বিজেপি কর্মী থেকে বিজেপির সাংসদে পরিচয় বদলায় জোশীর। ২০০৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল, পর পর পাঁচ বার ধারওয়াড় লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির মুখ প্রহ্লাদ। প্রতি বারই তিনি জেতেন। প্রহ্লাদের এই ধারাবাহিক নির্বাচনী সাফল্য তাঁকে কর্নাটকের অন্যতম দীর্ঘকালীন বিজেপি সাংসদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রহ্লাদ কর্নাটকে বিজেপির সভাপতির ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৯ সালে কেন্দ্রে বিজেপি আসার পর মোদী প্রহ্লাদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্ন্তভুক্ত করেন। প্রথম চার বছর প্রহ্লাদ সংসদ বিষয়ক বিভিন্ন কার্যকলাপ সামলানোর পাশাপাশি কয়লাখনি সংস্কার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ কয়লা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করেছেন। ২০২৪ সাল থেকে প্রহ্লাদের ঘাড়ে চাপে নতুন দায়িত্ব। ভোক্তা কল্যাণ, খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে গুরুত্ব দেওয়ার কাজ দেওয়া হয় প্রহ্লাদকে। এই কাজে জাতীয় সবুজ হাইড্রোজেন মিশন এবং দেশে সৌরশক্তির সম্প্রসারণও অন্তর্ভুক্ত। সংসদীয় মন্ত্রী হিসাবে প্রহ্লাদের ৩৭০ ধারা বাতিল এবং নারী সংরক্ষণ বিল-সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন পাশের ক্ষেত্রে ভূমিকা রয়েছে। এরই সঙ্গে পুনর্ব্যবহৃত শক্তির মন্ত্রী হিসাবে তাঁর লক্ষ্য রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে পুনর্ব্যবহৃত এবং জীবাশ্মবহির্ভূত উৎস থেকে ৫০০ গিগাওয়াট পর্যন্ত শক্তি উৎপাদন করা। এরই সঙ্গে বিজেপির বর্ষীয়ান নেতার ২০৭০ সালের মধ্যে ‘নেট-জিরো’ (নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণ) লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর মতে, এটি ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে প্রমাণিত হবে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করা সে ভাবে পছন্দ করেন না দেশের নয়া শিক্ষামন্ত্রী। তবে, রাজনৈতিক এই ব্যক্তিত্ব ব্যক্তিগত জীবনে একজন সাংসারিক মানুষও বটে। ১৯৯২ সালের নভেম্বরে বিয়ে হয় প্রহ্লাদের। তাঁর স্ত্রীর নাম জ্যোতি জোশী। তাঁদের তিনটি মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে অর্পিতা জোশীর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাকি দুই মেয়ে, অনুষা জোশী এবং অনন্যা জোশী এখনও শিক্ষাজীবনের গণ্ডি পেরোয়নি। এত বছর ধরে কেন্দ্রের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করার পর পাঁচ বারের সাংসদের ঘাড়ে এখন দেশের শিক্ষার ভার। তাঁর আমলে দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কী আপেক্ষা করছে, তা দেখার জন্য মুখিয়ে গোটা দেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles