Tuesday, July 21, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ছাত্রদের বিক্ষোভে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস,পুলিশের লাঠিচার্জে মহিলার মৃত্যু? নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে ধর্নায় রাহুলেরা, হঠাৎ হাজির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

RK NEWZ ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিযান কর্মসূচিতে পড়ুয়াদের উপর ব্যাপক লাঠিচার্জের ঘটনায় কলঙ্কিত দিল্লি পুলিশের। সোশাল মিডিয়ায় রাষ্ট্রযন্ত্রের এহেন আগ্রাসনের বহু ছবি ও ভিডিও রীতিমতো ভাইরাল। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের নির্মম মারে বহু পড়ুয়া আহত হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই এবার এই ইস্যুতে মুখ খুলল মোদি সরকার। কেন্দ্রের দাবি, সোশাল মিডিয়ায় যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো বা পিআইবি তরফে এক্স হ্যান্ডেলে এই ইস্যুতে বিবৃতি জারি করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে সোশাল মিডিয়ায় একাধিক দাবি সামনে এসেছে। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালীন এমন কোনও মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসেনি।’ সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের পোস্ট দেখে বিভ্রান্ত না হওয়ায় আর্জি জানিয়েছে সরকার। পাশাপাশি যাচাই না করে কোনও তথ্য সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। এবং সন্দেহজনক এমন কোনও পোস্ট দেখলে ফেক্ট চেক টিমকে জানানোর কথা বলেছে পিআইবি। ঘটনায় কোনও পড়ুয়ার মৃত্যু না হলেও জানা যাচ্ছে, পুলিশের মারে বহু পড়ুয়া আহত হয়েছেন। রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে ভর্তি রয়েছেন এক যুবতী। সূত্রের খবর, পুলিশের মারে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি। আহত আর এক যুবতীকে ভর্তি করা হয়েছে আরএমএল হাসপাতালের ভেন্টিলেশনে। গত সোমবার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, সিজেপির বিক্ষোভ চলাকালীন আহত হয়েছেন ১১৮ জনের বেশি পুলিশকর্মী। অন্যদিকে সিজেপির ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। পুলিশ অনুমতি না দিলেও গত সোমবার পূর্বঘোষিত সংসদ অভিযানে নেমেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। এই কর্মসূচি আটকাতে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল ৫০০০ পুলিশ, আধাসেনা ও র‍্যাপিড পুলিশ ফোর্স। ছাত্ররা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করতেই তাঁদের উপর শুরু হয় লাঠিচার্জ। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাঠায় পুলিশ। পুলিশের উপর দিল্লি পুলিশের সেই নির্মম মারের ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশাল মিডিয়ায়।

রাহুল গাঁধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রিয়ঙ্কা বঢরা গাঁধী-সহ কংগ্রেস নেতা-নেত্রীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলোর অদূরে ধর্না-বিক্ষোভ শুরু করার পরে তাঁদের সঙ্গে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের মিছিলে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে ‘পুলিশি হামলা’র প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের অদূরে ধর্নায় বসলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। রাহুলের বোন তথা কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা, এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল-সহ দলের সাংসদেরা মঙ্গলবার লোককল্যাণ মার্গের ওই অবস্থান আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। রাহুল গাঁধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রিয়ঙ্কা বঢরা গাঁধী-সহ কংগ্রেস নেতা-নেত্রীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোককল্যাণ মার্গের বাংলোর অদূরে ধর্না-বিক্ষোভ শুরু করার পরে তাঁদের সঙ্গে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের অন্তর্গত ওই এলাকা থেকে ধর্না প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইস্তফাও দাবি করেছেন রাহুলেরা। মেডিক্যাল প্রবেশিকায় (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকে সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সোমবার অশান্ত হয়েছিল দিল্লি। পুলিশের লাঠি-কাঁদানে গ্যাসের বাধা কাটিয়ে সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তার কারণে সংসদের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের সাংসদেরা। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যেরাও। সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ। এক মাস আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি তুলে সিজেপি যন্তর মন্তরে যে আন্দোলনে নেমেছিল, তাকে গোড়ায় ধর্তব্যের মধ্যে আনেননি নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা। কিন্তু ধর্নাস্থলে সোনম ওয়াংচুকের যোগদান ও টানা অনশন, জনসমর্থন এবং আজ সরকারের বিরুদ্ধে পথে জনতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভের উদ্‌গীরণ দেখে সমাধান সূত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডাকে। বিক্ষোভে ইতি টানতে দফায় দফায় সিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সিজেপি-র দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিও।

লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেও ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সংসদ অভিযান পুরোপুরি রুখতে পারেনি পুলিশ। বরং পুলিশের বাধা কাটিয়েই সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে যান বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের মিছিল এগিয়ে আসতেই নিরাপত্তার কারণে সংসদের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের সাংসদেরা। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যেরাও। এই পরিস্থিতিতে সিজেপি-র সংসদ অভিযান নিয়ে আগে থেকেই সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার পথে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে শ্রমশক্তি ভবনের কাছে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের শেলও ছোড়া হয়। তার পরেও অবশ্য বিক্ষোভকারীদের একাংশ সংসদ ভবনের দিকে এগোতে থাকেন। তবে শেষপর্যন্ত সংসদ ভবন পর্যন্ত পৌঁছোতে পারেননি তাঁরা। আগেই আটকে দেয় পুলিশ। বেশ কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের বাসে চাপিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ। নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সেই মতো সকালে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে মিছিল বার হয়। যদিও এই কর্মসূচির জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃষ্টির মধ্যে বর্ষাতি পরেই মিছিলে শামিল হন অনেকে। তাঁদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং ভারতের সংবিধান। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রায় ২০ হাজার মানুষ (যাঁদের অধিকাংশই ছাত্র-যুব) সোমবারের কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন।

সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-কেও পুলিশ আটক করেছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। তবে পরে পুলিশ এই দাবি অস্বীকার করে। সিজেপি তাঁদের আন্দোলনকে সমর্থন করার আর্জি জানিয়েছে দেশের সব সাংসদকে। সকালে সিজেপি সংসদ অভিযান কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টি (এসপি)-র সাংসদ তথা অখিলেশ যাদবের পত্নী ডিম্পল যাদব। এসপি-র দাবি, ডিম্পল এবং দলের অন্য নেতা-কর্মীদের আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। সিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হয় সরকার। সোমবার সিজেপি-র সংসদ ভবন অভিযানের মধ্যেই সরকারের তরফে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে দাবি। সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডার সঙ্গে তাঁর বাসভবনে দেখা করতে যান। সিজেপি-র তরফে কেন্দ্রের কাছে মূলত তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। সেগুলি হল, সোনম ওয়াংচুককে দ্রুত হাসপাতাল থেকে মুক্তি দিতে হবে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হবে এবং যে নিট পরীক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বৈঠক শেষে নড্ডা অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles