RK NEWZ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যাঞ্চেজের সঙ্গে দেখা করবেন রদ্রিরা। সেখান থেকে হুডখোলা বাসের মাধ্যমে প্যারেড করে যাওয়া হবে মধ্য মাদ্রিদের বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন মনক্লো প্যালেস থেকে সিবেলেস স্কোয়্যারে যাবে স্পেন। সাধারণত ফুটবল দল কোনও ট্রফি জিতলে সিবেলেস স্কোয়্যারে গিয়ে উৎসব করে দল। এ বারও তার ব্যতিক্রম হবে না। স্পেনকে স্বাগত জানাতে এ দিন প্রচুর সমর্থক হাজির ছিলেন বিমানবন্দরে। ইয়ামাল, রদ্রি, মার্ক কুকুরেয়া, ফেরান তোরেসদের নামে তাঁরা জয়ধ্বনি দিতে থাকেন। বিমানবন্দর থেকে স্পেনের বাসের পিছনেও আসতে থাকেন প্রচুর সমর্থক। স্পেনের বাস যেখান দিয়েই গিয়েছে, সেখানেই প্রচুর সমর্থক বাসের দু’ধারে দাঁড়িয়ে হাত নেড়েছেন। সকাল থেকে সিবেলেসে প্রচুর সমর্থক জড়ো হতে থাকেন। অনেকেই সারারাত ঘুমোননি। সেই অবস্থাতেই হাজির হয়েছেন। তাল কিছুটা কেটেছে ১৩ বছরের এক কিশোরের মৃত্যুতে। মাদ্রিদের উত্তর-পূর্বে সালামাঙ্কায় এক কিশোর ঝর্নার উপরে উঠে বন্ধুদের সঙ্গে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল। হঠাৎ সেই ঝর্নাটি ভেঙে পড়ে। বিশ্বকাপ জেতার পর দেশে ফিরল স্পেন। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে মাদ্রিদে নামে স্পেন দলের বিমান। একে একে বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন রদ্রি, লেমিন ইয়ামাল, মার্ক কুকুরেয়ারা। রদ্রির হাতে বিশ্বকাপ ছিল। তিনি সেটি সমর্থকদের দিকে তুলে ধরে দেখান। বিশ্বজয়ী স্পেনকে স্বাগত জানানোর জন্য একাধিক পরিকল্পনার কথা ভাবা হয়েছে।

বয়স মাত্র সাড়ে তিন। এই বয়সেই সেলিব্রেটি কেইন ইয়ামাল। নাম শুনেই আশা করি বোঝা যাচ্ছে কে এই খুদে? সে হল স্পেনের ফুটবল তারকা লামিনে ইয়ামালের ভাই। অনেকে তো কেইনকে বিশ্বকাপের সেরা ফ্যান তকমা দিয়ে দিয়েছে। বিশ্বজয়ের মঞ্চ মাতাল তার কাণ্ড। মাঠ জুড়ে ঘুরে বেড়াল, দাদার কোলে উঠে পড়ল। কখনও বা খোদ মার্কিন পুলিশকেই প্যাঁচে ফেলে দিল। ভাইরাল কেইনের কাণ্ডকারখানা। এর আগে ইউরোজয়ের মঞ্চে ছিল কেইন। তখন আরও অনেক ছোট ছিল। বয়স যত বাড়ছে, তত দুষ্টুমি বাড়ছে। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। সেলিব্রেশনের মঞ্চে ছিল স্পেনের ফুটবলারদের পরিবার। ১৯ বছর বয়সি ইয়ামালের প্রেমিকাও ছিল। তবে নজর কাড়ল কেইনই। বিশ্বকাপের স্মারক হিসেবে অনেকে গোলপোস্টের জাল কেটে রাখে। সেই জাল নিয়ে মাতামাতি সাড়ে তিন বছরের খুদের। এর মধ্যে এক পুলিশ অফিসার তার সঙ্গে খুনসুটি করছিলেন। পুলিশের বড় টুপিটাও কেইনের মাথায় পরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টা বোধহয় ভালোভাবে নেয়নি সে। ওই কাটা জাল পুলিশের দিকে ছুড়ে ‘গ্রেপ্তারে’র চেষ্টা করে। আবার কখনও মাঠময় ছুটে বেরোয়। দাদার কোলে উঠে নাচও করে। তবে মুশকিল একটাই। বিশ্বকাপ ট্রফিতা ওজনে ভারী। সেটা কি আর সে তুলতে পারে? চেষ্টা করেছিল। শেষমেশ না পেরে ট্রফি জড়িয়ে ধরে জিভ ভেঙাতে থাকে। বিশ্বকাপে স্পেনের সব ম্যাচেই তাকে নিয়ে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকছেন লামিনের মা শেইলা ইবানা। এমনও দেখা গিয়েছে, মায়ের কোল থেকেই মাঠে দাঁড়ানো দাদার উদ্দেশ্যে ‘ফ্লাইং কিস’ দিচ্ছে কেইন। পাল্টা আদর ফিরিয়ে দিয়েছেন লামিনেও। ভাইয়ের প্রতি দাদার ভালোবাসা অকৃত্রিম। বহু সাক্ষাৎকারে কেইনকে নিজের সবচেয়ে প্রিয় বলেও উল্লেখ করেছেন লামিন। দাদাকে উৎসাহ দিতে তাই মার্কিন মুলুকে শহরে শহরে ঘুরেছে এই খুদেও। আর ফাইনালে প্রচারের আলো তার উপরই।




