RK NEWZ উৎসবে রাজনৈতিক দখলদারি না করার স্পষ্ট বার্তা দিলেন দলকেও। শমীক জানিয়েছেন, কলেজ স্কোয়্যার কমিটির তরফে খুঁটি পুজোর জন্য যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তা তিনি রক্ষা করবেন। আগামী বৃহস্পতিবার তিনি সেখানে যাবেন, তবে পুজো কমিটির কোনও পদে থাকবেন না। শহরের নামী পুজোগুলির রাশ কার হাতে থাকবে? পালাবদলের পরেই শুরু হয়েছিল জল্পনা। বিভিন্ন পুজোর সঙ্গে নাম জড়াচ্ছিল বিজেপি নেতা-সাংসদ-বিধায়কদের। এ বার সেই জল্পনাতেই জল ঢাললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। স্পষ্ট জানালেন, তিনি কলেজ স্কোয়্যারের পুজোর সভাপতি হচ্ছেন বলে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা ভুল। রাজ্যের কোনও পুজো কমিটিরই সভাপতি তিনি হচ্ছেন না। সেই সঙ্গে বিজেপির নেতা, বিধায়ক, সাংসদদেরও দিয়েছেন কড়া বার্তা। সমাজমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন, পুজোগুলিতে রাজনৈতিক দখলদারি চলবে না। পূর্বতন সরকারের আমলে কলকাতা-সহ রাজ্যের ছোট-মাঝারি-বড় পুজোগুলিকে নিজেদের ছাতার তলায় নিতে দেখা গিয়েছিল শাসকদল তৃণমূলকে। অভিযোগ ছিল, কোনও নেতা-মন্ত্রীর নাম পুজোর সঙ্গে না-জুড়লে প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিলত না। হেনস্থার শিকার হতে হত। কিছু পুজো কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক স্পষ্ট জানিয়েছেন, উৎসবের আনন্দ মানুষের হাতে থাক, রাজনীতির দখলে নয়।
জল্পনা তৈরি হয়েছিল, সুরুচি সঙ্ঘের পরে কলেজ স্কোয়্যারের পুজো কমিটির মাথাতেও বসছেন বিজেপি নেতা। সূত্রের খবর, শমীককে পুজোর সভাপতি পদে বসার জন্য কমিটির তরফে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। শমীক স্পষ্ট জানিয়েছেন, সেই আবেদন তিনি গ্রহণ করেননি। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘কলেজ স্কোয়্যারের দুর্গাপুজোর সভাপতি আমি হচ্ছি না। শুধু কলেজ স্কোয়্যার নয়, রাজ্যের কোনও দুর্গাপুজোর সভাপতি আমি হব না, কিংবা কোনও পুজোর পরিচালনার দায়িত্ব নেব না।’’ শমীক জানিয়েছেন, কমিটির তরফে খুঁটি পুজোর জন্য যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তা তিনি রক্ষা করবেন। আগামী বৃহস্পতিবার তিনি সেখানে যাবেন, তবে কমিটির কোনও পদে থাকবেন না। কেন, তা-ও স্পষ্ট করেছেন শমীক। তিনি জানিয়েছেন, মানুষের পরিষেবা বন্ধ করে পুজোর বিষয়টি ঠিক নয়। পুজো কমিটি, ক্লাব দখল বিজেপি করে না। এর পরেই বিজেপি নেতাদেরও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন শমীক। তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘এক জন বিধায়ক বা মন্ত্রী নিজের এলাকার কোনও পুজো কমিটির সভাপতি হতে পারেন, সেটা তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, রাস্তায় বেরিয়ে একের পর এক পুজোর দায়িত্ব রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিধায়ক, সাংসদ বা রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজেদের হাতে তুলে নেবেন।’’ পুজো কমিটিগুলির স্বাধীনতা, স্বাতন্ত্র নিয়েও সওয়াল করেছেন শমীক। জানিয়েছেন, রাজ্যের পুজোগুলির ‘সর্বজনীন চরিত্র’ যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, তাই বিজেপির তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলকাতার অন্যতম দুর্গাপুজো সুরুচি সঙ্ঘে এ বছর বড় সাংগঠনিক পরিবর্তন ঘটেছে। সম্পাদক করা হয়েছে উত্তর দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদারকে। একই সঙ্গে ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। দীর্ঘ দিন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব সামলানো স্বরূপ বিশ্বাসকেও এ বারের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়। তার পরেই কলেজ স্কোয়্যারের সভাপতি পদ নিয়ে তৈরি হয় জল্পনা। এ বার সেই প্রসঙ্গেই শমীক দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন। তিনি বললেন, ‘‘দুর্গাপুজো সর্বজনের, কোনও রাজনৈতিক দলের নয়।’’
কলেজ স্কোয়ারের পুজোর সভাপতি হচ্ছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য! মঙ্গলবার সকাল থেকেই এই তথ্য ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। অবশেষে এবিষয়ে মুখ খুললেন শমীক ভট্টাচার্য। এক্স হ্যান্ডেলে স্পষ্টভাবে জানালেন, তিনি কলেজ স্কোয়ার কেন, কোনও পুজোর সভাপতিত্বই করবেন না বা দায়িত্ব নেবেন না। দুর্গাপুজো মানে বাঙালির ঐতিহ্য, আবেগ। তাতে যে রাজনীতির রং লাগাতে রাজি নয় বিজেপি, শমীকের সিদ্ধান্তেই তা স্পষ্ট। বহু বছর আগে কলেজ স্কোয়ারের পুজো কমিটির সভাপতি ছিলেন সোমেন মিত্র। পরবর্তীকালে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কিছুদিন এই দায়িত্ব সামলেছেন। গত ৮ বছর ধরে কলেজ স্কোয়ারের পুজো কমিটির সভাপতিত্ব করেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তবে বর্তমানে তিনি বয়সের ভারে নুব্জ। সূত্রের খবর, সেই কারণে এবছর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, এই বয়সে আর গোটা পুজোর দায়িত্ব সামাল দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। এরপরই গত ৭ জুন কলেজ স্কোয়ার পুজো কমিটির তরফে বৈঠক করা হয়। সেখানেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করা হয় বছর ৮২-এর প্রভাত সেনকে। পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, এরপরই তাঁদের তরফে যোগাযোগ করা হয় রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে। তাঁকে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পুজোর দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু এভাবে কোনও পুজোর দায়িত্ব নিতে একেবারেই রাজি হননি শমীক। তিনি স্পষ্টভাবেই জানান, তিনি পুজো কমিটির কোনও পদে থাকতে রাজি নন। তবে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানালে অবশ্যই যাবেন। এরপরই ১৬ জুলাই অর্থাৎ রথযাত্রার দিন খুঁটিপুজোয় তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। শমীক যাবেন বলে সম্মতি দিয়েছেন বলেই খবর। তৃণমূল জমানায় দেখা গিয়েছিল, কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার সব বড় পুজোর মাথায় নেতা-মন্ত্রী। তা নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। পালাবদলের পরই বিজেপির তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পরিকাঠামো-কোনও কিছুর রাজনীতিকরণ হবে না। এদিন ফের তা মনে করিয়ে দিলেন শমীক। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “দুর্গাপুজো সকলের, কোনও রাজনৈতিক দলের নয়।” তাঁর কথায়, “আমরা চাই উৎসবের আনন্দ জনগণের হাতেই থাকুক, রাজনীতির কবলে নয়।” উল্লেখ্য, এই কমিটিতে ছিলেন তাপস রায়, জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিজয় ওঝাও। তবে শমীকের ভট্টাচার্য অবস্থান স্পষ্ট করার পরই তাপস রায় জানিয়েছেন তিনিও কোনও পুজোর দায়িত্বে থাকবেন না।



