আর্জেন্টিনা – ৩ (অ্যালিস্টার, আলভারেজ, মার্তিনেজ) সুইৎজারল্যান্ড – ১ (এনদোয়ে)
RK NEWZ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে সতর্ক আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। মেনে নিয়েছেন লিয়োনেল মেসিদের খেলায় উন্নতি প্রয়োজন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করার আশ্বাস দিয়েছেন। সুইৎজ়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে মুখ খুললেন আর্জেন্টিনার কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। ১০ জনের সুইৎজ়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও ১২০ মিনিট লড়াই করতে হয়েছে লিয়োনেল মেসিদের। এই জয়ের পর আর্জেন্টিনা শিবিরের নজরে স্বাভাবিক ভাবেই এখন ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালকেও আর পাঁচটা ফুটবল ম্যাচ হিসাবেই দেখছেন আর্জেন্টিনার কোচ। বার বার বলা হচ্ছে আর্জেন্টিনা সূচির সুবিধা পেয়েছে। তেমন কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে না খেলেই কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। সুইৎজ়ারল্যান্ড ম্যাচের আগেই এমন সমালোচনার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন স্কালোনি। রবিবার সেমিফাইনালে ওঠার পর তিনি বলেছেন, ‘‘সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সত্যিই আমাদের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছে। জানতাম ওরা শারীরিক ভাবে খুব শক্তিশালী দল। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম আমরা। সেখান থেকে ম্যাচ বের করে আনা সহজ ছিল না। সত্যি বলতে ওদের এক জন কমে যাওয়ার পর আমরা অনেক আক্রমণ তৈরি করতে পেরেছি।’’ আর্জেন্টিনার কোচ মেনে নিয়েছেন বিশ্বকাপ ধরে রাখতে হলে দলের খেলায় উন্নতি প্রয়োজন। তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের উন্নতি করার বেশ কিছু জায়গা আছে। বাস্তব অস্বীকার করে লাভ নেই। পরের ম্যাচের আগেই আমাদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে হবে। কঠিন লড়াই করতে হবে জানতাম। তবে লড়াই আমাদের রক্তেই রয়েছে। এটা আমাদের ডিএনএ-র অংশ। এটাই আমাদের মনে শান্তি এনে দেয়। কাতারে আমাদের তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। কোচ হিসাবেও নিজেও তত অভিজ্ঞ ছিলাম না। ফলে এই রকম পরিস্থিতিগুলো আরও কঠিন মনে হত। এখন আমাদের সকলেই কম-বেশি অভিজ্ঞ। প্রতিপক্ষ কোণঠাসা করে দিলে বা গোল শোধ করে দিলে কেমন অনুভূতি হয় আমরা জানি। চাপের পরিস্থিতিতে আমরা এখন মাথা ঠান্ডা রাখতে পারি। পরিস্থিতি কঠিন হলেও জানতাম, আমার ফুটবলারেরা হাল ছাড়বে না। এই লড়াইয়ের মানসিকতাটাই আসল। ওরা বেশ ভাল খেলেছে। একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে আমরা সমস্যায় পড়েছি। পর পর পাঁচ-ছ’টা পাস খেলাও কঠিন হচ্ছিল। আমাদের বেঞ্চে এমন কিছু ফুটবলার রয়েছে যারা খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারে। এটা এই দলের একটা ভাল দিক। শেষ পর্যন্ত আমরা যে জিততে পরেছি এটাই স্বস্তির। এটা সম্পূর্ণ ফুটবলারদের কৃতিত্ব। ওরা একটা পদ্ধতির উপর আস্থা রেখেছে। সকলে ঐক্যবদ্ধ। সকলে একসঙ্গে চেষ্টা করছি। ফুটবল খেলাটা সহজ নয়। আমরা জিতেছি উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে। ম্যাচ পেনাল্টিতে যাক চাইনি আমরা। খেলার মানের চেয়ে কখনও কখনও জয়টা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়। এই ম্যাচটা তেমনই ছিল। আমরা এখন সেমিফাইনালে। মনে হতেই পারে ফুটবলে এটা স্বাভাবিক। ব্যাপারটা কিন্তু এত সহজ নয়। স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের যথেষ্ট খুশি হওয়ার এবং উত্তেজিত হওয়ার কারণ রয়েছে। এটাও আর একটা ফুটবল ম্যাচ। আমরা আমাদের সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করব। শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। শরীরের শেষ ঘামের বিন্দু পর্যন্ত লড়ে যাব। সাফল্য পেলে দারুণ হবে। না পারলেও নিজেদের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টার ক্রটি রাখব না।’’

সুইৎজ়ারল্যান্ড ম্যাচে রেফারির উপর মেজাজ হারালেন লিয়োনেল মেসি। পর্তুগালের জোয়াও পিনেইরোর কথা বলার ধরন পছন্দ হয়নি এলএম টেনের। মাঠেই তিনি আঙুল উঁচিয়ে সমঝে দেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দেশের রেফারিকে। এ বারের বিশ্বকাপে রবিবারের ম্যাচে প্রথম গোল পেলেন না মেসি। সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে বার বার তাঁর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় কিছুটা বিরক্ত দেখাচ্ছিল মেসিকে। দ্বিতীয়ার্ধে সুইৎজারল্যান্ডের একটি ফ্রিকিককে কেন্দ্র করে মেজাজ হারান মেসি। আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের তৈরি করা মানব দেওয়ালে ছিলেন মেসিও। সে সময় পর্তুগিজ রেফারি একটি নির্দেশ দেন। যা পছন্দ হয়নি মেসির। তিনি আপত্তি জানান। এর পর পিনেইরো কড়া ভাবে কিছু একট বলার চেষ্টা করতেই মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। সঙ্গে সঙ্গে তিনি আঙুল উঁচিয়ে রেফারিকে বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে ঠিক ভাবে কথা বলুন। অসম্মান করে আমার সঙ্গে কথা বলবেন না। আমি আপনার সঙ্গে ঠিক করে কথা বলছি। আপনাকেও ঠিক ভাবে কথা বলতে হবে।’’ মেসির ক্ষোভ দেখে আর কথা বাড়াননি রেফারি। এই ঘটনার ছবি ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে। ৩৮ বছরের পিনেইরো কড়া ধাঁচের রেফারি হিসাবেই পরিচিত। অতিরিক্ত কার্ড দেখানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একাধিক বার বিতর্কেও জড়িয়েছেন। এ বারের বিশ্বকাপেই সুইৎজ়ারল্যান্ড বনাম বসনিয়া ম্যাচে রেফারিং করেছিলেন পিনেইরো। সেই ম্যাচে বসনিয়ার তারিক মুহারেমোভিচকে লাল কার্ড দেখান। এর পর শেষ ষোলোয় কানাডা বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। সেখানে অনেক শান্ত ছিলেন। মাত্র দু’টি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন। পিনেইরো সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েই খেলতে নেমেছিলেন মেসিরা। তাঁকে সম্ভবত মাত্রাতিরিক্ত প্রভাব তৈরি করতে দিতে চাননি মেসি। তাই সুযোগ পেয়েই রোনাল্ডোর দেশের রেফারিকে নিজের ওজন মনে করিয়ে দেন আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-সুইৎজ়ারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে দু’টি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সুইস স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোকে। ম্যাচে সমতা ফেরানোর পরই তিনি প্লে অ্যাক্টিং করে পড়ে যান। যা ধরা পড়ে যায় টেলিভিশন ক্যামেরায়। আগেই একটি হলুদ কার্ড দেখেছিলেন এমবোলো। ‘ভার’-এর পরামর্শে তাঁকে ৭২ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড এবং লাল কার্ড দেখান পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরো। এমবোলোকে লাল কার্ড দেখিয়ে কি ঠিক করেছেন রেফারি? তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। এই সিদ্ধান্তের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেশ কিছুটা সময় ১০ জনে খেলতে হয়েছে সুইৎজারল্যান্ডকে। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে প্রথম থেকে সমানে সমানে লড়াই করা সুইসেরা এই ঘটনার পর ম্যাচ থেকে হারিয়ে যায়। আর্জেন্টিনার হাফের মাঝামাঝি অংশের বাম দিকে এমবোলোকে ফাউল করায় আর্জেন্টিনার লিয়োনার্দো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। আপাতদৃষ্টিতে ফুটবল মাঠে এটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ওই ট্যাকল আর হলুদ কার্ডের পর খেলা শুরু হতে কিছুটা দেরি হয়। সদ্য হলুদ কার্ড দেখা পারেদেসকে দেখা যায় রেফারির সঙ্গে কথা বলতে। তার পরই রেফারি মাঠের পাশে থাকা মনিটরে সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে যান। ‘ভার’-এর সাহায্য নিয়ে মাঠে ফিরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করে এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখান। আগেই একটি ফাউল করার জন্য হলুদ কার্ড দেখেছিলেন সুইস স্ট্রাইকার। স্বাভাবিক ভাবেই রেফারিকে লাল কার্ডও দেখাতে হয় তাঁকে। এমব্রোলো লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে যেতে যেতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। রেফারির এই সিদ্ধান্ত কি সঠিক? এ বারের বিশ্বকাপে ফিফার নতুন একটি আইন অনুযায়ী, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখতে হয়েছে সুইস ফরোয়ার্ডকে। ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি রুল’ অনুযায়ী, কোনও খেলোয়াড় যদি ফাউল করার জন্য হলুদ বা লাল কার্ড দেখেন, কিন্তু ফাউলটি আসলে যদি প্রতিপক্ষের কোনও খেলোয়াড় করে থাকেন, তা হলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবেন রেফারি। অর্থাৎ, আর্জেন্টিনার পারেদেসকে যদি রেফারি হলুদ কার্ড না দেখাতেন, তা হলে এমবোলোকে ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি রুল’ মেনে হলুদ কার্ড দেখতে হত না। সে ক্ষেত্রে একটি হলুদ কার্ড দেখে থাকা এমবোলোকে কড়া ভাবে সতর্ক করে রেহাই দিতে পারতেন পিনেইরো। কিন্তু নতুন নিয়মের জন্য সুইস স্ট্রাইকারকে কার্ড দেখাতেই হয়েছে তাঁকে। এর আগে আমেরিকা-প্যারাগুয়ের ম্যাচেও এই নিয়মের প্রয়োগ দেখা গিয়েছে। ওই ম্যাচে প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরনকে আমেরিকার টিম রিম ফাউল করায় প্রথমে প্যারাগুয়ে ফ্রি কিক পায়। রিমকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। পরে ‘ভার’-এর পরামর্শে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। অকারণ বা ইচ্ছাকৃত ঝাঁপ দিয়ে পড়ে যাওয়া বা ফুটবলের পরিভাষায় ‘সিমুলেশন’ এর অপরাধে উল্টো হলুদ কার্ড দেখেন আলমিরন। কোয়ার্টার ফাইনালেও ঠিক একই ভাবে অকারণ বা ইচ্ছাকৃত ঝাঁপ দিয়ে পড়েন এমবোলো।




