RK NEWZ বারুইপুরের সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্যাতিতা বালিকার পরিবার এবং গণপিটুনিতে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। রাজ্য জুড়ে বেআইনি মদ এবং গাঁজার ঠেকের বিরুদ্ধে পুলিশকে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার নেপথ্যে এই মদের ঠেকগুলির বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করেন তিনি। গ্রামগঞ্জ থেকে এগুলিকে উপড়ে ফেলার ডাক দিয়েছেন। এই ধরনের ঠেকের হদিস কারও কাছে থাকলে তা পুলিশকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বানও জানিয়েছেন শুভেন্দু। দুই পরিবারের পাশে থাকারই বার্তা দিয়েছেন। সেখান থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘সব কিছুর কার্য-কারণ থাকে। যে জঘন্য অপরাধ হয়েছে, আমি মনে করি, তার পিছনে বেআইনি মদের ঠেক, বেআইনি গাঁজা, চরস, মাদকের বড় ভূমিকা আছে। আপনারা পুলিশকে এগুলো জানান।’’ শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা। তাঁদের সামনেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি ডিজিপি-কে বলব, আগামী দু’সপ্তাহ রাজ্য জুড়ে বিশেষ অভিযান চালান। ব্যাটেলিয়নে থাকা লোকজনকে বিশেষ অভিযানে লাগান, সিও-দের এক-একটা জেলা দিয়ে দিন। রাজ্যে যত বেআইনি মদের ঠেক, গাঁজা বা চরসের ঠেক আছে, তার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে।’’ সীমান্ত এলাকায় রাজ্য পুলিশের এসটিএফ-এর তরফে প্রতি দিনই এই ধরনের বেআইনি ঠেকের বিরুদ্ধে অভিযান, ধরপাকড় চলছে, জানিয়েছেন শুভেন্দু। তবে গ্রামগঞ্জেও সেই তৎপরতা দেখতে চেয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডে রেকি করে প্রতি দিনই ধরপাকড় হচ্ছে। কিন্তু গ্রামীণ এলাকা থেকেও এটা সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলা দরকার। যাতে এই সামাজিক দূষণ থেকে আমরা পরিবেশকে বাঁচাতে পারি।’’ গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া, নিহতের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে। সূর্যপুরে যে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করা হল, সেখানেই তাঁকে বহাল করা হয়েছে। এ ছাড়া, শুভেন্দু জানান, নির্যাতিতা বালিকার পরিবারকেও সাহায্য করা হয়েছে। তবে তা তিনি নিজে বলতে চান না। পরিবার যদি মনে করে, সংবাদমাধ্যমে বলতে পারে। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি মেনেই এলাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।




