Saturday, July 11, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনালে স্পেন!‌ সামনে এমবাপের ফ্রান্স!‌ ৪০ বছর আগে বিশ্বকাপে সেমি যুদ্ধে বেলজিয়ামের কাছে পরাস্ত হয়েছিল স্পেন

স্পেন: ২ (ফাবিয়ান, মেরিনো)
বেলজিয়াম: ১ (চার্লস )

RK NEWZ স্প্যানিশ আর্মাডার রক্ষণের গোলকধাঁধা সমাধান করতে পারেনি কেউ। শেষ আটের যুদ্ধে এসে কি সেই প্রাচীর ভাঙতে পারবে বেলজিয়াম? শুরু থেকে খানিকটা ঘুমন্ত থেকে একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে চমকপ্রদ গোল করে ম্যাচ বের করে নেওয়ার স্প্যানিশ স্ট্র্যাটেজি কি কাজ করবে? শুক্রবার রাতে স্পেন বনাম বেলজিয়াম ম্যাচের আগে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচ্য বিষয় ছিল এগুলোই। তবে ম্যাচ শুরু হতেই দেখা গেল, এই দ্বৈরথের জন্য রুডি গার্সিয়া এবং লুইস দে লা ফুয়েন্তে নিজেদের রণকৌশল একেবারে পালটে ফেলেছেন। রক্ষণ নয়, শুরু থেকেই আক্রমণের পথে হাঁটল দুই দল। ম্যাচের আগে স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল বলেছিলেন, বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দেওয়া এখনও বাকি আছে। এদিন যেন নিজের সেরা খেলাটাই খেললেন ১০ নম্বর জার্সিধারী। যদিও প্রথমার্ধে স্প্যানিশ পাসিং গেম বেশ খানিকটা বিগড়ে দেন হান্স ভানাকেনরা। বিপক্ষের বক্স থেকেই একের পর এক আক্রমণ করেছে বেলজিয়াম। ম্যাচের প্রথম গোলটা এল বল পজেশনে কয়েক যোজন এগিয়ে থাকা স্পেনের থেকেই। ৩০ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের গোল, তবে বল সাজিয়ে দেওয়ায় ইয়ামালের ভূমিকা অনস্বীকার্য। স্প্যানিশ ব্রিগেডে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা লাগল ৪১ মিনিটে। যে দল একটাও গোল হজম করেনি, তাদের ডিফেন্স চিরে দিয়ে কেভিন ডি’ব্রুইনের অনবদ্য পাস, গোল চার্লস ডি’কেটেলেয়ারের। ১-১ অবস্থায় বিরতির পর মাঠে নামল দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের স্পেন আরও ভয়ংকর। প্রায় ২০ মিনিট ধরে পেদ্রিরা তাণ্ডব চালালেন বিপক্ষের বক্সে। এই সময়টুকুতে যে গোল হল না, তার কৃতিত্ব একমাত্র থিবাও কুর্তোয়ার। অন্তত তিনটে নিশ্চিত গোল বাঁচালেন। কিন্তু চোট পেয়ে চোখের জলে মাঠ ছাড়তে হল বেলজিয়ামের শেষ প্রহরীকে। অন্যদিকে গোল না পেলেও পাসের পর পাস খেলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ওয়াজারবালরা। ফিট হয়ে যাওয়া নিকো উইলিয়ামসও নেমে পড়লেন আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে। ম্যাচের ম্যাজিক মোমেন্ট ৮৮ মিনিটে। ততক্ষণে একের পর এক চেষ্টা ব্যর্থ হলেও স্প্যানিশ ব্রিগেড আক্রমণ চালিয়ে গিয়েছে। ৮৬ মিনিটে মাঠে নামলেন মিকেল মেরিনো। আর নিজের দ্বিতীয় টাচেই গোল, মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে। পর্তুগালকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিয়েছিলেন এই সুপার সাব। এবার বেলজিয়ামকেও ঘরে ফেরালেন। বেঞ্চে বসা কুর্তোয়ার চোখে তখন জল। তিনি থাকলে হয়তো রুখতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত লড়েও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল বেলজিয়ামের সোনার প্রজন্ম। খেতাবের স্বপ্নে বিভোর তরুণ স্পেনের সামনে বাকি আর দুই ম্যাচ। সেমিতে প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। ২০১০-এর রূপকথা ফেরাতে পারবেন নিকো-ইয়ামালরা?

স্পেন জেতায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেই দেখা যেতে চলেছে ‘ফাইনাল’। ফ্রান্স এবং স্পেন দুই দেশই যে এ বার বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার, তা প্রতিযোগিতা শুরুর আগে থেকেই বলছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। তবে ইউরোপের দুই শক্তিধর দেশের দেখা ফাইনালে নয়, হচ্ছে সেমিফাইনালেই। মঙ্গলবার রাত ১২.৩০টা থেকে শুরু ম্যাচ। কুর্তোয়া তো বটেই, কেভিন দ্য ব্রুইন, রোমেলু লুকাকু, অ্যাক্সেল উইটসেল, হান্স ভানাকেন, ব্রেন্ডন মেচেলেরা সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেললেন। বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্ম কাতারেও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। আরও একটি বিশ্বকাপ থেকে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এতটাই গতিতে খেলা হল যে চোখের পলক ফেলা গেল না। কখনও স্পেন আক্রমণ করেছে, কখনও পাল্টা দিয়েছে বেলজিয়াম। ম্যাচের বেশ কিছুটা সময় স্পেন একটানা আক্রমণ করে গিয়েছে। বেলজিয়াম চুপচাপ বসে থাকেনি। রক্ষণের পাশাপাশি বল পেলেই আক্রমণে উঠেছে। প্রতি আক্রমণে গোল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। নকআউটে অনেক দলের খেলায় যেন ঘর সামলে আক্রমণে ওঠার কৌশল দেখা যায়, এ দিন স্পেন বা বেলজিয়াম কারও খেলাতেই তা ছিল না। ফলে ঘুমপাড়ানি ফুটবল দেখতে হয়নি।

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন সাদিও মানে। বিশ্বকাপে আশা জাগিয়েও ব্যর্থ হয়েছে সেনেগাল। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে ৩-২ গোলে হেরে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিয়েছে ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গা’ সেই হতাশায় বুট জোড়া তুলে রাখলেন ৩৪ বছর বয়সি তারকা। এক বিবৃতিতে অবসরের কথা ঘোষণা করেন মানে। আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, “দেশের জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছি। নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছি। মাতৃভূমির জন্য জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করেছি।” সমর্থকদেরও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি জানিয়েছেন, কেরিয়ারে কখনও তাঁদের হতাশ করে থাকলে তাঁকে যেন মার্জনা করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে দিয়ে ১৪ বছরের ফুটবল কেরিয়ারে ইতি টানলেন তিনি। দেশের হয়ে ১৩০টি ম্যাচে ৫৪ গোল করেছেন মানে। রয়েছে ২৯টি অ্যাসিস্টও। ২০২১ সালের আফ্রিকান কাপ অফ নেশনস জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলন এই তারকা। দীর্ঘদিন লিভারপুলের হয়ে খেলেছেন তিনি। এর আগে ফরাসি ক্লাব এফসি মেটজের হয়ে দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন। ২০১২ সালে সেনেগালের জার্সি গায়ে অভিষেক হয় তাঁর। ফুটবলার হিসাবে আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ইতি টানলেও ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন না। নতুন ভূমিকায় ফিরতে চান মানে। তিনি বলেন, “আমার অভিজ্ঞতা দেশের সেবায় কাজে লাগাতে চাই। যা আমি আনন্দের সঙ্গেই করব।” তাহলে কি কোচ হিসাবে দেখা যাবে তাঁকে? মানের কথায়, “সেটা হতে পারে কোনও টেকনিক্যাল স্টাফের অংশ হিসাবে। আবার কোচ হিসাবে সাইড লাইনে থেকেও দলের কাজে লাগতে পারি। অথবা ফুটবল প্রশাসনের দায়িত্বেও দেখা যেতে পারে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles