Thursday, July 9, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বারুইপুর ‘গণধর্ষণ ও খুনে’ এনকাউন্টার! গুলিতে মৃত্যু অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের!‌দু’টি গুলি লাগে, একটি বুকের ডান দিকে, অন্যটি কোমরের উপরে, লুটিয়ে পড়েন!‌

RK NEWZ রাত ১২টা ৪৫। ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাতের সেই অন্ধকারেই বারুইপুর কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে সূর্যপুরের সেই অপরাধস্থলে নিয়ে হাজির হয় পুলিশ। অপরাধস্থলের আশপাশে খুব একটা বসতি নেই। জলা জায়গা। তার মধ্যে ঝিরঝির করে বৃষ্টি হচ্ছিল। তদন্তকারী অফিসারেরা নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলে ঘটনার পুনর্নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। প্রভাসের কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন ক্যানিং থানার পুলিশ সার্কলের (পিসি) ইনচার্জ রনি সরকার। পুলিশের দাবি, আচমকাই রনির কোমর থেকে রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে জলা জমি ধরে পালানোর চেষ্টা করেন প্রভাস। পিছু ধাওয়া করেন পুলিশ অফিসারেরাও। ঠিক তখনই পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালান প্রভাস। নিজেকে এবং সহকর্মীদের বাঁচাতে তৎক্ষণাৎ সার্ভিস রিভলভার দিয়ে প্রভাসকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বারুইপুর থানার পিসি ইনচার্জ অর্ঘ্য মণ্ডল। সূত্রের খবর, দু’টি গুলি লাগে প্রভাসের। একটি বুকের ডান দিকে। আর একটি গুলি লাগে কোমরের উপরে। লুটিয়ে পড়েন তিনি। তার পরই প্রভাসকে তুলে নিয়ে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষার্থেই এই গুলি চালানো হয়েছে। ভোরের আলো ফুটতেই গোটা এলাকায় নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়। এনকাউন্টার ঘিরে সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুলিশ। ইতিমধ্যেই এনকাউন্টারের ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই পুলিশ অফিসার রনি এবং অর্ঘ্যকে পুলিশ সুপার অফিসে তলব করা হয়েছে। বর্তমানে বারুইপুর থানার পিসি ইনচার্জ অর্ঘ্য। এর আগে তিনি জয়নগর, সোনারপুর ও কুলতলি থানায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। একসময় বারুইপুর এসওজি-র ইনচার্জ হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি ২০১৪ ব্যাচের পুলিশ আধিকারিক। অন্য দিকে, রনি বর্তমানে ক্যানিং থানার পিসি ইনচার্জ। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বকুলতলা থানার ওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে নরেন্দ্রপুর, বারুইপুর, জয়নগর ও বকুলতলা-সহ বেশ কয়েকটি থানায় কাজ করেছেন। কনস্টেবল হিসেবে চাকরি শুরু। পরবর্তী কালে সাব-ইনস্পেক্টর পদে উন্নীত হন।

গত শনিবার বারুইপুরের সূর্যপূর এলাকায় এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়ে যায়। রবিবার তার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয় এলাকারই একটি পুকুর থেকে। তার পর থেকেই উত্তপ্ত বারুইপুর। নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সর্দার, আনন্দ সর্দার এবং কবীর মোল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রভাসের বাড়ি সূর্যপুর এলাকাতেই। স্থানীয় সূত্রে খবর, পরিবারে মা, বাবা, স্ত্রী এবং এক পুত্রসন্তান রয়েছে। প্রভাসের বাবা অসুস্থ। মা গৃহবধূ। স্ত্রী পরিচারিকার কাজ করেন। তবে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় প্রভাসের নাম জড়ানোর পর শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান প্রভাসের স্ত্রী। বাড়িতে প্রভাসের মা এবং বাবা রয়েছেন। সূত্রের খবর, কোনও স্থায়ী কাজ করতেন না প্রভাস। যখন যা পেতেন তা-ই করতেন। কখনও ভ্যান চালাতেন। তবে নেশাও করতেন তিনি। প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, ‘‘আমাদের কথা শুনত না। নেশা করত।’’ স্ত্রী-ও জানান, স্বামীর চরিত্র ভাল ছিল না। তাঁর কথায়, ‘‘ও দোষ করেছে, তাই গুলি খেয়েছে।’’

মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাসকে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। দাবি, সেই সময় প্রভাস পালানোর চেষ্টা করেন। পালানোর আগে পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই করেন। বারুইপুর গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এনকাউন্টার! পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নিমাণের জন্য প্রভাসকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বারুইপুরের সূর্যপুরে। সেই সময় পালানোর চেষ্টা করায় গুলি চালায় পুলিশ। মৃত্যু হয় ধৃত প্রভাসের। এদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও এক অভিযুক্ত কবীর মোল্লাকে। অর্থাৎ ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৪। বারুইপুর কাণ্ডের তদন্তে নেমে একটি সিসিটিভি ফুটেজ হাতে পায় পুলিশ। তাতে দেখা গিয়েছিল নাবালিকার সঙ্গে প্রভাস মণ্ডল নামে এক যুবক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। এরপরই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রভাসকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই উদ্ধার করা হয় নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনার পুনর্নিমাণ করতে প্রভাসকে নিয়ে যাওয়া হয় বারুইপুরের সূর্যপুরে অর্থাৎ অকুস্থলে। তদন্তকারীদের দাবি, সেই সময় পুলিশের বন্দুক হাতিয়ে তাঁদের লক্ষ্য করেই গুলি চালায় প্রভাস। চেষ্টা করে পালানোর। সেই সময় বাধ্য হয়ে গুলি চালায় পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রভাসকে মৃত বলে ঘোষণা করে। নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে ধর্ষকদের কোর্টে পাঠাব না, সকালে জমা নেব, বিকেলে খরচ করব।” বারুইপুর কাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, অপরাধীদের রেয়াত করা হবে না। গতকাল বারুইপুরে গিয়ে ডিজিপিকে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, নির্যাতিতার মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে পুলিশের কোনও গাফিলতি থাকলেও কড়া অ্যাকশন নেওয়া হবে। তার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই এনকাউন্টারে খতম প্রভাস। পুলিশ জানিয়েছে, প্রভাসকে জেরা করেই বাকি অভিযুক্তদের হদিশ মিলেছিল। তবে মৃত যুবক বারবার বয়ান বদল করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল। এদিকে বারুইপুরে পুলিশের উপর হামলার ঘটনাতেও কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভোরেই পুলিশ এসে ছেলের মৃত্যুর খবর দিয়ে গিয়েছে। আই কার্ডও চেয়েছে। ছেলেকে দেখতে যাবেন কি না, তা-ও জানতে চেয়েছিল পুলিশ। কিন্তু যেতে চাননি। শুধু তা-ই নয়, জানিয়ে দিয়েছেন, ছেলের দেহ দেখবেন না, তাঁর দেহ নিতেও যাবেন না। তিনি সন্ধ্যা মণ্ডল। বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ এবং খুনে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মা। মঙ্গলবার রাতে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে প্রভাসের। ঘটনার পুনর্নির্মাণে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই সময় সঙ্গে থাকা পুলিশকর্মীর কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এক রাউন্ড গুলি চালান বলেও পুলিশের দাবি। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। তাতেই গুরুতর আহত হন প্রভাস। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রভাসকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল রবিবার। তাঁর সূত্র ধরে পরে আর তিন জন আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং কবীর মোল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রভাসের মৃত্যুর পর সেই খবর বুধবার ভোরে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেয় পুলিশ। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে মায়ের বুক কেঁপে উঠেছিল ঠিকই, কিন্তু সন্ধ্যা বলেন, ‘‘ও যা করেছে, তা ফল পেয়েছে। ভালই হয়েছে।’’ তার পরই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ছেলের দেহ আনতে যাবেন? সন্ধ্যা সাফ জানিয়ে দেন, ছেলের মুখ দেখবেন না। তাঁর দেহ আনতেও যাবেন না।

যোগীরাজ্যের ধাঁচে এনকাউন্টার হয়েছে বাংলায়। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে বারুইপুর খুন ও ধর্ষণ কাণ্ডের অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশের এই পদক্ষেপে শুধু আমজনতা নয়, স্বস্তি পেয়েছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও। প্রভাসের স্ত্রীর সাফ কথা, “ও বরাবরই নোংরা। তাই একাজ ও করেনি এমন দাবি করতে পারব না। ও করতেই পারে। দোষ করেছে তাই গুলি খেয়েছে।” বুধবার সকালেই পুলিশের তরফে প্রভাস মণ্ডলের বাড়িতে তার মৃত্যু সংবাদ পাঠানো হয়। সেই সময়ই প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল সাফ জানিয়েছিলেন, যা হয়েছে, ঠিক হয়েছে। তাঁরা কেউ দেহ নিতে যাবেন না। স্বামীর মৃত্যুর খবরে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রভাসের স্ত্রী। তাঁর সাফ কথা, “ও বরাবরই নোংরা। তাই একাজ ও করেনি এমন দাবি করতে পারব না। ও করতেই পারে, ও সব পারে। আমার বিয়ের পর কম অন্যায় করেনি। অত্যাচারও করেছে। সেই সব সহ্য করেই সংসার করেছি। দোষ করেছে তাই গুলি খেয়েছে।” তবে তিনি জানিয়েছেন, থানার তরফে দেহ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে, পরিবারের সকলে রাজি হলে তিনি যাবেন। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী ইতিমধ্যেই মৃতের মা ও স্ত্রী রওনা দিয়েছেন থানার উদ্দেশে। মৃতের প্রতিবেশীরাও পুলিশের কাজে খুশি। সকলের মুখে একই কথা, “যে ভয়ংকর অন্যায় প্রভাস করেছে, তার শাস্তি হওয়া উচিত। যা হয়েছে ভালো হয়েছে।”

কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় চার অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর মণ্ডল, আনন্দ সর্দার ও কবীর মোল্লাকে গ্রেপ্তার হয়েছে। এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে প্রভাসের। মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের ভূমিকায় খুশি নির্যাতিতার বাবা। বললেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমার দাদা, আমার পুরো ভরসা আছে। দাদার কাজে আমি খুশি। পুলিশও খুব ভালো কাজ করেছে।” রবিবার সকাল থেকে বারুইপুর ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে উত্তপ্ত গোটা বাংলা। ঘটনার কয়েকঘণ্টার মধ্যে ৬ সদস্যের সিট গঠনের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফোনে কথা বলেন নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে। কয়েকঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় তিন অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর মণ্ডল, আনন্দ সর্দারকে। গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার নিজে বারুইপুর গিয়েছিলেন শুভেন্দু। কথা বলেন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে। আশ্বাস দেন সুবিচারের। তার ১২ ঘণ্টা পেরনোর আগেই এনকাউন্টারে খতম হয়েছে অভিযুক্ত প্রভাস। ঘটনার পুনর্নিমাণের সময় প্রভাস পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে বলেই দাবি। এরপরই আত্মরক্ষায় গুলি চালান পুলিশ অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডল। এদিকে রাতেই গ্রেপ্তার হয়েছে চতুর্থ ‘ধর্ষক’ কবীর মোল্লা। মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশের ভূমিকায় খুশি নির্যাতিতার পরিবার। এপ্রসঙ্গে নির্যাতিতার বাবা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমার দাদা। দাদা আমাকে কথা দিয়েছিলেন দোষীরা কেউ ছাড় পাবেন না। দাদার উপর আমার পুরো ভরসা আছে। দাদার কাজে আমি খুশি। পুলিশও খুব ভালো কাজ করেছে। আমার মেয়ে বিচার পাবে, আমার বিশ্বাস দাদা কথা রাখবেন।” উল্লেখ্য, এনকাউন্টারে প্রভাসের মৃত্যুর খবরে ‘ঠিক হয়েছে’ বলেই মন্তব্য করেছেন মৃতের মা ও স্ত্রী। তাঁদের কথায়, “ও বরাবরই নোংরা। কারও কথা শোনে না। নেশা করে। কাজও করত না। বাচ্চা মেয়েটার সঙ্গে যা করেছে, তার শাস্তি পেয়েছে, ঠিক হয়েছে।” প্রতিবেশীরাও বলছে একই কথা। অন্যায়ের শাস্তিতে খুশি সকলে।

পুলিশের রিভলভার কেড়ে গুলি চালায় প্রভাস! এনকাউন্টারের ঠিক আগের মুহূর্তে কী ঘটেছিল? তৃণমূল জমানায় রাজ্যে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠেছে, দোষীরা রেহাই পেয়ে গিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে ধর্ষকদের কোর্টে পাঠাব না, সকালে জমা নেব, বিকেলে খরচ করব।” বারুইপুর কাণ্ডে কার্যত তাই-ই হল। গ্রেপ্তারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই যোগীরাজ্যের ধাঁচে এনকাউন্টারে খতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। পুলিশের দাবি, আত্মরক্ষায় গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিলেন অফিসাররা। মঙ্গলবার গভীররাতে ঠিক কী ঘটেছিল বারুইপুরের সূর্যপুরে? অপারেশনে ছিলেন কোন অফিসাররা? কোন পরিস্থিতিতে চালান গুলি? মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ধৃতদের। রাতে ঘড়ির কাঁটায় পৌনে ১ টা নাগাদ প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুরে অর্থাৎ অকুস্থলে যান সিটের সদস্যরা। নিয়ম অনুযায়ী ধৃতদের জেরায় বলা বক্তব্যের সঙ্গে পুর্ননির্মাণের তথ্য মিলিয়ে দেখতে হয়। সেই সময়ই শুরু হয় পুনর্নিমাণের কাজ। জানা যাচ্ছে, আচমকা সিটের সদস্য রনি সরকারের কোমরে থাকা পিস্তল কেড়ে নেয় প্রভাস। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক রাউন্ড গুলি চালায় সে। বিপদ বুঝে এরপরই আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বে থাকা অর্ঘ্য মণ্ডল। তাতেই খতম প্রভাস। বারুইপুর কাণ্ডে এনকাউন্টারের নেপথ্যের এই দুই দাবাং অফিসারই দুটি পৃথক থানার গুণ্ডাদমন শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। অর্ঘ্য মণ্ডল ২০১৪ সালের ব্যাচের অফিসার। বর্তমানে বারুইপুর থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। এর আগে সোনারপুর, কুলতলি ও জয়নগর থানার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বারুইপুর এসওজি-র ইনচার্জও ছিলেন। এদিকে রনি সরকার এই মুহূর্তে ক্যানিং থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বে। তবে তিনি কাজ শুরু করেছিলেন কনস্টেবল হিসেবে। পরবর্তীতে এসআইয়ের দায়িত্ব পান। এখনও পর্যন্ত নরেন্দ্রপুর, বারুইপুর, জয়নগর, বকুলতলা-সহ বেশ কয়েকটি থানায় কাজ করেছেন তিনি। সিট গঠনের সময়ই এই দুই অফিসারের উপর ভরসা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

বারুইপুর ‘ধর্ষণ ও খুন’ কাণ্ডে এক অভিযুক্ত এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে। সেই ঘটনার জোর চর্চা হয়েছে। তৃণমূল জমানায় আর জি কর কাণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। হাসপাতালের মধ্যেই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল। বারুইপুর এনকাউন্টারের ঘটনায় বার্তা দিলেন অভয়ায় মা, পানিহাটির বর্তমান বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তাঁর কথায়, “এখানে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে আমরা এখনও বিচার পাইনি।” আর জি কর কাণ্ডেও সুবিচার তাঁরা এবার পাবেন, সেই কথা আরও একবার জানিয়েছেন অভয়ার মা। আর জি করের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। কিন্তু সেই ঘটনায় সুবিচার মেলেনি বলে মৃতার মা-বাবার অভিযোগ। সেই সময়ের তৃণমূল সরকার ও পুলিশ আসল তথ্য গোপন করেছে বলে প্রায় প্রতি পদে অভিযোগ উঠেছিল। তৃণমূলের আমলে বিচারপ্রক্রিয়া হত না, সেই অভিযোগও করেছেন অভয়ার মা। রাজ্যে পালাবদলের পরে বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে। বারুইপুরে এক অভিযুক্ত এনকাউন্টারের মারা গিয়েছে। গতকাল রাতে ঘটনার পুননির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ। অভিযোগ, সেসময় পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালাতে গিয়েছিল ওই যুবক। সেই প্রেক্ষিতে এনকাউন্টার করে পুলিশ। অভিযুক্তকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

বারুইপুর ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছিল। সেখানে দেখা গিয়েছে, এক ব্যক্তি একটি পুকুরে নেমে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছেন মৃতদেহটি কোথায় রয়েছে। তাঁর দেখানো জায়গা থেকে বস্তাবন্দি নাবালিকার দেহ উদ্ধার হতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। মারধর শুরু হয় ওই ব্যক্তিকে। ঘটনাচক্রে দেখা গিয়েছে, ওই ব্যক্তিই এই ধর্ষণ এবং খুন কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত। নাম প্রভাস মণ্ডল। মঙ্গলবার রাতেই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় প্রভাসের। ঘটনার পুনর্নির্মাণে তাঁকে মঙ্গলবার রাতে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সূত্রের খবর, সেই সময় পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। পুলিশের পাল্টা গুলিতে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বারুইপুর কাণ্ডে প্রথম গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রভাসই। গত শনিবার বন্ধুর জন্মদিনে যাবে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল নাবালিকা। তার পর থেকে তার আর খোঁজ মেলেনি। তার খোঁজ করার সময় এলাকার কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেই সময় ওই নাবালিকাকে এক যুবকের সঙ্গে দেখতে পাওয়া যায়। নীল টি-শার্ট এবং লাল টুপি পরা ওই যুবকের খোঁজ শুরু হয়। সেই সূত্র ধরে পুলিশ ওই যুবককে শনাক্ত করে। তার পরই গ্রেফতার হন প্রভাস। তাঁকে জেরা করে আরও তিন অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয় কবীর মোল্লা নামে আরও এক যুবককে। প্রভাসের বাড়ি সূর্যপুর এলাকাতেই। স্থানীয় সূত্রে খবর, পরিবারে মা, বাবা, স্ত্রী এবং এক পুত্রসন্তান রয়েছে। প্রভাসের বাবা অসুস্থ। মা গৃহবধূ। স্ত্রী পরিচারিকার কাজ করেন। তবে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় প্রভাসের নাম জড়ানোর পর শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান প্রভাসের স্ত্রী। বাড়িতে প্রভাসের মা এবং বাবা রয়েছেন। সূত্রের খবর, কোনও স্থায়ী কাজ করতেন না প্রভাস। যখন যা পেতেন তা-ই করতেন। কখনও ভ্যান চালাতেন। তবে নেশাও করতেন তিনি। প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, ‘‘আমাদের কথা শুনত না। নেশা করত।’’ জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় বাকি অভিযুক্তেরাও প্রভাসের নেশার সঙ্গী ছিলেন। সূত্রের খবর, গ্রেফতার হওয়ার পর প্রাথমিক ভাবে পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর সূত্র ধরে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর প্রত্যেককে আলাদা আলাদা ভাবে জেরা করে পুলিশ। তখনই ঘটনার পুরো ছবি স্পষ্ট হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার রাজভবনে যান। বারুইপুরের সামগ্রিক ঘটনার রিপোর্ট পেশ করেন। সূত্রের খবর, রাজ্যপালের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles