Tuesday, July 7, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

“ব্যর্থ” রোনাল্ডো দুধের স্বাদ ঘোলে মেটালেন! ‘‌আমিত্বে’‌র এ বার কি অবসর?‌ ‘ইউরো জয় বিশ্বকাপ জেতারই সমান, আমার আগে পর্তুগাল তো কিছুই জেতেনি’

RK NEWZ নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপেও ব্যর্থ হলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে তাঁর দেশ পর্তুগাল। হারের পর ইউরো জয়ের প্রসঙ্গ টানলেন রোনাল্ডো। বিশ্বকাপ জেতা হয়নি। তাতে কী হয়েছে? ইউরো কাপ তো জিতেছেন। তাতেই হবে। দু’টি ট্রফিই তো সমান। এমনটাই মনে করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তিনি পর্তুগালের হয়ে খেলার আগে তাঁর দেশ তো কোনও ট্রফিই জেতেনি। তা-ও মনে করিয়ে দিলেন সিআর৭। বিশ্বকাপে আর দেখা যাবে না রোনাল্ডোকে। শেষ সুযোগেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। শেষ ষোলোয় স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাঁকে। চোখের জলে মাঠ ছেড়েছেন রোনাল্ডো। তিনি বুঝতে পারছিলেন, আর ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধে নামা হবে না। আবেগ থিতু হতে সময় লেগেছে। ধীরে ধীরে কান্না থেমেছে। তার পরেই রোনাল্ডোর মুখ থেকে শোনা গেল ইউরো জয়ের প্রসঙ্গ। খেলা শেষে সাংবাদিকদের সামনে রোনাল্ডো জানিয়েছেন, তিনি পর্তুগালের জার্সি গায়ে চাপানোর আগে বিশ্বমঞ্চে পর্তুগাল তো কিছুই জিততে পারেনি। কিন্তু তাঁর সময়ে তিনটি ট্রফি ঢুকেছে দেশের ক্যাবিনেটে। রোনাল্ডো বলেন, “আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটে ট্রফি জিতেছি। আমি আসার আগে পর্তুগাল একটা ট্রফিও জিততে পারেনি। এটাই বাস্তব।” রোনাল্ডোর সময়ে পর্তুগাল ২০১৬ সালের ইউরো কাপ এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালের নেশনস লিগ জিতেছে। ইউরো কাপকে বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করেন রোনাল্ডো। তিনি বলেন, “পর্তুগাল এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ট্রফি জিতেছে ২০১৬ সালে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ। সত্যি বলতে ইউরো কাপ জয় আমার কাছে বিশ্বকাপ জেতারই সমান।” রোনাল্ডোর এই কথার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে সমাজমাধ্যমে। রোনাল্ডোর ভক্তদের মতে, ঠিকই তো বলেছেন সিআর৭। বিশ্বকাপে ইউরোপের দেশগুলি দাপট দেখায়। ফ্রান্স গত দু’বার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে। এক বার জিতেছে। এ বারও তাদের চ্যাম্পিয়নের মতো দেখাচ্ছে। সেই ফ্রান্সকে হারিয়েই তো ইউরো কাপ জিতেছে পর্তুগাল। অন্য অংশের মতে, দুধের স্বাদ ঘোলে মেটামোর চেষ্টা করেছেন রোনাল্ডো। কারণ, ইউরো কাপে শুধু উইরোপের দেশগুলি খেলে। বিশ্বকাপে আমেরিকা, এশিয়া, আফ্রিকার দেশগুলিও নামে। অর্থাৎ, বিশ্বকাপ জিততে হলে গোটা বিশ্বের সেরা দেশগুলিকে হারাতে হয়। সেই কারণেই তো সব ফুটবলারের স্বপ্ন থাকে বিশ্বকাপে খেলা, বিশ্বকাপ জেতা। কখনওই ইউরো কাপকে বিশ্বকাপের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। কেউ কেউ আরও সমালোচনা করেছেন রোনাল্ডোর। তাঁদের মতে, রোনাল্ডো জানেন, আর বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ তাঁর নেই। তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিয়োনেল মেসি দু’বার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছেন। এক বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। পাশাপাশি দু’বার কোপা আমেরিকাও জিতেছেন মেসি। যা ইউরো কাপের সমার্থক। রোনাল্ডো জানেন, দুই ফুটবলারের তুলনায় পিছিয়ে তিনি। ট্রফির বিচারে মেসিকে ছোঁয়ার সুযোগ তাঁর নেই। তাই নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য ইউরো কাপ ও বিশ্বকাপকে এক জায়গায় রাখলেন তিনি।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো স্পেনের কাছে হেরে চোখের জলে মাঠ ছাড়লেন তিনি। এ বার কি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের পালা? খেলা শেষে তার জবাব নিজেই দিলেন সিআর৭। ২৪ ঘণ্টা আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন ব্রাজিলের তারকা নেইমার। এ বার কি রোনাল্ডোর পালা? সেই প্রশ্নই করা হয়েছিল। তখনও রোনাল্ডোর চোখে জল অবস্থাতেই বলেন, “এ ভাবে বিশ্বকাপ ছেড়ে যেতে খারাপ লাগছে। আমি সবটা দিয়েছি। নিজের সেরাটা দিয়েছি। এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ ছিল। হ্যাঁ, আমার বিশ্বকাপ কেরিয়ার শেষ।” কয়েক সেকেন্ড থেমে রোনাল্ডো আবার বলেন, “কিন্তু দেশের হয়ে অবসরের বিষয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সময় আছে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব। তার পর সিদ্ধান্ত নেব।” ৪১ বছরের রোনাল্ডো জানিয়েছেন, তিনি তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চান না। কারণ, এই দলের এখনও তাঁকে প্রয়োজন রয়েছে। রোনাল্ডো বলেন, “আমি তাড়়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। রাগ বা আবেগের মাথায় কোনও সিদ্ধান্ত নেব না। সব দিক ভেবে সিদ্ধান্ত নেব। পর্তুগালের হয়ে তো ভালই খেলছি। দলকে এখনও আমার দরকার।” সংযুক্তি সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে জিতেছে স্পেন। রোনাল্ডোর মতে, তাঁদের ভাগ্য খারাপ ছিল। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কিছু করার নেই। আমাদের দল খুব ভাল খেলেছে। খেলার ফল যে কোনও দিকে যেতে পারত। ওদের ভাগ্য ভাল ছিল। আমরা হেরেছি ঠিক। কিন্তু মাথা উঁচু করে বিদায় নেব।” ডালাস স্টেডিয়ামে রেফারি অ্যান্টনি টেলরের শেষ বাঁশিটা বাজার বেশ কিছু ক্ষণ ইস্পাতকঠিন মুখে দাঁড়িয়ে রইলেন রোনাল্ডো। শুকনো মুখে এ দিক-ও দিক তাকালেন। বোধহয় বোঝার চেষ্টা করছিলেন কী ঘটে গিয়েছে। সতীর্থ থেকে বিপক্ষ, সকলেই এসে একে একে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছুই ছুঁতে পারছিল না তাঁকে। উদাস দৃষ্টিতে চোখ ঘোরাফেরা করছিল স্টেডিয়ামের বিভিন্ন দিকে। একটা সময় আর থাকতে পারলেন না। আস্তে আস্তে হাঁটতে শুরু করলেন। তত ক্ষণে চোখের কোণ ভরে এসেছে। কোনও মতে চেষ্টা করছেন কান্না চাপার। কিন্তু প্রকাশ্যে কাঁদতে যিনি কোনও দিনই পিছপা হননি, তিনি অকারণে আবেগ চেপে রাখবেনই বা কেন! রোনাল্ডোর চোখ থেকে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে এল জল। আরও এক বার। ২০১৬-য় ইউরো কাপের ফাইনালে শুরুতেই চোট পেয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে প্রকাশ্যে কেঁদেছিলেন। সে দিনই আন্তর্জাতিক ট্রফি উঠেছিল তাঁর হাতে। তার পরের কান্না শুধুই দুঃখের। কাতার বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পরেও চোখের জল বাঁধ মানেনি। টানেলেই কেঁদেছিলেন। সোমবার রাতে ডালাসে তাঁর চোখে আরও এক বার জল দেখা গেল। রোনাল্ডো বুঝতে পারছিলেন, এই মঞ্চে আর আসা হবে না। এটাই শেষ বার। আরও এক বার খালি হাতেই ফিরতে হল তাঁকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles