RK NEWZ একধাক্কায় অনেকটা কমল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। ১ জুলাই থেকে কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমেছে ১৭৪ টাকা। ফলে এখন তা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮১ টাকা ৫০ পয়সা। পাশাপাশি ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তা ৯৬৮ টাকা। মাসের শুরুতেই রান্নার গ্যাসের দাম ঘোষণা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার উপর এই দাম নির্ভর করে। কখনও বাড়ানো হয় আবার কখনও কমানো হয়। যদিও গত কয়েকমাস ধরে লাগাতার বাণিজ্যিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছিল। তথ্য বলছে, বছরের শুরুতেই অর্থাৎ ১ জানুয়ারি ২০২৬ এ একধাক্কায় বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি হয় ১১১ টাকা। এমনকী ১ ফেব্রুয়ারিতেও আরও ৪৯ টাকা বৃদ্ধি হয় বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম। মার্চের শুরুতে দাম বাড়ানো হয় ৩১ টাকা। এপ্রিল মাসে যুদ্ধের আবহে একধাক্কায় ২১৮ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। মে মাসে সেটা বাড়ানো হয়েছিল ৯৯৩টাকা। জুনে তা বাড়ে ৫৩ টাকা। ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি সামলে রেস্তরাঁ, হোটেল ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের জন্য এলপিজি সরবরাহ আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য কেন্দ্রের। পশ্চিম এশীয় সংকটের সময় নির্দিষ্ট কিছু খাতে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ করা হল। মূলত হোটেল, রেস্তরাঁ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা হয় ১৯ কেজি অর্থাৎ বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস। লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির ফলে হোটেল, রেস্তরাঁর খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। আসলে বিশ্ব বাজারে পেট্রোলিয়ামের দামের তুল্যমূল্য বিচার করে দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। যার প্রভাব বাণিজ্যিক গ্যাসে পড়েছিল। অবশেষে খানিকটা স্বস্তি। স্বাভাবিকভাবেই দোকান-হোটেল-সহ ছোট ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার রান্নার গ্য়াসের দাম কবে কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম কবে পরিবর্তন নির্ভর করছে মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতির উপরই। পাশাপাশি কেন্দ্রের মূল্যনীতির দিকটিও বিবেচ্য।
জুলাইয়ের প্রথম দিনই স্বস্তি পেট্রল ও ডিজেলের গ্রাহকদের। দেশের বৃহত্তম বেসরকারি জ্বালানি সংস্থা নায়ারা এনার্জি জ্বালানির দাম কমিয়েছে। ফলে পেট্রলের দাম কমল ৫ টাকা। পাশাপাশি ডিজেলের দামও লিটার প্রতি ৩ টাকা কমেছে। দু’বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে নায়ারাই দেশের প্রথম জ্বালানি সংস্থা যারা জ্বালানির দাম কমাল। দেশজুড়ে মোট ৭০০০ পেট্রল পাম্প রয়েছে এই সংস্থার। ফলে ওই সমস্ত কেন্দ্রে গেলে সস্তায় মিলবে ডিজেল ও পেট্রল। তবে রাজ্য অনুযায়ী এই দাম কিছুটা পরিবর্তিত হবে ভ্যাটের মতো স্থানীয় করের কারণে। বলে রাখা ভালো, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের তীব্রতা হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি হরমুজের মতো এক গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ খুলে যাওয়ার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে আসার ফলেই এই পদক্ষেপ নায়ারা এনার্জির। নায়ারা এনার্জির মতো বেসরকারি সংস্থা গ্রাহকদের জন্য সুখবর আনলেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি সংস্থাগুলি যদিও জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। অর্থাৎ ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন তথা আইওসি, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড তথা বিপিসিএল এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড তথা এইচপিসিএলে জ্বালানির দাম যা ছিল তাই রয়েছে।
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে হুহু করে বেড়েছে তেলের দাম। তার প্রভাব পড়েছিল ভারতেও। নির্বাচনের আগে পর্যন্ত জ্বালানির দামে লাগাম টেনে রেখেছিল কেন্দ্র। কিন্তু সেসময়ে তেল সংস্থাগুলি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। এহেন পরিস্থিতিতে তেল সংস্থাগুলির চাপের মুখে পড়ে দফায় দফায় পেট্রল এবং ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্র। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে। গতকালই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমস্ত জ্বালানি সংস্থার কাছে আবেদন করেন যেন এবার তারা জ্বালানির দাম কমায়। নিজস্ব সোশাল মিডিয়া ট্রুথ সোশালে এই আবেদন করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন যে, জ্বালানি তেলের দাম যথেষ্ট দ্রুত কমছে না।



