Tuesday, June 30, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ভার বিতর্কে জার্মানীর হার! চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়!‌ ‌ জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল!‌

ব্রাজিল: ২ (ক্যাসেমিরো, মার্টিনেলি) জাপান: ১ (সানো)
প্যারাগুয়ে – ১ (৪) জার্মানি – ১ (৩)
নেদারল্যান্ডস: ১ (গাকপো) মরক্কো: ১ (দিয়োপ)

RK NEWZ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২০২৬ বিশ্বকাপে এশীয় সূর্যের উত্থান মন কেড়েছে ফুটবল দুনিয়ার। গোটা মহাদেশকে বিশ্বমঞ্চে মিরাকলের স্বপ্ন দেখিয়েছে জাপান। নেদারল্যান্ডসের মতো দলকে আটকে দিয়ে পৌঁছে গিয়েছে শেষ ৩২-এ। কিন্তু নকআউটের প্রথম লড়াইটাই ছিল পাহাড় প্রমাণ কঠিন। আক্ষরিক অর্থেই যে ব্রাজিল তাদের গুরু। আর শিষ্যদের সেই শৈল্পিক ফুটবলকে দিনের শেষে হার মানতেই হল গুরুর কাছে। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কার্লো আন্সেলোত্তির দল ছিটকে যাওয়াটাই এখানে হত অঘটন। তাই তাদের জয়ের চেয়েও সামুরাই ব্লুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই যেন বেশি করে মনে রাখবেন দর্শকরা। জাপানে ফুটবলের অগ্রগতির নেপথ্যে বিরাট অবদান ব্রাজিলের। জে-লিগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পুরোদস্তুর প্রয়াস চালিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের মক্কা। কখনও কিংবদন্তি জিকো মেন্টর হয়ে উদ্বুদ্ধ করেছেন জাপানের উঠতি খেলোয়াড়দের, তো কখনও ১৯৯৪ বিশ্বজয়ী দলের সদস্য দুঙ্গা জাপানের ক্লাবে খেলেছেন। আজ জাপান যে জায়গায় নিজেদের পৌঁছে দিয়েছে, তাতে তারা যে ব্রাজিলের কাছে চিরকৃতজ্ঞ, তা বলাই বাহুল্য। স্বাভাবিক ভাবেই সেই গুরুই যখন মরণ-বাঁচন লড়াইয়ের প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে, তখন সমীকরণটাই এলোমেলো হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু ম্যাচের প্রথমার্থে খোদ জাপানই ভিনি জুনিয়রদের খেলাটাকে এলোমেলো করে দিল। ২৯ মিনিটে অনবদ্য গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়ে দুনিয়াকে যেন সানো বার্তা দিলেন, হাম ভি কিসিসে কম নহি! আন্সেলোত্তি জমানায় যোগা বোনিতো হয়তো মিস করেন ব্রাজিল সমর্থকরা। কিন্তু খোঁচা খাওয়া বাঘকে দিয়ে কীভাবে শিকার করাতে হয়, তা পোড়খাওয়া বর্তমান কোচ অনেকের চেয়েও অনেক ভালো বোঝেন। আর সেটাই হল দ্বিতীয়ার্থে। জোড়াল হল আক্রমণ। ৫৬ মিনিটে ক্যাসেমিরোর নিখুঁত হেডে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। আর ইনজুরি টাইমের শেষ লগ্নে গোটা স্টেডিয়াম যখন ধরেই নিয়েছে ম্যাচ গড়াবে এক্সট্রা টাইম, ঠিক তখন এল জয়সূচক গোল। দলের শেষ ষোলোর টিকিট পাকা করে দিলেন মার্টিনেলি। তবে জাপানি গোলকিপার সুজুকির দুরন্ত সেভ আর ভিনির শট বারে লেগে ফিরে না এলে আরও বড় ব্যবধানে জিততেই পারত ব্রাজিল। নেইমারকে যে দলের মেরুদণ্ড বলে মানা হয়, সেই নেইমারের অভাব আজও বোধ করতে দেননি ক্যাসেমিরোরা। দলকে নিজের মতো করে গুছিয়ে নিয়ে ভালোই জানেন আন্সেলোত্তি। শেষ ষোলোয় আইভরি কোস্ট অথবা হালান্ডের নরওয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে সেলেকাওয়ের। সেখানে ব্রাজিলের পোস্টার বয় থাকেন কি না, তা লাখ টাকার সওয়াল। তবে আপাতত সাম্বার তালে সেলিব্রেশনের মাঝেও শিষ্যের পারফরম্যান্স নিশ্চিতভাবে মাথা উঁচু করে দেবে ইয়েলো ব্রিগেডের।

বিশ্বকাপে আবার ভার-বিতর্ক, জার্মানির ন্যায্য গোল বাতিল! চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায়ের পর উঠছে প্রশ্ন। বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এ অঘটন ‌ঘটিয়েছে প্যারাগুয়ে। চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়েছে তারা। সেই ম্যাচে ভার প্রযুক্তি নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। বিতর্কের কেন্দ্রে ভার প্রযুক্তি। বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এ অঘটন ‌ঘটিয়েছে প্যারাগুয়ে। চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়েছে। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলার ফল ছিল ১-১। ফলে অতিরিক্ত সময়ে খেলা গড়ায়। অতিরিক্ত সময়ের ১২ মিনিটে কর্নারে থেকে ভেসে আসা বলে হেড করে জার্মানিকে এগিয়ে দেন জোনাথন তাহ। রেফারি জালাল জায়েদ প্রথমে গোলের সিদ্ধান্ত দেন। উল্লাস শুরু করেন জার্মানির ফুটবলারেরা। তার পরেই আসরে আসে ভার প্রযুক্তি। রেফারিকে ভার প্রযুক্তির দায়িত্বে থাকা দল জানায়, গোলের আগে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে ফাউল করা হয়েছে। জালাল টেলিভিশনে রিপ্লে দেখেন। সেখানে দেখা যায়, তাহ হেড করার আগে গোলরক্ষক গিলকে ধাক্কা মেরেছেন ওয়ালডেমার অ্যান্টন। তিনি গোল বাতিল করেন। পরে টাইব্রেকারে জার্মানি হেরে বিদায় নেয়। রেফারির সিদ্ধান্ত মানতে পারেনি জার্মানি। মাঠেই প্রতিবাদ জানান জোসুয়া কিমিচেরা। কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানও উত্তেজিত ছিলেন। কিন্তু রেফারি তাঁদের কথায় কান দেননি। খেলা শেষ হওয়ার পরেও প্রশ্ন থামছে না। সত্যিই কি ফাউল ছিল?
এই প্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার জানিয়েছেন, ফাউল দেওয়ার মতো কিছু হয়নি। ‘বিবিসি’-তে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় থাকা শিয়ারার বলেন, “আমার কাছে ওটা ফাউল নয়। আমি রেফারির সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না। গোলরক্ষক খুব সহজে পড়ে গিয়েছে। ফুটবল তো বডি কনট্যাক্ট খেলা। বক্সে ১৩ জন ফুটবলার ছিল। সেখানে তো একটু ধাক্কাধাক্কি হবেই। আমি রেফারির সিদ্ধান্ত মানতে পারছি না।” রেফারির সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয়েছে জার্মানিকে। টাইব্রেকারে হাভার্ৎজ়ের প্রথম শট আটকে দিয়ে জার্মানিকে চপে ফেলে দেন গিল। আবার নিক ওল্টেমেডকে রুখে দেন চতুর্থ শটে। সে সময় টানা তিন শটে গোল করে জয়ের অপেক্ষায় প্যারাগুয়ে। কিন্তু চতুর্থ শট নিতে এসে বাইরে মারেন অ্যান্তোনিয়ো সানাব্রিয়া। পঞ্চম শটে গোল করে জার্মানির আশা জিইয়ে রাখেন নাদিম আমিরি। এর পর ফাবিয়ান বালবুয়েনার শট আটকে দিয়ে জার্মানিকে লড়াইয়ে ফেরান নয়ার। তাতেও লাভ হল না। প্রথম পাঁচ শটেল পর ফলাফল ৩-৩ হওয়ার পর তুঙ্গে পৌঁছোয় উত্তেজনা। জার্মানির হয়ে ষষ্ঠ শট নিতে আসা তাহ বল উড়িয়ে দেন বারের উপর দিয়ে। আবার চাপে পড়ে যায় চার বারের চ্যাম্পিয়নেরা। এর পর হোসে ক্যানালে গোল করতেই বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় জায়গা করে নেয় প্যারাগুয়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১২ মিনিটে কর্নারে থেকে ভেসে আসা বলে হেড করে জার্মানিকে এগিয়ে দেন জোনাথন তাহ। রেফারি গোল দিলেও ‘ভার’ তা বাতিল করার পরামর্শ দেয়। তাহ হেড করার আগে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক গিলকে বক্সের মধ্যে ফাউল করা হয়েছিল। রিপ্লে দেখে গোল বাতিল করেন রেফারি। তবে ৯ মিনিটের মাথায় তাহ গোলের সামনে বলে মাথা ছোঁয়াতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেন নাগেলসম্যান। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে প্যারাগুয়ের পতন আটকান গিল। অতিরিক্ত সময়ে অন্তত তিন বার গিলের কাছে আটকে গিয়েছে জার্মানি। ১২০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ১-১ ফলে।

গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে ফুটবল দুনিয়ায় হইচই ফেলে দিয়েছিল মরক্কো। জমাট রক্ষণ করে সুযোগ বুঝে প্রতি আক্রমণ-এই ফর্মুলায় একের পর এক হেভিওয়েট প্রতিপক্ষের রাতের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দল। চলতি বিশ্বকাপেও ব্রাজিলকে ধাক্কা দিয়েছিল মরক্কো। ফলে নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে আশরাফ হাকিমিদের ম্যাচ যে ধুন্ধুমার পর্যায়ে পৌঁছবে, ফুটবলপ্রেমীদের হাড্ডাহাড্ডি খেলা উপহার দেবে-এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। মেক্সিকোর স্টেডিয়ামে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে দুই দলই সমানে সমানে টক্কর দিল। ম্যাচের অধিকাংশ সময়টা ছিল মরক্কোর দখলেই। বল পজেশন, নিখুঁত পাস, গোল লক্ষ্য করে শট-সবেতেই এগিয়ে আফ্রিকান দেশটি। ফরোয়ার্ডদের জন্য। শুরুর ১৫ মিনিটের পর থেকে ডাচ বাহিনীকে সেভাবে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু ফুটবলে শেষ কথা বলে গোল। মঙ্গলবার সকালে এই একটা জায়গাতেই বারবার আটকে গেল মরক্কো। একেবারে সাজিয়ে দেওয়া বলেও পা ছোঁয়াতে পারলেন না ইসমাইল সাইবারি। একবার নয়, অন্তত তিনটে সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন মরোক্কান স্ট্রাইকার। সেটা না হলে প্রথমার্ধেই এগিয়ে যেতে পারতেন হাকিমিরা। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের ছবিটা একই রকম। মাঝমাঠ থেকে একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেন ব্রাহিম দিয়াজরা। কিন্তু সেই সুযোগগুলোকে কিছুতেই গোলে পরিণত করা গেল না। ফলে খানিকটা হতাশ হয়ে পড়া মরক্কোকে পালটা দিতে শুরু করে নেদারল্যান্ডস। ৬৫ মিনিটের পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে চলল ডাচ আক্রমণ। গোটা ম্যাচ সেভাবে নজর কাড়তে না পারলেও নেদারল্যান্ডসের উদ্ধারকর্তা হয়ে উঠলেন কোডি গাকপো। এই ম্যাচের আগেই অনাগত সন্তানকে হারিয়েছেন। কিন্তু সেই শোক ভুলে ৭২ মিনিটে গোল। ডাচভক্তরা তখন ধরেই নিয়েছেন, পরের রাউন্ডে যাচ্ছে দল। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিল মরক্কো কোচের মগজাস্ত্র। ৮৮ মিনিটে এসে তালবিকে নামালেন। ঠিক তিন মিনিটের মাথায় গোল, নেপথ্যে তালবির পাসই। ম্যাচ গড়াল একস্ট্রা টাইমে। সেখানেও সুযোগ নষ্টের ধারা বজায় রাখল মরক্কো। পেনাল্টি শুটআউটে গেল হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ। বিশ্বকাপ ডাচদের পেনাল্টিভাগ্য সাম্প্রতিক অতীতে একেবারেই ভালো নয়। গত তিনটে বিশ্বকাপের দু’টিতে খেলেছিল নেদারল্যান্ডস। প্রত্যেকবারই পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নেয় কমলা জার্সিধারীরা। এদিন মরক্কোর বিরুদ্ধেও বজায় থাকল সেই ব্যর্থতা। প্রথম শটটা গোলে ঠেলেও ডাচদের শেষরক্ষা হল না। ১০টার মধ্যে পাঁচটা শটই মিস হল এদিনের পেনাল্টিতে। রক্তাক্ত হওয়া পর মরণবাঁচন শট মারতে এলেন সাইবারি। এবার আর ভুল নয়। গোলে জড়িয়ে গেল বল। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মরক্কো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles