RK NEWZ নকল ওষুধের কারবার রুখতে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের। এখন থেকে ক্যান্সারের ওষুধ, বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, জীবন রক্ষাকারী টিকা এবং বিষণ্ণতার ওষুধের প্যাকেটে কিউআর কোড বাজারে বিক্রি হওয়া নকল ও নিম্নমানের ওষুধ বরাবরই সাধারণ মানুষের উদ্বেগের বড় একটি কারণ। প্রায়শই রোগী ও তাদের পরিবার না জেনেই নকল ওষুধ কিনে ফেলেন, যা রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে আরও ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে নকল ওষুধ কেনা থেকে মানুষ বাঁচতে পারবে।
সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ক্যান্সারের ওষুধ, বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, জীবন রক্ষাকারী টিকা এবং বিষণ্ণতার ওষুধের প্যাকেটে কিউআর কোড (QR Code) বা বারকোড থাকা বাধ্যতামূলক। এই কিউআর কোডটি যেকোনও রোগী, ডাক্তার বা ওষুধের দোকানের মালিককে তাদের মোবাইল ফোন দিয়ে স্ক্যান করে ওষুধটি আসল না নকল, তা দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ১৯৪৫ সালের ঔষধ বিধিতে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে এবং বেশ কিছু অত্যাবশ্যকীয় ঔষধকে একটি বিশেষ শ্রেণীতে (শিডিউল এইচ২) অন্তর্ভুক্ত করেছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হল, ঔষধ উৎপাদন থেকে শুরু করে রোগীদের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ হয়। আগে এই নিয়মটি শুধুমাত্র দেশের শীর্ষ ৩০০টি প্রধান ব্র্যান্ডের ঔষধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল, কিন্তু সরকার এখন এর পরিধি আরও প্রসারিত করে সমস্ত গুরুতর ও সংবেদনশীল রোগের ঔষধকে এর আওতায় এনেছে।
QR কোড স্ক্যান করে আপনি কী জানতে পারবেন?
যখন আপনি ওষুধের প্যাকেটে থাকা এই বিশেষ কিউআর কোডটি আপনার মোবাইল দিয়ে স্ক্যান করবেন, তখন ওষুধ সম্পর্কিত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনার ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। যেমন –
১. ওষুধটির আসল ব্র্যান্ড-এর নাম এবং এর জেনেরিক নাম।
২. ঔষধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির নাম এবং সম্পূর্ণ ঠিকানা।
৩. ওষুধের ব্যাচ নম্বর।
৪. ঔষধটি কবে তৈরি করা হয়েছে এবং এর মেয়াদ কবে শেষ হবে তার তারিখ।
৫. যে কোম্পানির তৈরি করেছে তার লাইসেন্স নম্বর।
যে বিষয়টি মাথায় রাখবেন –
ওষুধের লিফলেট বা শিশি কিউআর কোড বসানোর জন্য খুব ছোট হলে, বাইরের প্যাকেজিং-এর উপর তা ছাপানো বাধ্যতামূলক। কিউআর কোড ছাড়া ওষুধ বিক্রি এখন থেকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে গণ্য হবে।
এই নিয়মটি কখন কোন ওষুধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে?
সরকার ওষুধ কোম্পানিগুলোকে এই নতুন নির্দেশ মানতে এবং বাস্তবায়িত করতে প্রস্তুত হওয়ার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
১ জুলাই, ২০২৬ থেকে: সকল ভ্যাকসিন, ক্যান্সারের ওষুধ এবং মানসিক রোগের (যেমন বিষণ্ণতা) ওষুধ কিউআর কোড ছাড়া বিক্রি করা যাবে না।
১ জুলাই, ২০২৮ থেকে: সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক (জীবাণুনাশক) ওষুধের ওপর কিউআর কোড ছাপানো বাধ্যতামূলক করতে হবে।





