RK NEWZ সিএবি নির্বাচনে ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ। তৃণমূল নেতার ‘হুমকি’। একের পর এক কীর্তি ফাঁস। সিএবি নির্বাচনে জবরদস্তি চেয়ার দখলের ইতিবৃত্ত। পেটে লাথি মেরে দেবো মুখ থেকে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসবে! এমন হুমকিও শোনা যায় সিএবি নির্বাচনে। সৌরভ পন্থীদের থেকে প্রাপ্ত হুমকি, এমনটাই খবর সূত্রের। বর্তমানে সৌরভ-রাজত্বে থাকা সিএবির এক বড় কর্তার নামেও এইরকম হুকির অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্র মারফৎ জানা যায়। সেই কর্তা সৌরভ ঘনিষ্ঠও বলে জানা যাচ্ছে সূত্র মারফৎ। সৌরভ ঘনিষ্ঠ কর্তাকে মাঝেমধ্যেই নাকি বলতে শোনা যায়, ‘হুমকি’ র সুর — ‘তুই যেটা ভালো বুঝবি করে নে, বাকিটা আমি বুঝে নেবো’ । এইরকম আশ্বাসবাণী পেয়ে উজ্জীবিত কর্তার মুখে প্রায়শই ‘হুমকি’ র সুরের অভিযোগ। সিএবি অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য পদ থেকে বৃহস্পতিবার হঠাৎই ইস্তফা দেন আশিস চক্রবর্তী। সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে তিনি জানিয়ে দেন যে, ব্যক্তিগত কারণে সিএবি অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য হিসেবে আর থাকতে চান না। এরপরই মুখ খুললেন বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী সভাপতি সুদীপ চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য, আশিস চক্রবর্তী নয়, তাদের তরফ থেকে অ্যাপেক্স কাউন্সিলে পাঠানোর কথা ছিল অতনু দে’কে। কিন্তু তাঁর বদলে সিএবি মনোনীত না হওয়া সত্ত্বেও আশিস চক্রবর্তীকেই পাঠানো হয়। কেন এই অবস্থা? সুদীপ চক্রবর্তীর অভিযোগ, “আমি এর আগে বাঁকুড়া জেলা ক্রিকেট সংস্থার ভোটে দাঁড়াতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তখন ক্লাবগুলোকে ধমকে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আমি তখন বাঁকুড়া কোর্টে মামলাও করি। কিন্তু ওরা ঝামেলা করায় সব খারিজ হয়ে যায়। তারপর ওরা একজন পাঁচজনের ভোট দিয়ে জিতল। অতনু দে’র সিএবি প্রতিনিধি হিসেবে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তৃণমূল নেতা সৈকত চৌধুরী, অরূপ চক্রবর্তীরা হুমকি দেন। কলকাতা থেকেও ফোন আসে। এক্সকিউটিভ কমিটিতে পাস হওয়া সত্ত্বেও অতনু দে’র বদলে আশিস চক্রবর্তীকে পাঠানো হয়। ডিএম নিজে দায়িত্ব নিয়ে এই কাজ করেছেন। আশিস চক্রবর্তী তো কলকাতায় থাকেন, উনি এখান থেকে কেন যাবেন?” এমনকী অরূপ চক্রবর্তী হুমকিও দিয়েছিলেন, পেটে লাথি মেরে দেব!
যে কোন জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রধান হন ডিএম। কিন্তু কাউকে মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানোর এক্তিয়ার তাঁর নেই। সুদীপ চক্রবর্তী আরও বলেন, “২০২৫-এ ফের ভোট হয়। ধমকানো-চমকানো সত্ত্বেও আমি কার্যকরী সভাপতি হই। কিন্তু আমি বিজেপির আর বাকিরা তৃণমূলের। আমি সবাইকে পদত্যাগ করতে বলি। তার জায়গায় প্রাক্তন ফুটবলার গৌরব সেনগুপ্তকে সম্পাদক করি। এবার আমরা ফের মিটিং ডেকেছি। সেখানে যাঁর নাম ঠিক হবে, তাঁর নাম সিএবি’তে নির্বাচনে পাঠানো হবে। এভাবে গোটা সিস্টেমটা খারাপ করে দিয়েছিল। এঁদের জন্য জেলা থেকে প্লেয়ার উঠছে না।” এর আগে মেদিনীপুর ও নদিয়া জেলা সংস্থাও সিএবি নির্বাচনে ‘রাজনৈতিক প্রভাবে’র অভিযোগ তুলেছে। ২০ জুলাই সিএবি’তে যুগ্মসচিব পদে নির্বাচন। সেখানে এই ঘটনাবলির প্রভাব পড়ে কি না সেটাই দেখার। মেদিনীপুর, নদিয়ার পর এবার বাঁকুড়া। গত বছরের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের নির্বাচনে ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ তুলল আরও একটি জেলা ক্রীড়া সংস্থা। বাঁকুড়ার ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী সভাপতি সুদীপ চক্রবর্তীর অভিযোগ, সিএবি মনোনীত প্রতিনিধিকে অ্যাপেক্স কাউন্সিলে পাঠানোই যায়নি। কেন? নেপথ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘হুমকি’ ও জেলাশাসকের ক্ষমতার ‘অপপ্রয়োগ’।





