RK NEWZ হঠাৎ ইস্তফা প্রদান? এথচ, মসনদ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দখলে থাকাকালীন। বিশেষ করে সিএবিকে কেন্দ্র করে যখন বর্তমানে তীব্র টালমাটাল পরিস্থিতি? ৭০ পেরিয়ে যাওয়ায় পদত্যাগ সিএবির অ্যাপেক্স কমিটির সদস্যের, ফের প্রশ্ন সহ সভাপতির বয়স নিয়ে। আশিস বলছেন, ‘সম্প্রতি বয়স ৭০ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও পদে থাকা নিয়ে যেরকম বিতর্ক হয়েছে, চাই না আমাকে নিয়ে সেরকম প্রশ্ন উঠুক।’ প্রকৃত জন্মতারিখ অনুযায়ী হয়তো আরও মাস ছয়েক টেনে দেওয়া যেত। কারণ, সিএবি-র রেকর্ড অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৪ জানুয়ারি, ১৯৫৭। কিন্তু মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড অনুযায়ী গত ১৩ জুন সত্তর পূর্ণ করেছেন সিএবি-র অ্যাপেক্স কমিটির সদস্য আশিস চক্রবর্তী। বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি হিসাবে যিনি সিএবি-তে এসেছিলেন। অ্যাপেক্স কমিটিতেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত লোঢা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও অনুমোদিত সব সংস্থার সংশোধিত গঠনতন্ত্রে সাফ লেখা আছে, বয়স সত্তর পেরিয়ে গেল আর কোনও পদে থাকা যাবে না। তাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরাসরি সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এলেন আশিস। জানিয়ে দিলেন, আর অ্যাপেক্স কমিটিতে থাকছেন না, ইস্তফা দিলেন। সিএবি অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য পদ থেকে হঠাৎই চিঠি দিয়ে সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে তিনি জানিয়ে দেন ইস্তফার কথা। আশিস চক্রবর্তী বলেন, ব্যক্তিগত কারণে সিএবি অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য হিসেবে আর থাকতে চান না। অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্য হিসেবে বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থাকে যে সময় দেওয়া উচিত, তা আশিসের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই সিএবি প্রেসিডেন্টের কাছে আশিস আবেদন করেছেন যে, তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হোক। কেন ইস্তফা? আশিস বলেন, ‘‘দেখুন, আমার নথি অনুসারে আগামী জানুয়ারি মাসে সত্তর বছর হবে। কিন্তু আসলে আমার সত্তর বছর গত ১৩ জুন হয়ে গিয়েছে। জন্মদিন পালনও হয়েছে। নথি অনুযায়ী, আমি থাকতে পারতাম। কিন্তু বিবেক সায় দিল না। আমার জন্মদিনের পর বিষয়টা নিয়ে অনেক ভেবেছি। আমার মনে হয়েছে, নৈতিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে আমার সরে যাওয়াই ঠিক হবে। তাই সিএবি প্রেসিডেন্টকে আমরা ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছি।’’ আশিসের পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে ময়দানের একটা অংশ। যাঁরা মনে করছেন, উদাহরণ তৈরি করলেন আশিস। তবে আর একটা অংশ থেকে বলা হচ্ছে, গত বছরের বার্ষিক সাধারণ সভায় বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি হিসাবে আশিসের আসাটাও বিতর্কমুক্ত ছিল না। বলা হচ্ছে, বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সেই সময়কার সচিব অতনু দে-র আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তাঁর পরিবর্তে আশিস এসেছিলেন সিএবি-তে। নাম না করলেও, আশিস যে সত্তর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও পদ আঁকড়ে থাকা সিএবি-র সদ্যপ্রাক্তন যুগ্মসচিব মদন ঘোষকে নিয়ে বিতর্কের দিকে ইঙ্গিত করলেন, ওয়াকিবহাল সকলেই তা বুঝতে পারছেন। বহু বিতর্কের পর যাঁকে সরাতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছে সিএবি। ২০ জুলাই বিশেষ সাধারণ সভা করে নতুন যুগ্মসচিব নির্বাচন করা হবে। ১২ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। নিয়ম অনুযায়ী, আশিসের বয়স ৭০ পেরনোর ৪৫ দিনের মধ্যে অ্যাপেক্স কমিটির শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে। তবে যেহেতু ৪৫ দিন হচ্ছে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে, আর এমনিতেই ২০ জুলাই বিশেষ সাধারণ সভা রয়েছে, তাই শোনা গেল কেউ কেউ এমন প্রস্তাবও দিয়েছেন যে, আগের নোটিস বাতিল করে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ২০ জুলাইয়ের বিশেষ সাধারণ সভায় যুগ্মসচিবের পাশাপাশি অ্যাপেক্স কমিটির শূন্যস্থানটিতেও নির্বাচন হোক। বল এখন সিএবি-র কোর্টে।

লোধা আইন অনুযায়ী কোনও ক্রিকেট প্রশাসনিক কর্তার বয়স সত্তর বছর হয়ে গেলে, তিনি আর পদে থাকতে পারবেন না। যে কারণে দীর্ঘ টালবাহানা শেষে সিএবি যুগ্ম সচিব মদন ঘোষকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে সিএবি। যুগ্ম সচিব পদে নির্বাচনও ডাকা হয়েছে। এবার আশিসও সরে গেলেন। কিন্তু সিএবি অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্যের ইস্তফার পর স্থানীয় ক্রিকেটমহল একটা প্রশ্ন তুলছে। বলাবলি চলছে, আশিস না হয় নৈতিকতার কথা ভেবে সরে গেলেন। তাঁর নথি অনুযায়ী বয়স সত্তর বছর না হওয়া সত্ত্বেও। কিন্তু বাকিরা? যেমন সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন দত্ত? তাঁর তো দু’রকম নথি। এসআইআর তালিকা অনুযায়ী, নীতীশরঞ্জনের বয়স সত্তর হয়ে গিয়েছে! ও দিকে, তাঁর পাসপোর্ট সহ অন্যান্য নথিতে বয়স রয়েছে উনসত্তর! বলাবলি চলছে, একই লোকের দু’রকম বয়স কী করে হতে পারে? কোনটাই বা নীতীশের আসল বয়স? সত্তর নাকি উনসত্তর? তথ্য-প্রমাণাদি সহ নীতীশের ‘আসল’ বয়সের প্রমাণ দেবে কে? অথচ সেই একই সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্টের বয়স নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তোয়াক্কা করছেন না বলে অভিযোগ। সংশোধিত ভোটার তালিকায় (SIR) তাঁর বয়স ৭০ বছর হয়ে গিয়েছে। অথচ সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন দত্ত, ময়দানে যিনি অনু দত্ত নামেই বেশি পরিচিত, পদ আঁকড়ে রয়েছেন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাফ বলে দিচ্ছেন, ‘পাসপোর্টে আমার বয়স ৬৯ বছর। জানি না SIR-এ কী করে ৭০ হল। পদত্যাগের প্রশ্নই নেই।’ যা শুনে সিএবি-রই একাংশ বলছে, দুজনের জন্য দুই আলাদা নিয়ম হয় কী করে! প্রশ্ন উঠছে, দু’জায়গায় দুরকম বয়স থাকা আশিস যদি ‘বিবেকের তাড়নায়’ পদত্যাগ করতে পারেন, তাহলে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নীতীশরঞ্জন বহাল থাকছেন কীভাবে! লোধা কমিটির সুপারিশ ও সুপ্রিম কোর্ট অবমাননার অভিযোগে বিদ্ধ হচ্ছেন অনু।

লোধা আইন অনুযায়ী কোনও ক্রিকেট প্রশাসনিক কর্তার বয়স সত্তর বছর হয়ে গেলে, তিনি আর পদে থাকতে পারবেন না। যে কারণে দীর্ঘ টালবাহানা শেষে সিএবি যুগ্ম সচিব মদন ঘোষকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে সিএবি। যুগ্ম সচিব পদে নির্বাচনও ডাকা হয়েছে। এবার আশিসও সরে গেলেন। কিন্তু সিএবি অ্যাপেক্স কাউন্সিল সদস্যের ইস্তফার পর স্থানীয় ক্রিকেটমহল একটা প্রশ্ন তুলছে। বলাবলি চলছে, আশিস না হয় নৈতিকতার কথা ভেবে সরে গেলেন। তাঁর নথি অনুযায়ী বয়স সত্তর বছর না হওয়া সত্ত্বেও। কিন্তু বাকিরা? যেমন সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন দত্ত? তাঁর তো দু’রকম নথি। এসআইআর তালিকা অনুযায়ী, নীতীশরঞ্জনের বয়স সত্তর হয়ে গিয়েছে! ও দিকে, তাঁর পাসপোর্ট সহ অন্যান্য নথিতে বয়স রয়েছে উনসত্তর! বলাবলি চলছে, একই লোকের দু’রকম বয়স কী করে হতে পারে? কোনটাই বা নীতীশের আসল বয়স? সত্তর নাকি উনসত্তর? তথ্য-প্রমাণাদি সহ নীতীশের ‘আসল’ বয়সের প্রমাণ দেবে কে? অথচ সেই একই সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্টের বয়স নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তোয়াক্কা করছেন না বলে অভিযোগ। সংশোধিত ভোটার তালিকায় (SIR) তাঁর বয়স ৭০ বছর হয়ে গিয়েছে। যে নথিও রয়েছে এবিপি লাইভ বাংলার হাতে। অথচ সিএবি ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জন দত্ত, ময়দানে যিনি অনু দত্ত নামেই বেশি পরিচিত, পদ আঁকড়ে রয়েছেন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাফ বলে দিচ্ছেন, ‘পাসপোর্টে আমার বয়স ৬৯ বছর। জানি না SIR-এ কী করে ৭০ হল। পদত্যাগের প্রশ্নই নেই।’ যা শুনে সিএবি-রই একাংশ বলছে, দুজনের জন্য দুই আলাদা নিয়ম হয় কী করে! প্রশ্ন উঠছে, দু’জায়গায় দুরকম বয়স থাকা আশিস যদি ‘বিবেকের তাড়নায়’ পদত্যাগ করতে পারেন, তাহলে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নীতীশরঞ্জন বহাল থাকছেন কীভাবে! লোঢা কমিটির সুপারিশ ও সুপ্রিম কোর্ট অবমাননার অভিযোগে বিদ্ধ হচ্ছেন অনু।

পাশাপাশি, এই সৌরভ রাজত্বেই থ্রেট কালচার। শোনা যায় সৌরভের আপ্তসহায়কের নির্দেশে দীর্ঘ ২৩ বছর স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কর্মরত সাংবাদিককে সিএবিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়। অথচ, জগমোহন ডালমিয়া, অভিষেক ডালমিয়া এমনকি স্নেহাশীষ গাঙ্গুলির রাজত্বে এইরকম কোনও ঘটনা ঘটেনি। এমনকি সৌরভের বিরুদ্ধে কোনও সত্য ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করলেও, সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে ‘মুখ বন্ধ’ করার চেষ্টায় সিএবি প্রেসিডেন্ট! নেটিশ পাঠিয়ে ভষ প্রদর্শণের অভিযোগ উঠল সৌরভের বিরুদ্ধে। ক্রীড়া সাংবাদিককে ‘৫০ কোটির’ নোটিস পাঠিয়ে সৌরভের ‘থ্রেট কালচার’! এভাবেই সিএবিতে ‘থ্রেট কালচার’ চলছেই। একের পর এক সাংবাদিককে হুমকি। দিন দুয়েক আগে এক সাংবাদিককে হুমকি দেন এক অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য। এবার হুমকি চিঠি দিলেন খোদ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এক সাংবাদিকের লেখার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে নোটিশ জারী করলেন খোদ সিএবি প্রেসিডেন্ট। জনৈক ক্রীড়া সাংবাদিকের তরফেও ‘থ্রেট কালচার’ এর নোটিশের প্রমাণ সমেত জানাচ্ছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী, রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, এমনকি আইসিসি বিসিসিআইকেও সংবাদমাধ্যমের মুখ বন্ধের প্রচেষ্টা ‘থ্রেট কালচার’এর পুরো বিষয়টা জানিয়ে চিঠি করা হচ্ছে। সাংবাদিককে ৫০ কোটি টাকার মামলার নোটিশ ধরালেন সৌরভ। নোটিশ পাঠানোর কারণ হিসাবে দেখিয়েছেন ‘সৌরভ ঘনিষ্ঠ’ কথার উল্লেখ। সাংবাদিকর উদ্দ্যেশেও ‘থ্রেট কালচার’। সিএবি ডিস্ট্রিক্ট কমিটির চেয়ারম্যান সুজয় হাজরা গ্রেফতার হওয়ার খবর প্রকাশ করায় সৌরভের ক্ষোভ প্রকাশ। এই সুজয়বাবুকে গত কয়েক মাস ধরে বহুবার সৌরভের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ ভাবে দেখা যাওয়ার ছবিও রয়েছে। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরাকে জমি কেলেঙ্কারী মামলায় শালবনি থানার পুলিশ গ্রেফতারও করেছে। সিএবি ডিস্ট্রিক্ট কমিটির চেয়ারম্যান সুজয় হাজরা সম্পর্কে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন খোদ মেদীনিপুর ডিস্ট্রিক্টের সচিব এবং তিনিও সৌরভকে ‘সৌরভ ঘনিষ্ঠ’ বলে উল্লেখ করেছেন সুজয় হাজরাকে।

প্রশ্ন হচ্ছে — দীর্ঘক্ষণ সুদীর্ঘ সময় ধরে দিনের পর দিন একজন ব্যাক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে থাকা পাশে থেকে চা ইত্যাদি খাওয়াদাওয়া, আড্ডা দেওয়া সিএবি ডিস্ট্রিক্ট কমিটির চেয়ারম্যান বানানো ইত্যাদি আরও কিছু প্রমাণ করে কী—— ‘ঘনিষ্ঠ’ শব্দের উল্লেখ
৫০ কোটির নেটিশ ধরিয়ে সৌরভের দ্বারা সাংবাদিককে মুখ বন্ধ করার চেষ্টার কারণ জেনে নেওয়া যাক—
সেদিনের লেখাটা ছিল এইরকম —
সিএবি’র ডিস্ট্রিক্ট কোচিং কমিটির চেয়ারম্যান সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয় গ্রেফতার!‘শালবনি’ থানার পুলিশ মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরাকে জমি কেলেঙ্কারী মামলায় গ্রেফতার করে! সিএবি অর্থাৎ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল-এর ডিস্ট্রিক্ট কমিটির চেয়ারম্যান গ্রেফতার। জমি মামলার দুর্নীতিতে গ্রেফতার করেছে শালবনি থানার পুলিশ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সুজয় হাজরা পরিচিত নাম। তিনি আবার বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেও পরিচিত। সিএবি নির্বাচনে বেশ বড় ভুমিকা গ্রহন করেছিলেন তৃণমূল দলের জেলা সভাপতি সুজয়। এবার জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয় হাজরার। শালবনি থানা গ্রেফতার করেছে সুজয়কে। শালবনি জমি কেলেঙ্কারীতে উঠে আসছে সুজয়ের নাম। প্রশ্ন উঠে আসছে, কে এই সুজয়? কেন তিনি সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’? দীর্ঘ বছরের পর বছর ধরে মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টসের সেক্রেটারী সঞ্জিত তরাই। অথচ সিএবি নির্বাচনের তাগিদে সিএবিতে প্রভাব বিস্তার করেন গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল বিধায়ক। সমস্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখা হয় জেলা সম্পাদক সঞ্জিত তরাইকে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টসের জবরদখল পদধারী সচিব শ্যামল মিত্রর ক্ষেত্রেও। হাওড়ার সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ, জমি মাফিয়া দালাল অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা শ্যামল মিত্র, ঠিক একইভাবে সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসের ঘনিষ্ঠ হন প্রথমে। পরে, সঞ্জয় মারফৎ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হয়ে যান শ্যামল মিত্র। এমনকি শ্যামল মিত্রের মেয়ের বিয়েতেও সিএবির প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসকে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে।হাওড়ার মানুষ সেই থেকে শ্যামল মিত্রকে সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেই জানতে শুরু করে। যে ভিডিও সোস্যল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিল শ্যামল মিত্রের দুর্নীতিবাজ জামাই বলেও অভিযোগ। শ্যামল মিত্রের উপর সাধারন মানুষের উপহার দেওয়া গনপিটুনির ছবিও ভাইরাল। একইভাবে, এবার জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয় হাজরার। শালবনি থানা গ্রেফতার করেছে। একইভাবে বালি থেকে গ্রেফতার হয়েছে ড্রাগ পাচার, তোলাবাজি, জমি দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কৈলাশ মিশ্রও। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হাওড়া শহর অঞ্চলের তৃণমূল নেতা কৈলাস মিশ্র গত বিধানসভা ভোটে বালির তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন। হাওড়া সদর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি পদে রয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী কৈলাস। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কৈলাসের বেশ আন্তরিক ছবি সোস্যল মিডিয়ায় ভাইরাল। তাঁর বিরুদ্ধে জাল ওষুধের ব্যাবসা ও পাচার, তোলাবাজি, মারধর-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে মামলা রয়েছে। প্রায় মাসখানেক ধরে পলাতক ছিলেন কৈলাস মিশ্র। শুক্রবার হাওড়ায় কৈলাস মিশ্রের একটি গুদাম থেকে বেআইনি ওষুধ উদ্ধার হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে হাওড়া সিটি পুলিশ। বিহারে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূল নেতাকে। শনিবার হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দাদের একটি দল বিহারের মধুবনী জেলায় যায়। সেখানে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে কৈলাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় কৈলাস। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে তৃণমূলের অন্দরেরই খবর। ৪ মে-র পর থেকে কৈলাস বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে লুকিয়েছিলন বলে অভিযোগ। হাওড়া সিটি পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিহারের মধুবনী জেলায় তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে হানা দেয়। কৈলাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারধর, গুন্ডামি, সরকারি কাজে বাধা, হুমকি-সহ একাধিক ধারায় পুলিশ মামলা শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। তারপর ট্রানজিট রিমান্ডে সোমবার হাওড়ায় নিয়ে আসা হবে।

শালবনির জমি মাফিয়া? কে এই দাপুটে জমি কেলেঙ্কারীর নায়ক? তৃণমূল থেকে সংগঠন ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ওই দলের জেলা সভাপতি ছিলেন। জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার। শনিবার সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃণমূল নেতাকে শালবনি থানায় ডাকা হয়েছিল। রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে হয়েছে পুলিশ সূত্রে খবর। কয়েক দিন আগে বালি মাফিয়াদের যোগসাজশের অভিযোগে কেশিয়াড়ির তৃণমূল নেত্রী কল্পনা শিটকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিয়ে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, সেই সময় কল্পনা জানিয়েছেন সুজয়-সহ জেলার বেশ কয়েক জন তৃণমূল নেতার নাম বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের বাদ রেখে কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল। সুজয়কে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সন্ধ্যায় তাঁর গ্রেফতারির খবর মেলে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘জমি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে। শুক্রবার শালবনি থানায় একটি জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য শালবনি থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল অভিযুক্তকে। তদন্ত চলছে। এখনই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’’ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সুজয় হাজরা পরিচিত নাম। গত বুধবার তৃণমূল থেকে জেলা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ওই দলের জেলা সভাপতি ছিলেন। এ বার পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৩টিতে হেরেছে তৃণমূল। পরাজিতদের মধ্যে রয়েছেন সুজয়ও। প্রায় ৩৮ হাজার ভোটে পরাস্ত হন তিনি। ভোটের আগে মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্যগোপনের অভিযোগ করে বিজেপি। তাঁর প্রার্থিপদ বাতিলের দাবি তোলা হয়। তিনি ব্যবসায়িক সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি প্রার্থী, বর্তমান বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত।

গ্রেফতার হওয়া তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে গিয়েছিলেন সিএবির বার্ষিক সভায়। জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। এ বার তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠল, প্রভাব খাটিয়ে সিএবির বার্ষিক সভায় গিয়েছিলেন। আরও বিপাকে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা। জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। এ বার সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয়ের বিরুদ্ধে ক্রীড়াক্ষেত্রেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে বাংলার ক্রিকেট সংস্থা বা সিএবির বার্ষিক সভায় গিয়েছিলেন তিনি। তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের পাশাপাশি আরও একটি পরিচয় রয়েছে সুজয়ের। তিনি সিএবির ডিস্ট্রিক্ট কোচিং সাব কমিটির চেয়ারম্যান। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করেছেন সঞ্জিত তরই। তিনি মেদিনীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব। সঞ্জিতের অভিযোগ, গত বছর সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিনিধিত্ব করা নিয়ে প্রভাব খাটিয়েছিলেন সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয়। সঞ্জিতের অভিযোগ, মেদিনীপুর জেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল তাঁর। তিনি বলেন, “গত বছর সিএবির বার্ষিক সভায় ঠিক হয়েছিল, মেদিনীপুর জেলা থেকে আমি প্রতিনিধিত্ব করব। সেই মতো ফর্মও জমা দিতে গিয়েছিলাম। সেই সময় সিএবির অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট বিশ্বপতি সেন আমার অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম দেখে বলেন, ফর্মে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে। এই ফর্ম গ্রহণ করা যাবে না।” সঞ্জিত জানিয়েছেন, এই কথা শুনে তিনি জেলায় ফিরে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি জানান যে, ফর্মে কিছু সমস্যা রয়েছে। সঞ্জিত বলেন, “তখন হঠাৎ সুজয় এসে বলে, ‘আমাকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন বার্ষিক সভায় যেতে।’ এই নিয়ে আবার বৈঠক হয়। সেখানে প্রভাব খাটিয়ে সুজয় নিজের নাম পাশ করিয়ে নেয়। মাথা নিচু করে বাধ্য হয়ে আমিও ওর নামে সই করি।” রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ খুলেছেন সঞ্জিত। প্রশ্ন উঠছে সিএবির অন্দরেও। বিশ্বপতি একজন অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট হয়ে কী ভাবে স্ক্রুটিনি করলেন? এটা কি করা যায়? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সিএবির বিভিন্ন মহলে।

কয়েক দিন আগে বালি মাফিয়াদের যোগসাজশের অভিযোগে কেশিয়াড়ির তৃণমূল নেত্রী কল্পনা শিটকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিয়ে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, সেই সময় কল্পনা জানিয়েছেন সুজয়-সহ জেলার বেশ কয়েক জন তৃণমূল নেতার নাম বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের বাদ রেখে কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল। কাকতালীয় ভাবে সুজয়কে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সন্ধ্যায় তাঁর গ্রেফতারির খবর মেলে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘জমি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে। শুক্রবার শালবনি থানায় একটি জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য শালবনি থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল অভিযুক্তকে। তদন্ত চলছে। এখনই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’’ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয় হাজরা পরিচিত নাম। গত বুধবার তৃণমূল থেকে জেলা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ওই দলের জেলা সভাপতি ছিলেন। এ বার পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৩টিতে হেরেছে তৃণমূল। পরাজিতদের মধ্যে রয়েছেন সুজয়ও। প্রায় ৩৮ হাজার ভোটে পরাস্ত হন।

কিছুদিন আগেও কিংবদন্তি ক্রিকেটার পঙ্কজ রায়ের পুত্র প্রণব প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘‘সিএবি কর্মীর পোস্ট থেকে এটা পরিষ্কার যে, উনি আমার বা আমার বাবা পঙ্কজ রায় সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এটা পরিষ্কার যে ওঁকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে লেখানো হয়েছে। দেখুন, আমার পরিবারকে কেউ যদি অপমান করে, আমাকে যদি অপমান করে, ছেড়ে কথা বলব না। কারণ আজ যদি ছেড়ে দিই, তা হলে আগামীকাল আবার আমাকে অপদস্থ করার চেষ্টা করা হবে। সিএবির বিরুদ্ধে বলতে আমার ভালো লাগে না। কারণ, বাংলা ক্রিকেট, বাংলার ক্রিকেট সংস্থার কারণেই আমি প্রণব রায় হয়েছি। সংস্থার বিরুদ্ধে আমি বলছি না। বলছি, যারা সংস্থা আজ চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে। আমি মিডিয়ায় দেখেছি, বাবার জন্মদিনে যে ফুল ব্যবহার করেছে সিএবি, তা বাসি না তাজা, তাই নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। আমি তাই সিএবির কাছে সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছি। যাতে চক্ষুকর্ণের বিবাদভঞ্জন হয়। তাতে ভুলটা কোথায়? আমি ফুটেজ চেয়ে ই-মেল করেছিলাম সিএবিকে। আজ পর্যন্ত তার কোনও উত্তর পাইনি। দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি, সিএবি এখন মিথ্যের উপর ভিত্তি করে চলছে!’’




