Friday, June 26, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

পড়াশোনার পাশাপাশি প্রয়োজন উপার্জন! শিক্ষাগত যোগ্যতার থেকে বড় হয়ে উঠছে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা

RK NEWZ আধুনিক বিশ্বের যে কোনও পেশায় অভিজ্ঞতার মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার থেকে বড় হয়ে উঠছে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা। তাই পড়াশোনা করতে করতে কোনও কাজে হাত পাকিয়ে ফেলতে পারলে আগামী দিনে সেই বিষয়ে অগ্রাধিকারও পাওয়া যেতে পারে। কী কী পেশা বেছে নেওয়া যেতে পারে? গত দু’দশকে একটু একটু করে বদলেছে পড়াশোনার পরিধি। একই সঙ্গে বদলাচ্ছে পেশাগত বৃত্ত। পশ্চিমা দেশগুলির মতো এখন এ দেশেও উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি রোজগারের তাগিদ অনুভব করছে যুব প্রজন্ম। তাই বহু কলেজ পড়ুয়াই পড়াশোনার ক্ষতি না করে আংশিক সময়ের কাজ খুঁজতে চান। আবার গত কয়েক বছরে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ খোঁজার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে আরও একটি কারণে। আধুনিক বিশ্বের যে কোনও পেশায় অভিজ্ঞতার মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার থেকে বড় হয়ে উঠছে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা। তাই পড়াশোনা করতে করতে কোনও কাজে হাত পাকিয়ে ফেলতে পারলে আগামী দিনে সেই বিষয়ে অগ্রাধিকার পাওয়া যেতে পারে। চাকরির আবেদন করার সময় জীবনপঞ্জী হয়ে উঠবে আকর্ষণীয়।

পড়াশোনা চালিয়েও যে কাজগুলি করতে পারেন—

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট —ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা লিঙ্কডইন-এর মতো সমাজমাধ্য ছাড়া আধুনিক বিশ্বে চলাফেরা করাই যেন মুশকিল হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ সব কাজ ফেলে এই সমাজমাধ্যমে মজে থাকলেও ইনফ্লুয়েন্সার বা সেলেব্রিটিদের সে সময় নেই। তাঁদেরই সব থেকে বেশি প্রয়োজন সমাজমাধ্যমের। তাই তাঁরা পেশাদার নিয়োগ করে থাকেন সমাজমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। শুধু এটুকুই নয়। বিভিন্ন ছোট-বড় ব্র্যান্ড, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হয়েও সমাজমাধ্যমের পেজ নিয়ন্ত্রণ করা, নিয়মিত পোস্ট শিডিউল করা এবং ফলোয়ারদের কমেন্টের উত্তর দেওয়ার মতো কাজ করে দিতে হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি উপার্জনের জন্য এটি খুব ভাল বিকল্প হতে পারে।

ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট — কম্পিউটার বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ তৈরি একটি লাভজনক ফ্রিল্যান্স ক্ষেত্র। প্রোগ্রামিং দক্ষতা থাকলে দেশ-বিদেশের ক্রেতার সঙ্গে কাজ করা যায়।

অনুবাদ ও লিপ্যন্তর — একাধিক ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীরা অনুবাদ বা অডিও-টু-টেক্সট ট্রান্সক্রিপশনের কাজ করতে পারেন। আন্তর্জাতিক বাজারেও এই ধরনের কাজের চাহিদা রয়েছে।

ফোটোগ্রাফি ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি — ফোটোগ্রাফি, ভিডিয়োগ্রাফি বা কনটেন্ট ক্রিয়েশনে আগ্রহ থাকলে সমাজমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জন্য কাজ করা যেতে পারে। পরবর্তীকালে একেই পূর্ণ সময়ের পেশা হিসাবে বেছে নেওয়া যেতে পারে।

গ্রাফিক ডিজাইনিং ও ভিডিয়ো এডিটিং — ডিজিটাল দুনিয়ায় এখন ছবি এবং ভিডিয়োর রমরমা। ইউটিউব রিলস, শর্টস বা লোগো বানানোর কাজের চাহিদা এখন আকাশছোঁয়া। নানা ধরনের অ্যাপ রয়েছে। তার মধ্যে কোন কোনটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। সে ক্ষেত্রে সামান্য সফটওয়্যারের কাজ শিখে নিতে পারে, ফ্রিলান্সার হিসাবে উপার্জন করার সুযোগ রয়েছে।

গৃহশিক্ষক বা অনলাইন শিক্ষক — শিক্ষকতাকে পেশা করতে চাইলেও এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। অতিমারির পর থেকে কোচিং সেন্টার, নিজের বাড়ি ছাড়াও অনলাইনে টিউটরদের চাহিদা প্রচুর। তাই ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যদের পড়িয়েও বেশ কিছু অর্থ উপাৰ্জন করতে পারেন। অনেকের ক্ষেত্রে এই আয়ের পরিমাণ সর্বাধিক ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে!

ডেটা এন্ট্রি অপরেটর — দ্বাদশ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই নানা সংস্থায় ডেটা এন্ট্রি অপরেটরের কাজ আংশিক সময়ের জন্য করা যেতে পারে। কম্পিউটারের এমএস অফিস-এর বিষয়ে দক্ষতা থাকলে এই কাজ শুরু করা যেতে পারে। এটি সাধারণত সম্পূর্ণ সময়ের কাজ হলেও অনেক সংস্থাই স্বল্প সময়ের জন্য কর্মী নিয়োগ করে থাকে। কোনও শিক্ষার্থী কলেজে পড়াশোনোর পাশাপাশি কল সেন্টার কর্মী বা গ্রাহক সেবা কার্যনির্বাহক হিসাবেও কাজ করতে পারেন আংশিক সময়ের জন্য। ছাত্রছাত্রীরা ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার গ্রাহকদের পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যা শুনে সমাধানের চেষ্টা করেন বা সংস্থার নানা পরিষেবার বিষয়ে গ্রাহকদের তথ্য দিয়ে থাকেন। নিয়মিত পড়াশোনোর পাশাপাশি এই কাজ চালিয়ে যাওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ। এই কাজগুলি ছাড়াও একাধিক ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে কম সময়ের জন্য চাকরি পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে যে কোনও কিছুই শুরু করার আগে পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোনও ক্ষতি হবে কি না সেই দিকগুলিও দেখে নেওয়া প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles