Friday, June 26, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বড় অঘটন বিশ্বকাপে!‌ পরের রাউন্ডে জাপানের সামনে ব্রাজিল! ইকুয়েডরের কাছে হারল জার্মানি!‌ নকআউটে কুরাসাওকে হারিয়ে আইভরি কোস্ট

জার্মানি ১ (সানে) ইকুয়েডর ২ (আঙ্গুলো, প্লাতা)
আইভরি কোস্ট ২ (পেপে ২) কুরাসাও ০

RK NEWZ ইকুয়েডরের কাছে হেরে গেল জার্মানি। ১-২ গোলে হারল জার্মানি। অন্য ম্যাচে, কুরাসাওকে ২-০ হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করল আইভরি কোস্ট। প্রথম দু’টি ম্যাচ জিতে আগেই নকআউট নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল জার্মানির। তাই এ যাত্রায় রক্ষা পেল তারা। নিউ জার্সির আকাশে শোনা গেল ইকুয়েডরের উল্লাস। তারাও উঠে গেল নকআউটে। ১-২ গোলে হারল জার্মানিকে। লেরয় সানে এগিয়ে দিয়েছিলেন জার্মানি। ইকুয়েডরের হয়ে গোল নিলসন আঙ্গুলো এবং গনজ়ালো প্লাতার। অন্য ম্যাচে, কুরাসাওকে ২-০ হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত করল আইভরি কোস্টও। ১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে জার্মানি। কিন্তু ছোট দলের কাছে হারের অভ্যাস এ বারও বজায় থাকল তাদের। ২০১৮-য় দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল জার্মানরা। ২০২২-এ হেরেছিল জাপানের কাছে। এ বার এশিয়া নয়, জার্মানদের হারতে হল লাতিন আমেরিকার একটি দেশের কাছে, যারা ফুটবলবিশ্বের খুব একটা বড় নাম নয়। নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি ইকুয়েডরের বহু মানুষ থাকেন নিউ জার্সিতে। ফলে বৃহস্পতিবার রাতে মেটলাইফ স্টেডিয়াম কার্যত সর্ষের খেত হয়ে উঠেছিল। দিকে দিকে হলুদ জার্সির ছড়াছড়ি। স্টেডিয়াম দখলের লড়াইয়ে আগেই পিছিয়ে পড়েছিলেন জার্মানরা। দিনের শেষে মাঠের লড়াইয়েও তাঁরা পিছিয়ে গেলেন। রেফারি টোরি পেন্সো শেষ বাঁশি বাজাতেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দু’রকম দৃশ্য দেখা গেল। কেউ কেউ সঙ্গী সঙ্গীনীর কাঁধে মাথা দিয়ে বা গায়ে পতাকা জড়িয়ে কাঁদতে শুরু করে দিলেন। আর এক দল সোল্লাসে নাচতে শুরু করে দিলেন। আশেপাশে কে আছে, কী হচ্ছে, সে সবের পরোয়াই করলেন না তাঁরা। ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসিসি প্রথমে আনন্দে লাফাতে লাফাতে মাঠের ভেতরে ঢুকে খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরতে থাকলেন। তার পরেই এক লাফে গ্যালারিতে উঠে জড়িয়ে ধরলেন পরিবারের সদস্যদের। এ দিনের জয়ে বড় অবদান তো তাঁরও। গোটা ম্যাচে সাইডলাইনের ধারে চেঁচিয়ে, হাততালি দিয়ে, দৌড়োদৌড়ি করে গোটা দলকে উদ্বুদ্ধ করে গেলেন। রেফারির সিদ্ধান্ত দলের বিরুদ্ধে যাওয়ায় কার্ডের পরোয়া না করে তর্ক করলেন। দিনের শেষে তাঁর মস্তিষ্কই জয় এনে দিল ইকুয়েডরকে। জার্মানির মতো বড় দলের সামনে গুটিয়ে থাকা নয়, বরং গোটা ম্যাচে দাপট দেখিয়ে জিতল ইকুয়েডর। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় জার্মানি। তবে যে ভাবে গোলটি হল তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিতেই পারে। ডেভিড রাউমের থ্রো থেকে বল পেয়েছিলেন আলেকসান্ডার পাভলোভিচ। তিনি পা অনেকটাই উঠিয়ে বলটি রিসিভ করেন। হেড করতে গিয়ে ইকুয়েডরের এক ফুটবলারের মাথায় লাগে পাভলোভিচের পা। এর পর পাভলোভিচের পাস থেকে চলতি বলে শট নিয়ে গোল করেন লেরয় সানে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে রেফারি এবং ভার-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে। বুধবার রাতে সামান্য ফাউল করার জন্য বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল ভিনিসিয়াসের গোল। তা হলে সানের গোল দেওয়া হল কোন যুক্তিতে? পা উপরে তুলে প্রতিপক্ষকে আঘাত করার ক্ষেত্রে হলুদ তো বটেই, লাল কার্ডও দেওয়া হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনওটিই হল না। রেফারি যুক্তি দিলেন, যে হেতু বলটি আগে পাভলোভিচের পায়ে লেগেছে তাই সেটি ফাউল নয়। কয়েক মিনিট তারা আক্রমণের ঝড় বইয়ে দেয় জার্মানির বক্সে। এবং ন্যায্য ভাবেই গোলও শোধ করে দেয়। দূরপাল্লার শটে গোল করেন আঙ্গুলো। কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে দাপটে খেলেও তারা গোল করতে পারেনি বিপক্ষ গোলকিপার এলয় রুমের জন্য। কিন্তু মানুয়েল নুয়েরকে পরাস্ত করতে অসুবিধা হয়নি। গোল করে ইকুয়েডরের আত্মবিশ্বাস এক লাফে বেড়ে তিন গুণ হয়ে গিয়েছিল। জার্মানির ততটাই কমে গিয়েছিল। গোটা মাঠে তখন ইকুয়েডরের দাপট। বল ঘোরাফেরা করছিল তাদেরই পায়ে। চাপের মুখে জার্মানির গোটা দলই কার্যত নীচে নেমে এসেছিল। সাত-আট জন মিলে রক্ষণ করছিলেন। আক্রমণে উঠেও সুবিধা করতে পারছিল না জার্মানি। কিছু ক্ষণ পরেই ইকুয়েডরের কোনও না কোনও ফুটবলার এসে বল কেড়ে নিচ্ছিলেন। পাশাপাশি, সানে, উইর্ৎজ়, কাই হাভার্ৎজ়ের জন্য ছিল জ়োনাল মার্কিং। অর্থাৎ বল পেলেই ঘেরাও হয়ে যাচ্ছিলেন ইকুয়েডরের কাছে।

দুই অর্ধে গোল করে আইভরি কোস্টকে প্রথম বার বিশ্বকাপের নকআউটে তুলে দিলেন নিকোলাস পেপে। গ্রুপে জার্মানির সঙ্গে সমান, ৬ পয়েন্ট হল আইভরি কোস্টের। তারা দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউটে গেল। কুরাসাও অষ্টম দেশ হিসাবে ছিটকে গেল বিশ্বকাপ থেকে। তিউনিসিয়াকে উড়িয়ে নকআউটে মরক্কোর মুখোমুখি নেদারল্যান্ডস, জাপানের সামনে ব্রাজিল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ডস। নকআউটে ডাচদের মুখোমুখি মরক্কো, আর রানার্স-আপ জাপানের সামনে কঠিন পরীক্ষা ব্রাজিল। তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই শেষ বত্রিশে উঠল ডাচরা। একই সময়ে জাপান ও সুইডেন ১-১ ড্র করায় গ্রুপের সমীকরণও পরিষ্কার। নেদারল্যান্ডস গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে শেষ বত্রিশে মরক্কোর মুখোমুখি। আর দ্বিতীয় স্থানে শেষ করা জাপানের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা—ব্রাজিল! একই গ্রুপে চার পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেও শেষ বত্রিশে জায়গা নিশ্চিত করেছে সুইডেনও। তিউনিসিয়ার বিদায় অবশ্য আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। বৃষ্টিভেজা ম্যাচে দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। তিউনিসিয়ার অধিনায়ক এলিস স্কিরির ভুল ক্লিয়ারেন্স জড়ান নিজেদের জালে। আত্মঘাতী গোল। যার সুবাদে ম্যাচের দরজা খুলে যায় ডাচদের সামনে। এর ঠিক পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ব্রায়ান ব্রবেই। বিশ্বকাপে এটি তাঁর তৃতীয় গোল। সব মিলিয়ে প্রথমার্ধেই ম্যাচ কার্যত হাতের মুঠোয় নিয়ে নেয় নেদারল্যান্ডস। দ্বিতীয়ার্ধে হাজেম মাস্তৌরি একটি গোল শোধ করে তিউনিসিয়াকে সাময়িকভাবে লড়াইয়ে ফেরান। কিন্তু তাতে লাভের লাভ হয়নি। কর্নার থেকে ইয়ান পল ভ্যান হেকের হেড আনিস স্লিমানের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে ঢুকে যায়। দ্বিতীয় আত্মঘাতী গোলের ফায়দা তুলে ৩-১ ব্যবধানে ম্যাচ সিল করে নেদারল্যান্ডস। তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট ও +৬ গোল ব্যবধানে গ্রুপের শীর্ষে শেষ করল ডাচরা। শেষ বত্রিশে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ অবশ্য অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। উদ্বোধনী লড়াই হেরে যাওয়ার পর কোচ ছাঁটাই করেও ভাগ্য ফেরেনি। তিন ম্যাচেই হার, গোলপার্থক্য -১০। হতাশাকে সঙ্গী করেই বিদায় নিল উত্তর আফ্রিকার দল। অন্য ম্যাচে জাপান ও সুইডেন ১-১ ড্র করে। এশিয়ার অন্যতম প্রতিনিধিদের হয়ে প্রথম গোল করেন দাইজেন মায়েদা। দুরন্ত একক প্রচেষ্টায় সমতা ফেরান সুইডেনের অ্যান্থনি এলাঙ্গা। এই ড্রয়ে জাপানের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৫। তারা গ্রুপের রানার্স হিসেবে শেষ বত্রিশে উঠেছে। এবার সামনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। পাশাপাশি সুইডেন গ্রুপ জার্নি শেষ করল ৪ পয়েন্টে৷ গোলপার্থক্য শূন্য হলেও সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের একটি হিসেবে তাদেরও নকআউটে জায়গা নিশ্চিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles