Wednesday, June 17, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

এমবাপে ম্যাজিকেই বাজিমাত!‌ সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ফ্রান্স দলের

ফ্রান্স: ৩ (এমবাপে ২, বার্কোলা)
সেনেগাল: ১ (ইব্রাহিম এমবায়ে)

RK NEWZ পূর্ণশক্তির দল নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল ফ্রান্স। হাত কামড়াচ্ছেন জিনেদিন জিদান। ভাবছেন, ২৪ বছর আগে তাঁর দলের কোচের নাম যদি দিদিয়ের দেশঁ হত, তা হলে হয়তো সেনেগালের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যেতে হত না তার আগের বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ২৪ বছর পরেও তো মনে হচ্ছিল, একই ছবি দেখা যাবে। আরও এক বার আফ্রিকার দলের কাছে হারবে ফ্রান্স। কিন্তু দলের মাথায় যদি বিশ্বকাপ জেতা অধিনায়ক ও কোচ থাকেন, তা হলে যা হওয়ার তাই হল। বিরতিতে দেশঁর একটি চালে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারাল ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপে জোড়া গোল করলেন। একই ম্যাচে ছাপিয়ে গেলেন পেলে, লিয়োনেল মেসি ও ফরাসি কিংবন্তি জঁ ফঁতেকে। ফ্রান্সের হয়ে অপর গোল ব্র্যাডলি বার্কোলার। সেনেগালের হয়ে শেষ দিকে ইব্রাহিম এমবায়ে একটি গোল শোধ করলেও তা কাজে লাগল না। সুযোগ নষ্টের খেসারত দিল তারা। প্রথমার্ধে কিলিয়ান এমবাপেদের খানিক ফ্যাকাসে লাগছিল। ৪৫ মিনিট ধরে যথেষ্ট দাপট ছিল সেনেগালের। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ফ্রান্স বনাম সেনেগাল বলতেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে পড়ে যায় ২৪ বছর আগের একটা দিন। ২০০২ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আফ্রিকান দেশটির কাছে হেরে গিয়েছিল তখনকার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। বুধবার রাতের ম্যাচ চলাকালীন ফরাসিভক্তকুলের কি মনে পড়ছিল সেদিনের কথা? এদিন প্রথমার্ধে গোল না হলেও খেলা দেখে মনে হচ্ছিল, গত বিশ্বকাপের রানার্স নয়, ধারেভারে আসলে এগিয়ে রয়েছে সেনেগালই। তবে ৯০ মিনিটের শেষে ফরাসি বিপ্লবে চাপা পড়ে গেল সেনেগালের সংগ্রাম। পূর্ণশক্তির দল নিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল ফ্রান্স। কিন্তু প্রথমার্ধে কিলিয়ান এমবাপেদের খানিক ফ্যাকাসে লাগছিল। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট ধরে যথেষ্ট দাপট ছিল সেনেগালের। সুযোগও এসেছিল ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার। সটান বারে গিয়ে লাগে জ্যাকসনের শট। হাফটাইমের ঠিক আগে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন সারও। আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণ মজবুত করতেও ভোলেনি সেনেগাল। তাই বেশ চেষ্টা করলেও গোল করতে ব্যর্থ ফ্রান্স। ফলশ্রুতি, বিরতির সময় পর্যন্ত ম্যাচ ০-০। বিরতির পর থেকে দিদিয়ের দেশঁর ছাত্রদের যেন ঘুম ভাঙল। ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরলেন দেজিয়ার দুয়েরা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফ্রান্সের আক্রমণের সামনে সেনেগালের রক্ষণ ভাঙতে শুরু করল। ৫৯ মিনিটে এমবাপেকে পেনাল্টি দেওয়া উচিত ছিল কিনা, সেই নিয়ে চর্চা চলবেই। তবে গোল করার অদম্য ইচ্ছা নিয়ে এদিন মাঠে নেমেছিলেন ফরাসি অধিনায়ক। তাঁর অপেক্ষার অবসান ঘটল ৬৬ মিনিটে। ডিফেন্সচেরা অনবদ্য পাস বাড়ালেন ওলিসে। পায়ের আলতো টোকায় একেবারে নিখুঁত ভঙ্গিতে গোলে বল ঠেলে দিলে এমবাপে।

রেফারি ফাঘানি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হলেও জন্মসূত্রে তিনি ইরানের। সে দেশের ফুটবল দলকে আমেরিকা ছাড়তে হলেও দিব্যি গোটা ম্যাচ পরিচালনা করলেন তিনি। কথায় কথায় ফাউল দিলেন না। ইরানের বাকিদের মতো তিনিও বেশ ‘টাফ’। টেনে খেলালেন। ফুটবল যে ‘বডি কনট্যাক্ট গেম’ তা বুঝিয়ে দিলেন। একটা সময় তো মনে হচ্ছিল, আদৌ কোনও ফাউল কি তিনি দেবেন? তবে এমবাপের পেনাল্টির আবেদন নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। খালি চোখে দেখে মনে হয়েছিল, মানে বলে পা লাগাতে পারেননি। আর ওই পরিস্থিতিতে যে কোনও স্ট্রাইকার ডিফেন্ডারের পা জড়িয়ে পড়বেন। ফুটবলে এ রকম পেনাল্টি হামেশাই দেখা যায়। কিন্তু ফাঘানি দিলেন না। প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলের লড়াই জমিয়ে দিলেন এমবাপে। একই ম্যাচে পেলে, মেসি ও ফঁতেকে টপকে যান এমবাপে। যদিও কয়েক ঘণ্টা পরেই মেসি আবার টপকে যান এমবাপেকে। এমবাপে এখন গার্ড মুলারের সঙ্গে ১৪ গোলের মালিক। সামনে ব্রাজ়িলের রোনাল্ডো, মেসি ও জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজ়ে। তবে জোড়া গোল কেন, একটি গোলও হয়তো এমবাপে করতে পারতেন না। যদি না মোক্ষম চাল দিতেন দেশঁ। যে চালে ২৪ বছর আগের দুঃস্বপ্ন ভুলে জয় দিয়ে শুরু করল ফ্রান্স। ৮০ মিনিটে দেম্বেলেকে তুলে বার্কোলাকে মাঠে নামালেন দেশঁ। ১৯০ সেকেন্ডে দুরন্ত গোল এল তাঁর শট থেকে। অতিরিক্ত সময়ে এসে ফের এমবাপে ম্যাজিক। ৯৬ মিনিটে তাঁর দূরপাল্লার শট বিদ্যুৎগতিতে জড়িয়ে গেল তেকাঠিতে। বলা যেতে পারে, সম্ভবত এখনও পর্যন্ত চলতি বিশ্বকাপের সেরা গোল এটাই। একইসঙ্গে বিশ্বকাপে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করার নজিরের মালিক হয়ে গেলেন। যদিও ৯৫ মিনিটে একটা গোল করে ম্যাচে ফেরার আশা দেখছিল সেনেগাল। তরুণ তুর্কি ইব্রাহিম অনবদ্য শটে গোল করেন। কিন্তু এক মিনিট পরেই তাঁর অসাধারণ গোল নিস্ফলা হয়ে গেল। তিন পয়েন্ট আর সন্তোষজনক পারফরম্যান্স নিয়ে মাঠ ছাড়ল ফ্রান্স।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles