RK NEWZ ‘দোকানের অনুমতি দিতে ৮০ লক্ষ টাকা চেয়েছিলেন স্বরূপ, সুরুচি সঙ্ঘে দেখাও করতে বলেন’! স্বরূপ বিশ্বাসের নামে থানায় অভিযোগ করলেন আরও এক মহিলা। তাঁর অভিযোগ, নিউ আলিপুরের রাস্তায় দোকান করার ছাড়পত্র দিতে ৮০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ। তাঁকে সুরুচি সঙ্ঘ ক্লাবে একা দেখা করতে বলেছিলেন। দোকান করার আবেদন জানিয়ে তিনি প্রথম দ্বারস্থ হয়েছিলেন স্বরূপের স্ত্রী, তথা কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাসের কাছে। তিনিই তাঁকে স্বরূপের কাছে যেতে বলেছিলেন বলে অভিযোগ। রবিবার রিজেন্ট পার্ক থানায় জেলবন্দি স্বরূপের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই মহিলা। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি নিউ আলিপুরের রাস্তায় একটি দোকান করার কথা ভেবেছিলেন। সে জন্য তিনি কলকাতা পুরসভার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জুঁইয়ের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। জুঁই তাঁকে জানিয়েছিলেন, এ ধরনের অনুমতি দেওয়ার এক্তিয়ার তাঁর নেই। তিনি ওই মহিলাকে স্বরূপের কাছে যেতে বলেন। তার পরে ওই মহিলা স্বরূপের দ্বারস্থ হন। মহিলার অভিযোগ, সে সময় স্বরূপ দোকানের অনুমতি দিতে তাঁর থেকে ৮০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। পরে তাঁকে সুরুচি সঙ্ঘে একা দেখা করতে বলেন। মহিলার অভিযোগ, ব্যক্তিগত অনুগ্রহের ইঙ্গিতও করেছিলেন স্বরূপ। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উপযুক্ত ধারায় মামলাও রুজু করা হয়েছে।
৪ জুন স্বরূপকে গ্রেফতার করে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। তোলাবাজি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর কর্মীদের কাছ থেকে টাকা তুলতেন তিনি। রিজেন্ট পার্ক এলাকার বাসিন্দা এক মহিলা স্বরূপের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি টালিগঞ্জের মেকআপ আর্টিস্ট ফেডারেশনের সদস্য। বছর দুয়েক ওই মহিলা কোনও কাজ পাননি বলে অভিযোগ। কাজ চাইতে গেলে তাঁর কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। এমনকি, তাঁকে ভয়ও দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ। মহিলার দাবি, তাঁর এক সহকর্মী স্বরূপকে ৪৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করে নিউ আলিপুর থানা। এর পর ফের নতুন অভিযোগ দায়ের হল স্বরূপের বিরুদ্ধে।
মামলা দায়েরের অনুমতিও দিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানি সম্ভাবনা। তার আগে অরূপ বিশ্বাসের কাছে পুলিশের তৃতীয় নোটিস পৌঁছে গিয়েছে। ফুটবলার লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফরে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তৎকালীন ক্রীড়া এবং বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এনেছেন অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত। এ বার প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপের রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন শতদ্রুর আইনজীবী অরিন্দম জানা। আদালত সূত্রে খবর, মঙ্গলবার মামলা দায়েরের অনুমতিও দিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ। চলতি সপ্তাহেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর গ্রেফতারি এড়াতে টালিগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক অরূপ আদালতে রক্ষাকবচের আর্জি জানিয়েছিলেন। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অরূপকে রক্ষাকবচ দেন। আদালতের নির্দেশ ছিল, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অরূপকে। একই সঙ্গে স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় বিধাননগর পুলিশ কমিশনার কে। একক বেঞ্চের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে এ বার ডিভিশন বেঞ্চে গেলেন মেসির অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু। অরূপের বিরুদ্ধে তিনি থানায় এফআইআর করেছেন। শতদ্রুর দাবি, গত বছরের ডিসেম্বরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিদের অনুষ্ঠানের জন্য মোট ৭০ হাজার টিকিট ছাপানো হয়েছিল। পদের ভার এবং প্রভাব দেখিয়ে তার মধ্যে ২২ হাজার টিকিট তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী একাই নিয়ে নিয়েছিলেন। শতদ্রুর অভিযোগ, ওই টিকিটগুলো তৎকালীন মন্ত্রী পরিচিতদের বিলি করার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও করেছেন। তা ছাড়া অনুষ্ঠানে যাবতীয় বিশৃঙ্খলার জন্য অরূপকে দায়ী করেছেন তিনি। পুরো ঘটনার তদন্ত চান মেসি-কাণ্ডের দিন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া শতদ্রু। এই সমস্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অরূপকে নোটিস দিয়েছিল পুলিশ। তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রথম বার হাজিরা এড়ান। তার পর গ্রেফতারির আশঙ্কা করে হাই কোর্টে গিয়ে রক্ষাকবচ পান। রক্ষাকবচের আগেই অবশ্য পুলিশের তৃতীয় নোটিস পৌঁছে গিয়েছিল বিশ্বাসের কাছে। কিন্তু অরূপের এ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।





