RK NEWZ আধ্যাত্মিকতা, ধ্যান, যোগ-প্রাণায়ামে পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দর এই পুণ্যভূমিতে যোগিরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী, স্বামী যুক্তেশ্বর গিরি, স্বামী যোগানন্দর মতো ক্রিয়াযোগী জন্ম নিয়েছেন। পরবর্তীকালে নীলমণি দাস, মনোহর রায়, মনোহর আইচের মতো ব্যক্তিত্ব হঠযোগ, প্রাণায়াম এবং মুক্তহস্ত ব্যায়ামের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাঙালি তথা ভারতীয়দের বিশ্বমঞ্চে নিয়ে গিয়েছেন। এত সমৃদ্ধ ইতিহাস বুকে নিয়েও বাংলা যোগজগতে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছিল। এবার হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারে বাংলা। গঙ্গাবক্ষে যোগাভ্যাসের নানা ছোট-বড় শিবির অতীতে অনুষ্ঠিত হলেও, এত বড় আকারে এমন আয়োজন সম্পূর্ণ প্রথম। হৃষিকেশ, হরিদ্বার, বারাণসীকে ছাপিয়ে নতুন রেকর্ড গড়বে কলকাতার গঙ্গা! ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে উদযাপিত হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সকালে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’-এ হবে গঙ্গাবক্ষে যোগাভ্যাসের মেগা কার্নিভাল। তার আগে ২০ জুন, সকালে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ এ হবে গঙ্গাবক্ষে যোগাভ্যাসের মেগা কার্নিভাল। ৫০০ নৌকোয় হবে যোগাভ্যাস। সেক্ষেত্রে তা গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নেবে। নবান্ন সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। মিলেনিয়াম পার্ক, বেলুড়-দক্ষিণেশ্বর, বাবুঘাট, প্রিন্সেপ ঘাটে হবে এই যোগ কার্নিভাল। যেখানে বিকেলে ড্রোন শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতে পারে। হাওড়া ব্রিজ থেকে বিদ্যাসাগর সেতু ও মাঝের ৪২টি বাড়িকে আলোর মালায় সাজিয়ে তোলা হবে। অচেনা হয়ে উঠবে কলকাতার গঙ্গাপাড়। আধ্যাত্মিকতা, ধ্যান, যোগ-প্রাণায়ামে পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দর এই পুণ্যভূমিতে যোগিরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী, স্বামী যুক্তেশ্বর গিরি, স্বামী যোগানন্দর মতো ক্রিয়াযোগী জন্ম নিয়েছেন। পরবর্তীকালে নীলমণি দাস, মনোহর রায়, মনোহর আইচের মতো ব্যক্তিত্ব হঠযোগ, প্রাণায়াম এবং মুক্তহস্ত ব্যায়ামের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাঙালি তথা ভারতীয়দের বিশ্বমঞ্চে নিয়ে গিয়েছেন। এত সমৃদ্ধ ইতিহাস বুকে নিয়েও বাংলা যোগজগতে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছিল। এবার হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারে রেড রোডের রানওয়েতে স্বপ্নের দৌড় শুরু করবে বাংলার যোগ। তার আগে গঙ্গাবক্ষ স্পন্দিত হবে ভাসমান যোগাভ্যাসে। তৈরি হবে নতুন ইতিহাস, রেকর্ড। নদীমাতৃক বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার মোহনা হয়ে উঠবে এই মেগা কার্নিভাল। গঙ্গার দুই পার এবং শহরের প্রধান প্রধান ঘাট-যেমন মিলেনিয়াম পার্ক, বেলুড়, দক্ষিণেশ্বর এবং বাবুঘাট হয়ে উঠবে উৎসবের উঠোন। গঙ্গাপাড়েও থাকছে চোখ-ধাঁধানো ড্রোন শো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জানা গিয়েছে, শুক্রবার এই অনুষ্ঠানের একপ্রস্থ রেইকি করা হয়েছে। নৌসেনা, কলকাতা বন্দরকে ইতিমধ্যেই নৌকো দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের নিজস্ব কিছু নৌকোও রয়েছে। এই ইভেন্টের নোডাল অফিসার করা হয়েছে ডিজি আয়ুশ দিব্যা লোগনাথনকে। সোমবার পর্যটন দপ্তর হাওড়া ফেরিঘাটে বিশেষ যোগ অনুশীলনের অনুষ্ঠান করবে। অনুষ্ঠান হবে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনেও। গঙ্গাবক্ষে যোগাভ্যাসের নানা ছোট-বড় শিবির অতীতে অনুষ্ঠিত হলেও, এত বড় আকারে এমন আয়োজন সম্পূর্ণ প্রথম। অতীতে বারাণসী কিংবা হৃষীকেশের পবিত্র ঘাটে যোগাভ্যাসের বড় নজির থাকলেও, চলমান নদীর বুকে ৫০০-র বেশি নৌকোয় একসঙ্গে এত মানুষ যোগাভ্যাস করছেন-এমন নজির ভারতীয় জলপথে হয়নি। উপস্থিত থাকবেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিনিধিরাও। আসলে তারিখ বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ এই প্রথমবার সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় উদযাপিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই আশা রাজ্যের। তৈরি হবে নতুন বিশ্বরেকর্ড। কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক এবং রাজ্য প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই যোগ কার্নিভাল হয়ে উঠবে ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আত্মিক উৎকর্ষের মাইলফলক।





