RK NEWZ তৃণমূলে নতুন করে ভাঙনের জল্পনা। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে জেলে যাবো যাবো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও জেল খেটে আসা কুণাল ঘোষের তীব্র বাকবিতণ্ডা। ‘লেবু কচলে তেতো কোরো না’ মন্তব্য ঘিরে তৃণমূলে নতুন করে ভাঙনের জল্পনা। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যে নাটকীয় ঘটনা ঘটে গেল, তা বেনজির শুধু নয় রোমহর্ষকও। এই প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে কেউ সপাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখের উপর বলে দিতে পারলেন—‘লেবু কচলে আর তেতো কোরো না।’ সূত্রের দাবি, পাল্টা চড়াও হয়েছিলেন অভিষেকও। কুণালের চোখের দিকে তাকিয়ে কিছুটা রূঢ় ভাবেই প্রশ্ন করেন, তুমি কি ঠিক করেই এসেছিলে, আমার সঙ্গে ঝগড়া করবে? না পোষালে তোমরা আমাকে তাড়িয়ে দাও। জানা গেছে, দুজনেরই গলার স্বর যখন সপ্তগ্রামে। আদি গঙ্গা পেরিয়ে ওপারে চলে যাওয়ার জোগাড়। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে ‘বাবু কুল’, ‘কুণাল কুল’ বলে পরিস্থিতি ঠান্ডা করেন। মালদা, মুর্শিদাবাদে গঙ্গার পাড় ভাঙার মতই হুড়মুড়িয়ে এখন ভেঙে পড়ছে তৃণমূল। কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটের প্রতি চরম অনাস্থা জানিয়ে শনিবার জবর ধাক্কা দিয়েছেন উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত অপদস্থ করে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন মালা রায় ও সায়নী ঘোষ। বিপর্যয়ের পর যে মালা রায়কে দলের মহিলা সংগঠনের সভানেত্রী করেছিলেন মমতা ও অভিষেক এবং সায়নী ‘যাবে না’ ধরে নিয়ে তাঁকে যুব সভানেত্রী পদে রেখে দিয়েছিলেন। বিপদ ঘণ্টা সর্বত্রই কালীঘাটে ঢং ঢং করে বাজছে। তাই এদিন সন্ধেয় ফের কালীঘাটে ৩০ বি হরিশ চট্টোপাধ্যায় স্ট্রিটে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকের শুরুতেই অভিষেকের উদ্দেশে কুণাল বলেন, যাঁরা এই দুর্দিনে মাটি আঁকড়ে পড়ে আছে, তাঁদের পদ ইত্যাদি দিয়ে সাহস ও বল দেওয়া দরকার বলে মনে হয়। যা শুনে অভিষেক বলেন, হ্যাঁ ঠিক আছে, ওটা পরে দেখছি। ব্যস। সূত্রপাত এখানেই। কুণাল সঙ্গে সঙ্গে বলেন, আর পরে পরে কোরো না। লেবু কচলে আর তেতো কোরো না। দলটা তো এভাবেই উঠে গেছে।
এর পর এই কথা কাটাকাটি সাময়িক ভাবে থেমে যায়। কিন্তু সূত্রের খবর, বৈঠক শেষ হতেই কুণালের সামনে দাঁড়িয়ে অভিষেক বলেন, এই শোনো! তুমি কি আমার সঙ্গে ঝগড়া করবে বলেই এসেছিলে? না পোষালে আমাকে তাড়িয়ে দাও। অভিষেকের সে কথা কুণালের কাছে রূঢ় ঠেকে। মেজাজ হারান ঘোষ বাবু। কুণাল মেজাজ হারালে গলা কোন সপ্তমে পৌঁছতে পারে অনেকেই জানেন। দৃশ্যপট আন্দাজও করতে পারেন। ততক্ষণে পরস্পর পরস্পরের দিকে আঙুল তুলে ফেলেছে। কুণাল বলছেন, এভাবে কথা বলছ কেন? আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলতে পারো না। সূত্রের দাবি, অভিষেক বলেন, তুমি যেভাবে আজ সুমিতের সম্পর্কে মিডিয়ায় বলেছ, তা আসলে আমার বিরুদ্ধেই বলেছ। সুমিতের নামে বলা মানে আমার নামেই বলা। জানিয়ে রাখা ভাল, তৃণমূলের রাজনীতিতে স্বনামধন্য সুমিত রায় হলেন অভিষেকের আপ্ত সহায়ক। তাঁকে পুলিশ খুঁজছে। টাকার বিনিময়ে বিধানসভার টিকিট দেওয়া থেকে শুরু করে হরেক কিসিমের দুর্নীতি, তোলাবাজি, কারসাজি, স্বজনপোষণের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে কুণাল বলেছিলেন, সুমিত রায়কে নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে যে সব ফেরেব্বাজ এই সুমিত রায় ফ্যান ক্লাব তৈরি করেছিল, পুলিশ খুঁজুক তাদের। বেশ করছে তাদের খুঁজছে। ক্যামাক স্ট্রিট অফিসে বসে সুমিত কীভাবে ছরি ঘোরাত তাও বলেন কুণাল। অভিষেক-কুণাল ঝগড়া যখন প্রায় ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছয় তখন ছুটে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানতে চান, কী হয়েছে? কুণাল তাঁকে জানান, কী হয়েছে। দিদি বলেন, তুমি সুমিতের নামে বলেছ কেন? জবাবে কুণাল বলেন, কেন বলব না, এরাই তো দলকে শেষ করেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিষেকের মাথায় হাত রেখে ঠাণ্ডা হতে বলেন মমতা। কুণালের মাথায় হাতে রেখেও ঠাণ্ডা হতে বলেন। সেই সঙ্গে বলেন, এটা কঠিন সময়। ঠাণ্ডা মাথায় কাজ করতে হবে। মাথা গরমের সময় নয়।




