RK NEWZ দল ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন স্তরের নেতাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক বা দল বিরোধী কাজের অভিযোগ আসছে। তা নিয়ে ফের দলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সতর্কবার্তা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। সাফ জানালেন, দল বিরোধী কাজের অভিযোগ উঠলে বিধায়কদেরও রেয়াত করা হবে না। এরপরই দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দমদম উত্তর সাংগঠনিক এলাকায় তিন নেতাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে খবর। বিজেপির বৈঠকে পার্টি অফিস দখল, গেরুয়া রং করে দেওয়া, তোলাবাজি নিয়ে ফের সতর্ক করলেন শমীক। বললেন, সবার গতিবিধি পার্টির নজরে। শমীক এও বলেন, “অনেকে আছেন যারা এইসব কাজে মদত দিচ্ছেন। বিধায়করাও যদি এই ধরনের কাজে যুক্ত থাকে তাহলে তাদের কেও রেওয়াত করা হবে না। ৫-৭ জন বিধায়ককে বের করে দিলেও দলের কোনও সমস্যা হবে না। পার্টিতে যা ইচ্ছা করা যাবে না, তৃণমূলী সংস্কৃতি চলবে না।” বাড়ি দখল, জমি দখল, শিল্পপতিদের বিরক্ত করা, এসব বরদাস্ত করা যাবে না বলে কড়া বার্তা শমীকের। এছাড়াও, জয়ী হওয়া বিরোধী দলের বিধায়কদের বাড়ির সামনে গিয়ে স্বঘোষিত দলের নেতারা লাফালাফি করছে, সেটাও ঠিক হচ্ছে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। বৈঠকে উপস্থিত দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল শমীকের কথার রেশ ধরেই বলেন, “এগুলো কেন বারবার রাজ্য সভাপতি কে আপনাদের বলতে হচ্ছে? আপনারা উপলব্ধি করুন।” এরপরই বিজেপির শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সুপারিশে এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে সাসপেন্ড করা হয়েছে নিউ বারাকপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি তিতু সরকার, সহ-সভাপতি তীর্থ মিত্র এবং উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক নিত্য মিত্রকে। দলীয় চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং দলীয় কর্মীদের মারধর-সহ একাধিক দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে তাঁদের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, গত কয়েক মাস ধরেই সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তার ও নেতৃত্বের প্রশ্নে একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। নির্বাচনের পর সেই দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠে। সম্প্রতি দলীয় কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধরের অভিযোগও সামনে আসে। তারই প্রেক্ষিতে এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আদর্শ নেতা হতে হবে! সেই শিক্ষা দিতে রাজ্যজুড়ে মণ্ডল স্তরে ক্লাস শুরু করতে চলেছে বিজেপি। বঙ্গ বিজেপির মোট ৪৩ টি সাংগঠনিক জেলায় প্রায় ১ হাজার মণ্ডলে জেলার প্রায় ৭০ জন পদাধিকারী মণ্ডল কমিটির সদস্যদের দলের বিচারধারা, কার্যক্রম, জনকল্যাণমুখী প্রকল্প নিয়ে রীতিমতো রাজনীতির পাঠ দেওয়া হবে। চলতি মাসেই শুরু হবে দলের এই কার্যক্রম। তাই রবিবার কলকাতার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহা অভিযান হয়। যেখানে প্রত্যেকটি জেলা থেকে দলের জেলা সভাপতি-সহ ৬ জন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছিলেন রাজ্যের পদাধিকারীরা। দলের রাষ্ট্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের তত্ত্বাবধানে ওই প্রশিক্ষণ মহা অভিযান হয়। বিজেপির সাংগঠনিকগত দিক থেকে রাজ্যে মোট ১০ টি বিভাগ রয়েছে। প্রত্যেকটি বিভাগে সাধারণভাবে ৪ টি করে জেলা আছে। বিভাগ ভিত্তিক এই পার্টি ক্লাস চলবে। রাজ্যস্তরের এই প্রশিক্ষণ মহা অভিযানের পর প্রথম স্তরে বিভাগে, দ্বিতীয় স্তরে মণ্ডলে তৃতীয় তথা শেষ স্তরে জেলায় রাজনীতির পাঠ দেওয়া হবে। রাজ্যস্তরে ওই প্রশিক্ষণ মহা অভিযানে অংশ নেওয়া দলের রাজ্য কমিটির সদস্য বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, জুলাই পর্যন্ত তাদের এই পার্টি ক্লাস চলবে। বঙ্গ বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা করে মণ্ডল স্তরে ওই পার্টি ক্লাস হবে। কার্যত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শিবিরের ধাঁচেই চলবে রাজনীতির পাঠ। ওই পার্টি ক্লাসে বিজেপির আদর্শগত ভাবনার শিক্ষা দেওয়া হবে। বঙ্গ বিজেপির কথায়, ভারতীয় জনতা পার্টি শুধু রাজনৈতিক দল নয়। একটা আদর্শের ভিত্তিতে সমগ্র দেশে একইভাবে চলে। সেই আদর্শের শিক্ষা নিতেই বিভাগ থেকে মণ্ডল হয়ে একেবারে জেলা স্তরে এই রাজনীতির পাঠ। এখানে মূল শিক্ষা একটাই, সবার আগে রাষ্ট্র। তারপরে দল। আর তারপরে ব্যক্তি। আসলে এটাই যে বিজেপির মূল মন্ত্র। ওই পার্টি ক্লাস গুলিতে সংগঠন বাড়াতে কীভাবে কাজ করতে হবে সেই কথাও বলা হবে। ঠিক কীভাবে কর্মীদের সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। জনতার মন জয় করার জন্য তাদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হবে তাও শিখিয়ে দেবে ওই পার্টি ক্লাস। এক কথায় আদর্শ নেতা হওয়ার গুণাবলির পাঠ ওই পার্টি ক্লাস। বিজেপি নেতা, কর্মী হতে গেলে দলের ইতিহাস জানতে হবে। পার্টি ক্লাস থেকে তা সাধারণ কর্মীর কাছে পরিষ্কার করে দেবেন মণ্ডল স্তরে দায়িত্বে থাকা প্রায় ৭০ জন প্রশিক্ষক। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটলবিহারী বাজপেয়ির মত প্রেরণা পুরুষদের জীবন কথা সামনে এনে রাজনীতির পাঠ দেওয়া হবে। বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে যেভাবে ‘আদর্শ’ শব্দটি মার খাচ্ছে! সেখানে ওই রাজনীতির পাঠে দলীয় নেতা-কর্মীদের আদর্শগত ভিত্তি মজবুত করায় ওই পার্টি ক্লাসের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। সেই সঙ্গে জনসেবামূলক কার্যক্রম থেকে জনসংযোগ বৃদ্ধি, কর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়ানো অন্যতম উদ্দেশ্য।





