RK NEWZ হাওড়া স্টেশন থেকে বেরিয়ে চলন্ত সিঁড়ি ও স্কাই ওয়াকের মাধ্যমে বাসস্ট্যান্ড ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে সরাসরি পৌঁছে যেতে পারবেন যাত্রীরা। দেশের অন্যতম ব্যস্ততম স্টেশনগুলির মধ্যে একটি হাওড়া। প্রত্যেকদিন কয়েক লক্ষ মানুষ এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। ঐতিহ্যবাহী হাওড়া স্টেশনকে বিশ্বমানের গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এবার হাওড়া স্টেশনে গড়ে উঠবে বিমানবন্দরের মতো আন্তর্জাতিক মানের বাস ও ট্যাক্সি টার্মিনালও। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে এমনই প্রস্তাব দিলেন উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রাই। রাজ্য সরকারের তরফে রেলমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, হাওড়া স্টেশন চত্বরে গঙ্গার ঘাট থেকে দীঘা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত একটি আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনাল করা হবে। যা রেল এবং রাজ্য যৌথ পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত করবে। প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, হাওড়া স্টেশন থেকে বেরিয়ে চলন্ত সিঁড়ি ও স্কাই ওয়াকের মাধ্যমে বাসস্ট্যান্ড ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে পৌঁছে যেতে পারবেন যাত্রীরা। ঠিক যেমন দেশের বিমান বন্দরগুলিতে থাকে ওরকমই করা হবে হাওড়া স্টেশন বা হাওড়া বাসস্ট্যান্ডে। একই সঙ্গে হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে নোংরা আবর্জনা সরিয়ে স্টেশন চত্বরকে ঝাঁ চকচকে করে তোলা হবে। এই প্রসঙ্গে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা মন্ত্রী উমেশ রাই বললেন, ‘‘হাওড়ার উন্নতির জন্য রেলমন্ত্রক অনেক কিছুই করেছে। তাই আমি রেলমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দিয়েছি, হাওড়া স্টেশনে একটা আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরের মতো বাস ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ড করে দিক রেল। রেলমন্ত্রী হেঁসে আমার প্রস্তাব স্বীকার করেছেন।’’ রেলমন্ত্রী রাজ্যে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নবান্নে একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেই রাজ্যের উন্নয়নের জন্য রেলের কাছে নানা প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেখানে হাজির হয়ে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাই। সেখানেই হাওড়ার উন্নয়নের জন্য এই প্রস্তাবগুলি তিনি দিয়েছেন। উমেশের কথায়, রেলমন্ত্রকের তরফে হাওড়ার উন্নয়নের জন্য রেলের আন্ডারপাস, রেলওভার ব্রিজ করা হয়েছে। এরকমই আরও উন্নয়ন হাওড়ার জন্য করা হবে। সেই প্রস্তাব রেল রাজ্য সরকারের কাছ থেকে গ্রহণ করেছে।

রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হওয়ার পর থেকেই তার সুফল পেতে চলেছে বঙ্গবাসী! দীর্ঘ সময় আটকে থাকা একের পর এক কাজ গতি পেতে শুরু করেছে। এবার দীর্ঘদিন আটকে থাকা উত্তর হাওড়ার বামনগাছি রেলব্রিজের কাজও শুরু হল। শনিবার নবান্নে আসেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বাংলায় আটকে থাকা একাধিক প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক হয়। আর সেই বৈঠকের পরেই বামনগাছি রেলব্রিজের কাজ নিয়ে তৈরি হওয়া জট কেটে গিয়েছে। এরপরেই আজ, রবিবার রাত থেকেই শুরু হচ্ছে কাজ। একই সঙ্গে চাঁদমারি রেলব্রিজেও ট্রাফিক সংক্রান্ত যে জট ছিল তাও রেলের সঙ্গে রাজ্যের বৈঠকে কেটে গিয়েছে। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে এই চাঁদমারি ব্রিজের কাজও। কাজ শুরু হওয়ায় আজ, রবিবার থেকেই বামনগাছি ব্রিজে ভারি ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। তবে টোটো, রিকশা, মোটরবাইক-সহ অন্যান্য হালকা যানবাহন আপাতত চলাচল করতে পারবে। আগামী দু’মাস ধরে বামনগাছি ব্রিজের অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ চলবে। এরপর ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করার সময় প্রয়োজনে কিছুদিন পুরোপুরি ওই সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করা হবে। নতুন বামনগাছি ব্রিজ পুরোদমে চালু হওয়ার পর একইভাবে প্রায় দু’মাস সময় নিয়ে চাঁদমারি ব্রিজের অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে রেল। ফলে কিছুদিন এই দুই রেলব্রিজে হাল্কা ও ভারি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে হাওড়ার ট্রাফিক পুলিশের তরফে বিকল্প রাস্তায় যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। উত্তর হাওড়ার বিধায়ক ও রাজ্যের রাষ্ট্রমন্ত্রী উমেশ রাই বললেন, ‘‘তৃণমূল সরকারের আমলে রেলকে রাজ্য সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে দুই সেতুর কাজ আটকে ছিল। এখন দ্রুত সেই কাজ সম্পূর্ণ করে উত্তর হাওড়ার মানুষকে আধুনিক ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা উপহার দেওয়া হচ্ছে। এতে নাগরিকরা উপকৃত হবেন।’’ শুধু তাই নয়, যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও বেশি গতি আসবে বলেও দাবি বিজেপি বিধায়কের।





