RK NEWZ বাংলায় বিরাট মদ কেলেঙ্কারি। এই কেলেঙ্কারিতে ফলতার প্রাক্তন বিধায়ক জাহাঙ্গির খানও যুক্ত ছিলেন বলেই অভিযোগ। বিষয়টি তদন্ত করে সত্য সামনে আনা হবে বলেই দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। দিল্লির পর বাংলায় মদ কেলেঙ্কারি। সামনে এল কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ। আবগারি নীতি বদলে কার অ্যাকাউন্টে ঢুকত মদ বিক্রির কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা? অভিযোগের আঙুল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। ক্ষমতায় থাকাকালীন কয়লাপাচার, বালিপাচার এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল অভিষেকের। এবার মদ কেলেঙ্কারিতে আঁতসকাচের নিচে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এই অভিযোগকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। তদন্ত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেই জানান মন্ত্রী দীপক বর্মন। ২০১৭ সালের। সেই সময় রাজ্যের আবগারি নীতিতে বদল করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ আবগারি বোর্ড কর্পোরেশন গড়ে ওঠে। তাঁর ৫ সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস গৌতম ঘোষ, তৎকালীন বিশেষ কমিশনার (রাজস্ব) শান্তনু আচার্য, সিনিয়র যুগ্ম রাজস্ব কমিশনার এবং তৎকালীন ম্যানেজার (অপারেশনস)সঞ্চয়ন গঙ্গোপাধ্যায়, ডেপুটি রাজস্ব কমিশনার এবং তৎকালীন ম্যানেজার (সিস্টেমস) রাজর্ষি চক্রবর্তী, অতিরিক্ত রাজস্ব কমিশনার এবং জিএম সিস্টেমস কুনাস বিশ্বাস। নীতিতে বদল আনা হয়। নয়া নীতিতে সিলমোহর দেন কমিটিতে থাকা সকলে। আগে শুধুমাত্র ডিস্ট্রিবিউটারের থেকে রাজস্ব আদায় করত রাজ্য। তবে নয়া নিয়ম অনুযায়ী, ডিস্ট্রিবিউটার এবং পাইকারি বিক্রেতা – দু’পক্ষের কাছ থেকেই রাজস্ব পেত তৎকালীন রাজ্য সরকার। অভিযোগ, কোটি কোটি রাজস্বের একটি বড় অংশই নাকি সরাসরি ঢুকত তৃণমূলের ‘যুবরাজ’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পকেটে। অভিষেক নন। তাঁর ‘ডান হাত’ ফলতার জাহাঙ্গির খান নাকি এই দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, ২০১৭ সালের আগে ট্রেডাররা ইচ্ছামতো ডিস্ট্রিবিউটার বাছতে পারতেন। তবে ২০১৭ সাল থেকে বদলাতে শুরু করে পরিস্থিতি। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক জাহাঙ্গির খান নাকি ‘ধমকাতে চমকাতে’ শুরু করেন ডিস্ট্রিবিউটারদের। তৃণমূল নেতাদের দাবিমতো টাকা না দিলে ব্যবসাই বন্ধ হয়ে যাবে বলেই হুমকি দেওয়া হত। তার ফলে বাধ্য হয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দিতে হত ব্যবসায়ীদের। ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি, সব টাকাই ঢুকত অভিষেকের অ্যাকাউন্টে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডান হাত’ জাহাঙ্গির খানের নির্দেশমতো ব্যবসায়ীদের মদের বোতল পিছু ৩ টাকা করে দিতে হত। সরকারের পালাবদলের পর এই তথ্য প্রকাশ্যে আসে। আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গত ১৮ মে পশ্চিমবঙ্গের আবগারি কমিশনারকে একটি কড়া চিঠি পাঠিয়েছে। অবিলম্বে এই রাজস্ব আদায় বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যেহেতু একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, আমরা মনে করি যে নতুন সরকার এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করবে।’ দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যে সে সংক্রান্ত নথিপত্র মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। এই বিষয়ে জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও। এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলেও উঠেছে সমালোচনার ঝড়। বিজেপির তরফে অমিত মালব্য বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মদ কেলেঙ্কারি দুর্নীতির সংস্কৃতিরই প্রমাণ। এই দুর্নীতি একটি সিন্ডিকেটের ইঙ্গিত করে যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সত্যকে আর ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। যারা বাংলাকে লুট করেছে তাদের কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।” মন্ত্রী দীপক বর্মন এবং সুমনা সরকারও এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব। তদন্ত করে সত্য উদঘাটন হবে বলেই জানান।
‘যেখানে হাত দিচ্ছি পচা-দুর্গন্ধ, ব্রিগেডকে জেল বানাতে হবে’, তৃণমূলকে খোঁচা শুভেন্দুর। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিত তৃণমূল। এর মধ্যে ৩ লক্ষ পুরুষ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “কী ভয়ঙ্কর দুর্নীতি হয়েছে। যেখানে হাত দেওয়া হচ্ছে… এ তো ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে জেল বানাতে হবে। যেখানে হাত দিচ্ছি সেখান থেকে পচা দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে।” তিনি জানান, ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিত তৃণমূল। এর মধ্যে ৩ লক্ষ পুরুষ। শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ব্লকে সাড়ে ৪ হাজার পুরুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর অন্নপূর্ণা যোজনার ১৩ পাতার ফর্ম প্রকাশ করেছে বিজেপি সরকার। এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবিষয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে যে সব কাজ করছি তার সুফল আগামী ৫০ বছরে এই বাংলা পাবে। আমরা ডাটা ব্যাঙ্ক তৈরি করে নিচ্ছি।” তৃণমূল আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন। এর মধ্যে ২৭ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকায় নেই। সিএএ-তে যাঁরা আবেদন করেছেন তাঁদের বাদ দিয়ে ২৭ লক্ষ নাম পাওয়া গিয়েছে। তাঁদের কারও নাম ভোটার তালিকায় নেই। এছাড়াও ৩ লক্ষ পুরুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন। শুধুমাত্র জঙ্গিপুর ব্লকে সাড়ে ৪ হাজার পুরুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন। কৃষ্ণনগরের একটি অঞ্চলে ২৭৩ জন পুরুষ এই টাকা পেতে। শুভেন্দুর অভিযোগ, পুরুষদের বিধবা ভাতাও দিত তৃণমূল সরকার। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যবাসীর আমিষ খাওয়া বন্ধ করে দেবে বলে প্রচার শুরু করেছিল তৃণমূল। কিন্তু এই অপপ্রচারকে খণ্ডন করে আগামী সপ্তাহ থেকে মা আহারে দুই দিন মাছ-ভাত পাওয়া যাবে বলে জানান শুভেন্দু। তিনি আশাবাদী, তৃণমূল নেতারাও মা আহারে গিয়ে মাছ-ভাত খাবেন।





