RK NEWZ এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই গ্রেফতারির আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। তিনি আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন। আগামী ৯ জুন মঙ্গলবার হাইকোর্টে তাঁর এই জামিন মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্রের খবর, আদালতের সেই শুনানির ফলাফলের দিকে তাকিয়েই আইনি রক্ষাকবচ পেতে প্রথমে ১৪ দিনের সময় চেয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু পুলিশ তাঁকে সেই সুযোগ না দিয়ে, আদালতের শুনানির ঠিক একদিন আগে অর্থাৎ ৮ জুন সোমবারই থানায় ডেকে পাঠাল। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী দ্বিতীয় তলবে হাজিরা দেবেন কিনা, সেবিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। শতদ্রু দত্ত জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই বিস্ফোরক রূপ নেয় এই মামলা। এদিকে রাজ্যে পালাবদলের পরই মেসির ভারত সফরের মূল আয়োজক শতদ্রু অরূপ বিশ্বাস-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করে। অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে জানা গেছে। মেসিকাণ্ডের রেশ যেন কিছুতেই কাটছে না। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া চরম বিশৃঙ্খলার মামলায় এবার আরও চাপে পড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। গত বৃহস্পতিবারই তাঁকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আইনি কারণ দেখিয়ে তিনি ১৪ দিনের সময় চেয়ে চিঠি পাঠান। তবে পুলিশ তাঁকে সেই বাড়তি সময় দিতে নারাজ। দু’দিনের মাথাতেই শনিবার ফের নোটিস পাঠিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে তলব করল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। আগামী সোমবার অর্থাৎ ৮ জুন তাঁকে থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত বছর ডিসেম্বরে যুবভারতীতে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার লিয়োনেল মেসির সফরকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, সেইসময় মাঠে সাধারণ দর্শকদের বঞ্চিত করে অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরাই মেসিকে কার্যত ছেঁকে ধরেছিলেন। এর ফলে হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কিনেও প্রিয় তারকাকে চোখের দেখা দেখতে পাননি বহু সাধারণ মানুষ। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তুমুল বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফাও দিতে হয়েছিল। ওই ঘটনার পর অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বর্তমানে তিনি জামিনে বাইরে রয়েছেন।
ভাই স্বরূপ বিশ্বাস আগেই জেলে ঢুকেছেন। এবার কি রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পালা? মেসিকাণ্ডে হাজিরা দেওয়ার জন্য সপ্তাহ দু’য়েক সময় চেয়েছিলেন অরূপ। কিন্তু সেই সময়সীমা দিতে নারাজ বিধাননগর পুলিশ। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে সোমবারই বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ মে শতদ্রু দত্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিলেন। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহতির ৩(৫)/ ৩০৮ (২)/ ৩১৮(৪)/৩৫১(২)/৬১(২) ধারা অর্থাৎ টিকিটে কালোবাজারি, চাঁদাবাজি, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, মেসির ইভেন্টের নিরাপত্তায় গাফিলতি, প্রতারণা ইত্যাদির অভিযোগ এনেছেন মেসির গোট টুরের আয়োজক শতদ্রু। তাঁর অভিযোগ, মেসি ইভেন্টের জন্য প্রায় ২২ হাজার টিকিট কালোবাজারি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। এর পাশাপাশি শতদ্রুর অভিযোগ, গা জোয়ারি করে, প্রভাব খাটিয়ে মেসির কাছাকাছি চলে এসেছিলেন তিনি। বিনা অনুমতিতে মেসির গায়ে হাতও দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অরূপকে ৪ জুন বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। তবে তার আগেই বিধাননগর দক্ষিণ থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্রাক্তন মন্ত্রী। অরূপ জানান, তিনি অসুস্থ। তাই আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে হাজিরা দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু অরূপকে সেই সময়টাও দিতে নারাজ পুলিশ। দু’দিনের মাথায় শনিবার আবার বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ নোটিস পাঠিয়ে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে অরূপকে। ৮ জুন অর্থাৎ সোমবার সকাল ১১টার মধ্যে অরূপকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মেসি বিভ্রাট কাণ্ডে বারাসত আদালতে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন অরূপ। সেই আবেদন খারিজ হয়েছে। পরে তিনি আবেদন করেছেন কলকাতা হাই কোর্টে। সেই মামলার শুনানি রয়েছে ৯ জুন। হাই কোর্টের শুনানিতে আগাম জামিনের আশায় বসে প্রাক্তন মন্ত্রী। অথচ তার আগেই তাঁকে ফের তলব করল পুলিশ। স্বাভাবিকভাবেই প্রাক্তন মন্ত্রীর গ্রেপ্তারির একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার অরূপ কী করেন।
অরূপ-স্বরূপের সুরুচি সংঘে বেডরুম, ঝাঁ চকচকে শৌচাগার! ভিতর থেকে মিলল বহু ভোটার কার্ডও ক্লাবের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে ভোটার তালিকা। কী কারণে একটি ক্লাব ভবনের মধ্যে এই ধরনের নথি রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়, ক্লাবের দোতলায় গিয়ে দেখা যায় সুসজ্জিত একটি বসার ঘর। সেখানে অতিথিদের বসার জন্য একাধিক আরামদায়ক সোফা রাখা রয়েছে। পাশাপাশি মজুত ছিল প্রচুর পানীয় জলের বোতল। অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসার মধ্যেই নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এল নিউ আলিপুরের সুরুচি সংঘ। স্থানীয়দের ক্ষোভ চরমে পৌঁছনোর পর ক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আর সেই ঘটনার পর ক্লাবের ভিতরে যা যা পাওয়া গিয়েছে, তা ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ক্লাবের আড়ালে নানা ধরনের অনিয়ম চলছিল। সম্প্রতি একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। শুক্রবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ মানুষ ক্লাবের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। এরপরই সামনে আসে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ক্লাবের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে ভোটার তালিকা। কী কারণে একটি ক্লাব ভবনের মধ্যে এই ধরনের নথি রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু তাই নয়, ক্লাবের দোতলায় গিয়ে দেখা যায় সুসজ্জিত একটি বসার ঘর। সেখানে অতিথিদের বসার জন্য একাধিক আরামদায়ক সোফা রাখা রয়েছে। পাশাপাশি মজুত ছিল প্রচুর পানীয় জলের বোতল। সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে দোতলায় পাওয়া একটি বেডরুম! স্থানীয়দের দাবি, ক্লাবের ভিতরে এমনভাবে সাজানো একটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের ঘর থাকার কোনও যৌক্তিক ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি। ঘরটিতে একটি বড় খাট, বিশাল দেওয়াল আলমারি এবং একাধিক আলাদা ড্রয়ার রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি শৌচাগারও। পুরো ব্যবস্থাই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা সাধারণ ক্লাবঘরের তুলনায় অনেকটাই আলাদা বলে মনে করছেন এলাকার মানুষ। এই ঘরটি কারা ব্যবহার করতেন, সেখানে কী ধরনের কার্যকলাপ চলত এবং ক্লাবের প্রয়োজনেই কি এই পরিকাঠামো তৈরি হয়েছিল – সেই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাধারণ বাসিন্দাদের ক্লাবের এই অংশে প্রবেশের সুযোগ ছিল না। ফলে ভিতরে কী চলত, সে সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষেরই স্পষ্ট ধারণা ছিল না। বিতর্ক আরও বেড়েছে ক্লাবের পিছনের অংশে একটি গোয়ালঘরের অস্তিত্ব সামনে আসার পর। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেখানে দু’টি গরুও রাখা ছিল। একটি শহুরে ক্লাব চত্বরে গোয়ালঘর থাকার কারণ কী, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সমস্ত ঘটনাই ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারের পর থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। সেই আবহেই সুরুচি সংঘকে ঘিরে এই নতুন বিতর্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এখন নজর প্রশাসনের দিকে। ক্লাবের ভিতরে পাওয়া বিভিন্ন সামগ্রী, নথিপত্র এবং পরিকাঠামো নিয়ে কোনও তদন্ত হবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে তাঁদের দাবি, সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্য সামনে আনা হোক।
জোড়াসাঁকোয় তৃণমূল কাউন্সিলর মহম্মদ জসিমউদ্দিনের বাড়িতে পুলিশের হানা। রবিবার সকাল সকাল তাঁর কলেজ স্ট্রিট সংলগ্ন বাড়িতে পৌঁছে যায় জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ। সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাড়ির বাইরে বাহিনীর জওয়ানেরা দাঁড়িয়ে। ভিতরে কাউন্সিলরকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে খবর। ঠিক কী কারণে এই জিজ্ঞাসাবাদ, এখনও স্পষ্ট নয়। কলকাতা পুরসভার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জসিমউদ্দিন। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই তাঁর কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ। অভিযোগ, এক নাবালিকাকে হেনস্থার অভিযোগে ওই এলাকা থেকেই কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ এক জনকে শনিবার গ্রেফতার করে পুলিশ। তার পর সকালেই কাউন্সিলরের বাড়িতে তারা এসেছে। পকসো আইনে রুজু হওয়া সেই মামলার প্রেক্ষিতেই জসিমউদ্দিনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে কি না, জানা যায়নি। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার একাধিক কাউন্সিলরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শনিবার রাতেই পাটুলিতে ধরা পড়েছেন কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। এই নিয়ে কলকাতা পুরসভার পর পর সাত জন তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেফতার হলেন। বাপ্পাদিত্যের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হলে স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা সেখানে জড়ো হয়ে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান। ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগানও। তার মধ্যেই রবিবার সকালে কলকাতার আর এক কাউন্সিলরের বাড়িতে হানা দিল পুলিশ।





