RK NEWZ সিএবি অর্থাৎ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল-এর ডিস্ট্রিক্ট কমিটির চেয়ারম্যান গ্রেফতার। জমি মামলার দুর্নীতিতে গ্রেফতার করেছে শালবনি থানার পুলিশ। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সুজয় হাজরা পরিচিত নাম। তিনি আবার বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেও পরিচিত। সিএবি নির্বাচনে বেশ বড় ভুমিকা গ্রহন করেছিলেন তৃণমূল দলের জেলা সভাপতি সুজয়। এবার জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয় হাজরার। শালবনি থানা গ্রেফতার করেছে সুজয়কে। শালবনি জমি কেলেঙ্কারীতে উঠে আসছে সুজয়ের নাম। প্রশ্ন উঠে আসছে, কে এই সুজয়? কেন তিনি সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’? দীর্ঘ বছরের পর বছর ধরে মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টসের সেক্রেটারী সঞ্জিত তরাই। অথচ সিএবি নির্বাচনের তাগিদে সিএবিতে প্রভাব বিস্তার করেন গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল বিধায়ক। সমস্ত ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখা হয় জেলা সম্পাদক সঞ্জিত তরাইকে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টসের জবরদখল পদধারী সচিব শ্যামল মিত্রর ক্ষেত্রেও। হাওড়ার সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজ, জমি মাফিয়া দালাল অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা শ্যামল মিত্র, ঠিক একইভাবে সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসের ঘনিষ্ঠ হন প্রথমে। পরে, সঞ্জয় মারফৎ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হয়ে যান শ্যামল মিত্র। এমনকি শ্যামল মিত্রের মেয়ের বিয়েতেও সিএবির প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসকে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে।হাওড়ার মানুষ সেই থেকে শ্যামল মিত্রকে সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেই জানতে শুরু করে। যে ভিডিও সোস্যল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিল শ্যামল মিত্রের দুর্নীতিবাজ জামাই বলেও অভিযোগ। শ্যামল মিত্রের উপর সাধারন মানুষের উপহার দেওয়া গনপিটুনির ছবিও ভাইরাল। একইভাবে, এবার জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সৌরভ ‘ঘনিষ্ঠ’ সুজয় হাজরার। শালবনি থানা গ্রেফতার করেছে। একইভাবে বালি থেকে গ্রেফতার হয়েছে ড্রাগ পাচার, তোলাবাজি, জমি দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কৈলাশ মিশ্রও। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হাওড়া শহর অঞ্চলের তৃণমূল নেতা কৈলাস মিশ্র গত বিধানসভা ভোটে বালির তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন। হাওড়া সদর তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি পদে রয়েছেন ৪৬ বছর বয়সী কৈলাস। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে কৈলাসের বেশ আন্তরিক ছবি সোস্যল মিডিয়ায় ভাইরাল। তাঁর বিরুদ্ধে জাল ওষুধের ব্যাবসা ও পাচার, তোলাবাজি, মারধর-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে মামলা রয়েছে। প্রায় মাসখানেক ধরে পলাতক ছিলেন কৈলাস মিশ্র। শুক্রবার হাওড়ায় কৈলাস মিশ্রের একটি গুদাম থেকে বেআইনি ওষুধ উদ্ধার হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে হাওড়া সিটি পুলিশ। বিহারে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তৃণমূল নেতাকে। শনিবার হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দাদের একটি দল বিহারের মধুবনী জেলায় যায়। সেখানে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে কৈলাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৪ মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় কৈলাস। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে তৃণমূলের অন্দরেরই খবর। ৪ মে-র পর থেকে কৈলাস বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে লুকিয়েছিলন বলে অভিযোগ। হাওড়া সিটি পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিহারের মধুবনী জেলায় তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে হানা দেয়। কৈলাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মারধর, গুন্ডামি, সরকারি কাজে বাধা, হুমকি-সহ একাধিক ধারায় পুলিশ মামলা শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। তারপর ট্রানজিট রিমান্ডে সোমবার হাওড়ায় নিয়ে আসা হবে।

শালবনির জমি মাফিয়া? কে এই দাপুটে জমি কেলেঙ্কারীর নায়ক? তৃণমূল থেকে সংগঠন ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ওই দলের জেলা সভাপতি ছিলেন। জমি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়াল মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার। শনিবার সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃণমূল নেতাকে শালবনি থানায় ডাকা হয়েছিল। রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে হয়েছে পুলিশ সূত্রে খবর। কয়েক দিন আগে বালি মাফিয়াদের যোগসাজশের অভিযোগে কেশিয়াড়ির তৃণমূল নেত্রী কল্পনা শিটকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিয়ে পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল। পুলিশের একটি সূত্রে খবর, সেই সময় কল্পনা জানিয়েছেন সুজয়-সহ জেলার বেশ কয়েক জন তৃণমূল নেতার নাম বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের বাদ রেখে কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হল। সুজয়কে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সন্ধ্যায় তাঁর গ্রেফতারির খবর মেলে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘জমি সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে। শুক্রবার শালবনি থানায় একটি জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য শালবনি থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল অভিযুক্তকে। তদন্ত চলছে। এখনই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’’ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সুজয় হাজরা পরিচিত নাম। গত বুধবার তৃণমূল থেকে জেলা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি ওই দলের জেলা সভাপতি ছিলেন। এ বার পশ্চিম মেদিনীপুরে ১৫টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৩টিতে হেরেছে তৃণমূল। পরাজিতদের মধ্যে রয়েছেন সুজয়ও। প্রায় ৩৮ হাজার ভোটে পরাস্ত হন তিনি। ভোটের আগে মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্যগোপনের অভিযোগ করে বিজেপি। তাঁর প্রার্থিপদ বাতিলের দাবি তোলা হয়। তিনি ব্যবসায়িক সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি প্রার্থী, বর্তমান বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত।

এদিকে, মহারাজকীয় সাফাই? বিপুল আলোড়ন! ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করার নির্দেশ! সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ই মমতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন বহরমপুরের সাংসদের কাছে? ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করিয়ে তাঁর জায়গায় বহরমপুর আসন থেকে লোকসভায় যেতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বেশ কয়েকদিন ধরে সংবাদমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ায় এই খবর ধরনের একটি খবর ছড়াচ্ছে। অপ্রত্যাশিতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামও। বলা হচ্ছে, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ই নাকি মমতার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন ইউসুফ পাঠানের কাছে। কিন্তু সৌরভ সাফ জানিয়ে দিলেন, এই ধরনের খবরের কোনও ভিত্তি নেই। সম্পূর্ণটাই মনগড়া। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভের সাফ কথা, ‘এই ধরনের কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগে সঠিক তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত ছিল। স্রেফ গুজবের বশবর্তী হয়ে কোনও খবর প্রকাশ করা উচিত না।’ সম্প্রতি এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতিতে নজর দিতে চাইছেন। সেই লক্ষ্যে তিনি লোকসভায় যেতে চান। তাঁর প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে, ওই কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের সমর্থনে জিতে আসা। ইউসুফের কাছে তাঁর বার্তা নাকি পৌঁছে দিয়েছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রীতিমতো আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। সৌরভের ভূমিকাও আতস কাচের তলায়।

সৌরভের দাবি, ওই প্রতিবেদনে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সৌরভ রীতিমতো বিবৃতি দিয়ে ওই খবর খণ্ডন করেছেন। তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ধরনের কোনও প্রস্তাব নিয়ে তাঁর কাছে আসেননি। আর তিনিও ইউসুফ পাঠানের কাছে কোনও প্রস্তাব নিয়ে যাননি। পুরোটাই ভিত্তিহীন। বিবৃতিতে প্রাক্তন ভারত অধিনায়কের দাবি, ‘এই প্রতিবেদনে আমাকে নিয়ে যা যা দাবি করা হয়েছে, দূরদুরান্ত পর্যন্ত তাতে কোনও সত্যতা নেই। এই পরিস্থিতিতে আমি এই সত্যিটা তুলে ধরা প্রয়োজনীয় মনে করছি যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে কোনওরকমভাবেই ইউসুফকে পদত্যাগ করার বার্তা দিতে বলেননি। আমিও ইউসুফের কাছে এই ধরনের বার্তা নিয়ে যাইনি। শুধু তাই নয়, আমি জীবনে কোনওদিন কোনও রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকিনি।” সৌরভের সাফ কথা, ‘এই ধরনের কোনও প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগে সঠিক তথ্য যাচাই করে নেওয়া উচিত ছিল। স্রেফ গুজবের বশবর্তী হয়ে কোনও খবর প্রকাশ করা উচিত না। যেভাবে সত্যাসত্য যাচাই না করে প্রতিবেদনে আমার নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’




