Saturday, June 6, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

শুভমন ছাপিয়ে গেলেন শচীন, সৌরভ, কোহলিকে!‌ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে শতরান করে রেকর্ড গিলের!

ভারত: ৩৬৮-৮ (শুভমান গিল ১০৩, কেএল রাহুল ১০০)

RK NEWZ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টের প্রথম দিনই শতরান করেছেন শুভমন গিল। দিনের শেষে ১০৩ রানে অপরাজিত তিনি। এই ইনিংসের মাঝে রেকর্ডও গড়েছেন শুভমন। টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর ব্যাট হাতে দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন শুভমন গিল। শনিবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টের প্রথম দিনই শতরান করেছেন তিনি। দিনের শেষে ১০৩ রানে অপরাজিত তিনি। এই ইনিংসের মাঝে রেকর্ডও গড়েছেন শুভমন। ছাপিয়ে গিয়েছেন ভারতের সকল টেস্ট অধিনায়ককে। অধিনায়ক হিসাবে টেস্টে ১০০০ রান পূর্ণ হয়েছে শুভমনের। মাত্র ৩৫১ দিনে এই ১০০০ রান করেছেন তিনি। অর্থাৎ, অধিনায়ক হওয়ার এক বছরের মধ্যেই এই কীর্তি করেছেন তিনি। শুভমনই একমাত্র ভারতীয় টেস্ট অধিনায়ক যিনি এত কম সময়ে ১০০০ রান করেছেন। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সচিন তেন্ডুলকর। অধিনায়ক হওয়ার পর টেস্টে ১০০০ রান করতে ৪০৫ দিন নিয়েছিলেন তিনি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিয়েছিলেন ৫৩৮ দিন। টেস্ট অধিনায়ক হিসাবে ১০০০ রান করতে বিরাট কোহলির সময় লেগেছিল ৫৯০ দিন। অর্থাৎ, শুভমনই একমাত্র অধিনায়ক যিনি এক বছরের কম সময়ে ১০০০ রান করেছেন। ভারতের ১১তম টেস্ট অধিনায়ক হিসাবে ১০০০ রান করেছেন শুভমন। ১৫ ইনিংস লেগেছে তাঁর। শুভমনের থেকে কম ইনিংসে ১০০০ রান করেছিলেন সুনীল গাওস্কর। অধিনায়ক হিসাবে ১৪ ইনিংসে ১০০০ রান করেছিলেন তিনি। কোহলি ও মহেন্দ্র সিংহ ধোনির লেগেছিল ১৮ ইনিংস। গত বছর জুন মাসে ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব দেওয়া হয়েছিল শুভমনকে। প্রথম পরীক্ষা ছিল ইংল্যান্ডে। সেখানে লিডসে প্রথম টেস্টেই ১৪৭ রান করেছিলেন তিনি। বার্মিংহ্যামে দুই ইনিংসে ২৬৯ ও ১৬১ রান করেছিলেন শুভমন। ম্যাঞ্চেস্টারে করেছিলেন ১০৩ রান। পরে দিল্লিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ১২৯ রান করেছিলেন তিনি। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এল আরও একটি শতরান। এখনও অপরাজিত শুভমন। রবিবার নিজের রান আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড সিরিজই হোক বা এশিয়ান গেমস, শনিবার কোনও টি-টোয়েন্টি দলেই শুভমন গিলকে রাখেননি নির্বাচকেরা। শুভমনকে ২০২৭ পর্যন্ত মন দিতে বলা হয়েছে টেস্ট এবং এক দিনের ক্রিকেটে। গত আইপিএলে ৭৩২ রান করলেও সুযোগ পাননি শুভমন। সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিশন, বৈভব সূর্যবংশী থাকায় ওপেনিংয়ে কোনও জায়গাই ফাঁকা নেই। নির্দিষ্ট কারণেই তাঁকে রাখা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। বোর্ড সূত্রের খবর, “অতিরিক্ত ক্রিকেটের চাপে শুভমন যাতে বিধ্বস্ত না হয়ে পড়ে, সেটা মাথায় রেখেছেন নির্বাচকেরা। আগামী ১৮ মাসে যে পরিমাণ ক্রিকেট রয়েছে তাতে একজনের পক্ষে কোনও ভাবেই তিনটে ফরম্যাটে খেলা সম্ভব নয়। শুভমন ন’টা টেস্টে নেতৃত্ব দেবে। ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে অন্তত ৩৫টা এক দিনের ম্যাচ খেলবে। শুভমনকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই দুটো আইসিসি প্রতিযোগিতার জন্য ওকে ফিট থাকতে হবে। এ ছাড়া পরের বছর আইপিএলে গুজরাতের হয়েও খেলবে ও। ২০২৮-এর বড় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার জন্য এখনও সময় রয়েছে। শুভমনের জন্য অদূর ভবিষ্যতের কথা ভাবা হয়েছে। দু’বছর পর কার কী রকম ফর্ম এবং ফিটনেস থাকবে কেউ জানে না। আপাতত ২০২৭ পর্যন্ত এটাই পরিকল্পনা।” পরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভাবনা থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়নি শুভমনকে।

দুর্বল আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে চালকের আসনে টিম ইন্ডিয়া। সৌজন্যে টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক এবং সদ্য নির্বাচিত সহ-অধিনায়কের সেঞ্চুরি। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন সদ্য সহ-অধিনায়কত্ব খোয়ানো ঋষভ পন্থও। যাকে নিয়ে এতদিন ধরে প্রশ্ন উঠছিল সেই সাই সুদর্শনও ৮১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছেন। সব মিলিয়ে দিনের শেষে ভারতের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৬৮ রান। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এক টেস্টের এই সিরিজ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। ফলে এই ম্যাচ মূলত পরীক্ষানিরীক্ষার এবং ফর্মে ফেরার। দীর্ঘদিন টি-২০ ফরম্যাটে খেলার পর দীর্ঘতম ফরম্যাটে মানিয়ে নেওয়াটাও চ্যালেঞ্জ ছিল টিম ইন্ডিয়ার সামনে। কিন্তু দুর্বল আফগান বোলিং বিভাগ সেভাবে কোনও চ্যালেঞ্জেই ফেলতে পারলেন না ভারতীয় ব্যাটারদের। একমাত্র যশস্বী জয়সওয়াল ছাড়া এদিন যারা যারা ব্যাট করলেন তারা প্রত্যেকেই কমবেশি সফল হলেন। এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক গিল। ব্যাটিংয়ে ভালো শুরুটা করেছিলেন কেএল রাহুল। দিনের শুরুটা তিনি ধৈর্য ধরে খেলেন। শুরুর দিকে সুইংও করছিল বল। তাতে ২৪ রানে নিজের উইকেট খোয়ান যশস্বী জয়সওয়াল। কিন্তু রাহুল নিজের কাজটা করে যান অন্যপ্রান্তে। এরপর সাই সুদর্শনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে ভারত তোলে ১৪০ রান। সুদর্শন আউট হন ৮১ রানে। বিতর্ক সত্ত্বেও ৩ নম্বর স্লটের জন্য গৌতম গম্ভীর আস্থা রেখেছেন তাঁর উপর। সেই আস্থার দাম দিয়েছন সুদর্শন। আর রাহুল ১৬৫ বলে ১০০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন। যদিও সেঞ্চুরির পরই আউট হয়ে যান তিনি। এটি রাহুলের কেরিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি। রাহুল আউট হলেও অন্য প্রান্তে আফগান বোলারদের শাসন চালিয়ে যান শুভমান গিল এবং ঋষভ পন্থ। অধিনায়ক গিল এদিন তাঁর কেরিয়ারের দশম টেস্ট সেঞ্চুরিটি করে ফেলেছেন। দিনের শেষে তিনি অপরাজিত ১০৩ রানে। ঋষভ পন্থের জন্য ম্যাচটি বাড়তি গুরুত্বপূর্ণ। কোচ গম্ভীর তাঁর উপর আস্থা হারাচ্ছেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এসবের মধ্যেই পন্থ এদিন ৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles