Saturday, May 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দুর্নীতির কালির পুরু পোঁচ পড়েছে তৃণমূল জমানায় নিয়োগ ব্যবস্থায়!‌ বদলাচ্ছে নিয়ম, নিয়োগে স্বচ্ছতা এনে দুর্নীতির কালি মুছতে চান শুভেন্দু!

RK NEWZ তৃণমূল জমানায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে যখনই আলোচনা হয়েছে, তখন আদালত থেকে রাজনীতির পরিসরে যে শব্দবন্ধ নিয়ে সব থেকে বেশি চর্চা ছিল, তা ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’। অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়, যে দুর্নীতি হয়েছে, তার নেপথ্যে ছিল প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা। দুর্নীতির কালির পুরু পোঁচ পড়েছে তৃণমূল জমানায় নিয়োগ ব্যবস্থায়। আপাতত নিয়ম বদলে সেই কালি মোছাই যে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য, তা শনিবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, খাদে নিমজ্জিত নিয়োগ ব্যবস্থাকে তুলে আনতে পরীক্ষা প্রক্রিয়াতেই বিবিধ বদল আনা হবে। সেই বদল কেমন, এক-দুই-তিন করে উদাহরণও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে শুভেন্দুর এই বক্তব্যকে বিভিন্ন মহল ‘স্বাগত’ জানালেও, তা কার্যকর হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষার কথা বলছে তারা। এমনকি, যাদের শাসনে পশ্চিমবঙ্গে স্কুল থেকে পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি ‘সংক্রমণ’-এর আকার নিয়েছিল, সেই তৃণমূলও শুভেন্দুর বক্তব্যকে ‘স্বাগত’ জানিয়ে নিট পরীক্ষা নিয়ে খোঁচাও দিয়েছে। শিয়ালদহে অনুষ্ঠিত রোজগার মেলায় যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘‘আপনারা জানেন পশ্চিমবঙ্গের বদনাম হয়ে গিয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, পুরনিয়োগ দুর্নীতি, হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ, ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল— নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের অনেক ক্ষতি হয়েছে।’’ তার পরেই তিনি জানান, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার সরকারি স্তরে এবং সরকারপোষিত বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। বিধানসভার পরবর্তী অধিবেশনে নিয়োগ নিয়ে নতুন আইন আনা হবে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। আগের সরকারের আমলে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। কিন্তু সেটা কমানো উচিত বলেই মনে করেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। স্বচ্ছতার সঙ্গে লিখিত পরীক্ষা, অ্যাকাডেমিক মূল্যায়ন, মৌখিকের নম্বর কম করে লিখিত পরীক্ষায় বেশি নম্বর, ওএমআর শিটের কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের দেওয়ার মতো পদক্ষেপের কথা বলেছেন তিনি। তৃণমূল জমানায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে যখনই আলোচনা হয়েছে, তখন আদালত থেকে রাজনীতির পরিসরে যে শব্দবন্ধ নিয়ে সব থেকে বেশি চর্চা ছিল, তা ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’। অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়, যে দুর্নীতি হয়েছে, তার নেপথ্যে ছিল প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা। প্রাথমিক থেকে উচ্চ প্রাথমিক কিংবা পুরসভা— সর্বত্রই সেই প্রসঙ্গ এসেছে। আদালতে এ-ও উল্লিখিত হয়েছিল, দালাল থেকে এসএসসির কর্তা, মন্ত্রী থেকে গোটা ব্যবস্থা মিলেমিশে দুর্নীতির নীল নকশা এঁকেছিল। শুভেন্দু দুর্নীতি নির্মূলের পন্থা হিসাবে নিয়ম বদলকেই আপাতত তাঁর সরকারের বর্শাফলক করতে চাইছেন। তবে শুধু নিয়ম বদলে কতটা দুর্নীতি রোখা যাবে, সেই প্রশ্ন উঠছে দুর্নীতির কারণে চাকরিহারা ‘যোগ্য’ শিক্ষকদের মধ্যেও।

চাকরিহারা শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল বলেন, ‘‘মৌখিকে নম্বর কমলে কি স্বজনপোষণ কমবে?’’ সেই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ২০২৫ সালে এসএসসি যে নিয়োগ সংক্রান্ত পরীক্ষা নিয়েছিল, তাতেও ওএমআর শিটের কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছিল। ফলে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু যা বলেছেন, তা নতুন নয় বলেই দাবি চিন্ময়ের। সেই সঙ্গে তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘শুধু পরীক্ষা পদ্ধতি দিয়ে দুর্নীতি রোধ করা যায় না। সঠিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ, নিয়ন্ত্রণ এবং নজরদারি যদি না-থাকে, তা হলে নিয়োগ দুর্নীতি এড়ানো সম্ভব না। আগেও যেখানে পরীক্ষায় কোনও গন্ডগোল হয়নি, পরে সিস্টেমে গন্ডগোল করা হয়েছে। সিস্টেমটা পাল্টাতে হবে। আধিকারিকদের উপরেও নজরদারি দরকার।’’ তবে তিনি আশাবাদী, নতুন সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎও চাইছেন চাকরিহারারা। চিন্ময়ের কথায়, ‘‘আমরা যোগ্য চাকরিহারারা মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ প্রার্থনা করছি। আমাদের ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ কী হবে সেই বিষয়ে আলোচনা চাইছি।’’ নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধারাবাহিক ভাবে সওয়াল করে গিয়েছেন আইনজীবী তথা রাজ্যসভায় প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ বিকাশ ভট্টাচার্য। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর নিয়ম বদলের বার্তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘নিয়োগ প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ হয় তার জন্যই তো আমাদের লড়াই। সেটা যদি করতে পারেন, তা হলে তাকে স্বাগত জানাব। তবে শুধু মুখে বললে হবে না। বাস্তবে কার্যকর করতে হবে।’’ শিক্ষাবিদ তথা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান প্রশান্ত রায়ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাবনাকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘‘দুর্নীতির বিষয়টি অনেকটা গভীরে প্রোথিত। তাকে উপড়ে ফেলতে নতুন সরকার যে কাজ করবে সেটা সহজেই অনুমেয়। কারণ, আগের শাসকদলের হার এবং বর্তমান শাসকদলের জয়ের অন্যতম কারণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ, ক্রোধ। কিন্তু নতুন সরকার কতটা বাস্তবায়িত করতে পারছে, তা আমাদের দেখতে হবে।’’ তৃণমূল অবশ্য খোঁচা দিতে ছাড়েনি। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারীর এ হেন চিন্তাভাবনাকে স্বাগত জানাই। তবে একই সঙ্গে তাঁর কাছে প্রশ্ন রইল, তিনি কি ঘুরিয়ে নিটের দুর্নীতি বা মধ্যপ্রদেশের ব্যাপম কেলেঙ্কারির দিকেও আঙুল তুলতে চাইলেন? সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি যদি একই রকম সরব থাকেন, তা হলে স্বাগত।’’

স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পাওয়া ৬ কোটি মানুষ আয়ুষ্মান ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবেন, ‘যুগান্তকারী পরিবর্তনের’ ঘোষণা শুভেন্দুর। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পর নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে তাঁর ঘোষণা, এ বার রাজ্যের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের জন্য আলাদা রোডম্যাপ তৈরি করছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের যে ৬ কোটি মানুষ মমতার সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, তাঁদের এ বার কেন্দ্রের আয়ুষ্মান প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন করেও আবেদন করা যাবে স্বাস্থ্যবিমার জন্য। ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল এবং প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তকে পাশে বসিয়ে প্রথমেই তিনি তোপ দাগেন পূর্বতন রাজ্য সরকারকে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আগের সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা তো করেইনি, শুধু বিরোধিতাই করেছে। যার ফলে কোটি কোটি মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন।’’ তিনি জানান, যে সুবিধা অন্যান্য রাজ্য পেয়েছে, সেগুলো পশ্চিমবঙ্গ পায়নি। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর নতুন সরকার ভারত সরকারের স্বাস্থ্যক্ষেত্রের বিভিন্ন প্রকল্পের রিভিউ করেছে। সেই মোতাবেক বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে উন্নতিসাধনের জন্য নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করেছে তাঁর সরকার। তাঁর কথায়, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের হেল্থ‌‌ সেক্টরে আমরা একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছি আমরা।’’
তার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ‘‘আয়ুষ্মান ভারতে এনরোলমেন্টের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, জুলাইয়ের মধ্যে আমরা আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড দিতে পারব। গোটা ভারতে এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন (উপভোক্তারা)। আমরা আশা করছি, স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে যুক্ত এমন ৬ কোটিরও বেশি কার্ড হোল্ডারকে এখনই আয়ুষ্মান ভারতে নিয়ে যেতে পারব। পরে আরও মানুষ যুক্ত হতে পারবেন।’’

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন করে আয়ুষ্মান ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে চান যাঁরা এবং স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে এত দিন যুক্ত হননি, এমন নাগরিকও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা জুন মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের এগ্রিমেন্ট দিল্লিতে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারত সরকারের মন্ত্রী, আধিকারিকদের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটা করব। প্রায় ১ কোটি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা যাঁরা অন্য রাজ্যে আছেন, তাঁরাও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এই সুবিধা পাবেন।’’ সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের প্রিভেন্টিভ ভ্যাকসিনাইজেশনও শুরু হবে রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাসে দেশব্যাপী এই সুবিধা চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে সাত লক্ষের বেশি ডোজ় দিতে চায় ভারত সরকার। শুভেন্দু বলেন, ‘‘১৪ থেকে ১৫ বছরের বালিকাদের এই ডোজ় দিতে পারি আমরা। আগামী ৩০ মে থেকে। বিধানগর সাব-ডিভিশন হাসপাতালে সে দিন আমি নিজে উপস্থিত থেকে এই প্রকল্প শুরু করব। ৩০ তারিখেই টিবি-মুক্ত ভারতের ওয়ার্কশপ শুরু হবে রাজ্যে।’’ পশ্চিমবঙ্গে চারশোর বেশি প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র তৈরির ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এতে সাধারণ মানুষের অনেকটা আর্থিক সাশ্রয় হবে। দুরারোগ্য অসুখের ওষুধে ৮০ শতাংশ ছাড় থাকবে। এমন ৪৬৯টি কেন্দ্র তৈরি হলে ১০ গুণ সুবিধা পাওয়া যাবে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০০০ টাকার ওষুধ ২০০ টাকায় পাওয়া যাবে। তা ছাড়া প্রত্যেক জেলায় মেডিক্যাল কলেজ যাতে থাকে, সেই পদক্ষেপও করা হবে। এখন চারটি প্রশাসনিক জেলায় মেডিক্যাল কলেজ নেই। শুভেন্দু বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। এর সুফল কিছু দিনের মধ্যেই পেতে শুরু করবেন। চারটি প্রশাসনিক জেলা— আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, আসানসোল এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে মেডিক্যাল কলেজ হয়নি। সে জন্য প্রয়োজনীয় জমি ইত্যাদির প্রস্তাব পাঠানো হবে কেন্দ্রকে। উত্তরবঙ্গে এমস তৈরির জন্য পদক্ষেপ করা হবে।’’ রাজ্যে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার ঠিক ভাবে ‘মনিটরিং’ করেনি। তিনি বলেন, ‘‘পাঁচ বছরের নীচে মৃত্যুহার এ রাজ্যে অনেক বেশি। কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম মালদহ জেলাগুলির রিপোর্ট উদ্বেগজনক।’’ এমন আরও কয়েকটি রিপোর্ট দেওয়ার পর রাজ্যবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ খুশির খবর দিচ্ছি। এই অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ভারত সরকার ২১০৩ কোটি আমাদের জন্য বরাদ্দ করেছে। আজকের তার এক চতুর্থাংশ ভারত সরকার ট্রান্সফারও করে দিয়েছে।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles