RK NEWZ মারণ-রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন, বাংলার এরকম ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সিএবিকে প্রস্তাব দিলেন জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার প্রণব রায়। কেউ ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন। কারও আবার পক্ষাঘাতে শরীর পঙ্গু। কেউ ভুগছেন কিডনির দুরারোগ্য ব্যাধিতে। মারণ-রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন, বাংলার এরকম ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সিএবিকে প্রস্তাব দিলেন জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার, বাংলা ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক প্রণব রায়। যিনি কিংবদন্তি পঙ্কজ রায়ের পুত্র। দিনকয়েক আগেই সিএবি-র অ্যাপেক্স কাউন্সিলের বৈঠক ছিল। যে বৈঠকে বেঙ্গল টি-২০ লিগ নিয়ে আলোচনা হয়। ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি হিসাবে সেই বৈঠকে ছিলেন প্রণব রায়। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও সকলের সম্মতি নিয়ে তিনি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সিএবি-কে অনুরোধ করেন। বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার পার্থ সেন ক্যান্সারে আক্রান্ত। বাংলা ক্রিকেটের কিংবদন্তি পলাশ নন্দীও কর্কটরোগের সঙ্গে লড়াই করে ফিরেছেন। সুব্রত পোড়েল কার্যত চলাফেরা করার ক্ষমতা হারিয়েছেন। সাগরময় সেনশর্মাও গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। প্রাক্তন ক্রিকেটারদের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আর্থিক অনুদান দেয়। পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যাঁরা ৯ থেকে ২৩টি ম্যাচ খেলেছেন, এরকম ষাটোর্ধ্ব ক্রিকেটারদের জন্য সিএবি-র দুরকম অনুদান রয়েছে। একটা মাসিক ৭ হাজার টাকা। আর একটা ওষুধ কেনার খরচ হিসাবে মাসিক ৮ হাজার টাকা। তবে চিকিৎসার খরচের টাকা পেতে আবেদন করতে হয় সিএবি-তে। যদিও মারণ-রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার খরচ বিপুল। সেই খরচ জোগাতে সকলে সক্ষম নন। হিমশিম খেতে হয় প্রবীণ ক্রিকেটারদের। তাঁদের সাহায্যার্থে পাশে দাঁড়ানোর জন্যই সিএবি-র কাছে আবেদন করেছেন প্রণব রায়।
প্রাণদায়ী ওষুধের আকাশছোঁয়া দাম ও ব্যায়বহুল চিকিৎসার ক্ষেত্রে সিএবি দায়িত্ব নিলে বয়স্ক ক্রিকেটারেরা আশ্বস্ত বোধ করবেন বলেই ধারণা প্রণবের। তিনি বলেন, একটা সময় ক্যান্সার আক্রান্ত অংশুমান গায়কোয়াড়ের চিকিৎসার সমস্ত দায়ভার নিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। যে সমস্ত ক্রিকেটারেরা রাজ্যের জন্য, দেশের জন্য রক্ত জল করেছেন, তাঁদের এটুকু প্রাপ্য। তবে সকলের তো আর ক্যান্সার বা মারণ রোগ হচ্ছে না। হয়তো দেখা যাবে সংখ্যাটা এক শতাংশ বা তারও কম। এমন ক্রিকেটারদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব যাতে সিএবি নেয়, সেই প্রস্তাব দিয়েছি। সিএবি-র মেডিক্লেইম রয়েছে। তবে মারণ রোগের ক্ষেত্রে সেটা কিছুই নয়। দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব যাতে সিএবি নেয়, সেটাই চাই। এরকম ব্যবস্থা থাকলে ক্রিকেটারেরা বয়স্ক, অশক্ত শরীরে মানসিকভাবেও কিছুটা আশ্বস্ত হবেন। সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আশ্বাস দিয়েছেন, গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি ভেবে দেখবেন। অ্যাপেক্স কাউন্সিলের পরের বৈঠকে এটা নিয়ে আলোচনাও হবে বলেছেন। পাশাপাশি, প্রাক্তম সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া পুরো বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, প্রাক্তন ক্রিকেটার প্রণব রায়ের এই মহতি উদ্যোগ গ্রহনের আবেদন সত্যিই বাংলার ক্রিকেটারদের উদ্বুদ্ধ করবে যে, সিএবি সবসময় ক্রিকেটারদের পাশেই আছে।





