Friday, May 22, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

স্বরূপের বিরুদ্ধে অভিযোগ বাংলাদেশি প্রযোজকের!‌ বেশি পারিশ্রমিক দাবি, শাকিবকে ডাক সুরুচি সঙ্ঘে!

RK NEWZ আর ফেডারেশন সভাপতির পদে নেই স্বরূপ। নতুন সরকারের কাছে প্রযোজক শিরিন সুলতানার আর্জি, “এমন পরিবেশ তৈরি করে দিন, যাতে আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মজবুত হয়।” কথা দিয়েছিলেন, টেকনিশিয়ানদের নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের চেয়ে মাত্র দেড় গুণ বেশি পারিশ্রমিক দিলেই হবে। শাকিব খানের সঙ্গে সুরুচি সঙ্ঘে বিশেষ বৈঠকের বার্তাও দিয়েছিলেন। শুটিংয়ের মাঝপথেই নাকি সুর বদলে যায় তৎকালীন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের। কলকাতায় ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপ অন এ টাইম ইন ঢাকা’র শুটিংয়ে টেকনিশিয়ানদের নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের তিন গুণ বেশি দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ প্রযোজক শিরিন সুলতানার। রাজ্য-রাজনীতিতে পালাবদলের পর বদল টলিউডেও। আর ফেডারেশন সভাপতির পদে নেই স্বরূপ। তিনি একাধিক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, গত বছর তাঁর মেয়াদ শেষ। স্বরূপের মেয়াদ ফুরোতেই মুখ খুললেন প্রযোজক শিরিন। তাঁর অভিযোগ, “ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী, কলকাতায় কাজ করলে টেকনিশিয়ানদের আড়াই গুণ বেশি পারিশ্রমিক দিতে হয়। কিন্তু স্বরূপবাবু শুরুতেই বলেন, ‘চিন্তা করবেন না। দেড় গুণ পারিশ্রমিক দিলেই আপনারা এখানে কাজ করতে পারবেন। আমরা চাই দুই দেশের মধ্যে আরও কাজ হোক।’ আমরা ভারত সরকারের থেকে উত্তরপ্রদেশের লখনউ-সহ নানা জায়গায় শুটিংয়ের অনুমতি পেয়েছিলাম। স্বরূপবাবু আশ্বাস দিয়ে জানান, কোথাও যেতে হবে না। কলকাতায় আমরা স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারি।” ফেডারেশন সভাপতির কুর্সি সরতেই যিনি অভিযোগের কাঠগড়ায়, সেই স্বরূপ এই বিষয়ে কী বললেন? স্বরূপের সাফাই, “ওঁরা তিন গুণ নয়, আড়াই গুণ বেশি পারিশ্রমিক দিয়েছেন, যা কলকাতার টেকনিশিয়ানদের জন্য ধার্য। কিচ্ছু বেশি পারিশ্রমিক দেননি। আমিও কোনও দিন শুটিং আটকাইনি।” একজ়িকিউটিভ প্রোডিউসার অরিন্দম প্রসঙ্গে বলেন, “ওঁকে চিনি। অরিন্দম ভীষণ কথা বদলে দেন। ওঁর কথার উত্তর না দেওয়াই ভাল।” তবে শাকিব খানের সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, সুরুচি সঙ্ঘে নয়, ফেডারেশনের অফিসে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। আগামী দিনে বাংলাদেশের ছবির শুটিং যাতে আরও বেশি করে কলকাতায় হয়, তার একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার জন্যই তিনি বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। স্বরূপের কথায়, “শাকিব খান আসবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু বৈঠকের আগেই তিনি পেটের সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই সময়ে তিন দিন শুটিংও করতে পারেননি। আমাদের বৈঠক ভেস্তে যায়।” ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতির পাল্টা অনুযোগ, “কুর্সিতে নেই। এখন অনেকেই বিস্তর অভিযোগ জানাবেন আমার বিরুদ্ধে।” স্বরূপের ব্যবহারে আপ্লুত প্রযোজক শিরিন বলেন, “স্বরূপবাবু শাকিব খানকে সুরুচি সঙ্ঘে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমাদের বলেছিলেন, ‘বিশেষ বৈঠক করব। এতে দুই দেশের কাজের সম্ভাবনা বাড়বে।’ শুনে শাকিব ভাইও রাজি।” নির্দিষ্ট দিনে শাকিব খানকে নিয়ে সুরুচি সঙ্ঘে উপস্থিত হন প্রযোজক। স্বরূপ নাকি লোক মারফত জানান, তিনি জরুরি বৈঠকে ব্যস্ত। ফিরিয়ে দেন শাকিব খানকে! এখানেই শেষ নয়। শিরিনের আরও অভিযোগ, “এর পরেই স্বরূপবাবু হঠাৎ একদিন ফোন করে জানান, তিন গুণ বেশি পারিশ্রমিক দিতে হবে টেকনিশিয়ানদের। নইলে কাজ বন্ধ।” তত দিনে ১০ দিনের শুটিং হয়ে গিয়েছে। শুনে মাথায় হাত প্রযোজক শিরিনের। তিনি ছবির কলকাতার একজিকিউটিভ প্রোডিউসার অরিন্দম দাসকে নিয়ে তড়িঘড়ি স্বরূপের অফিসে যান। এ দেশে আড়াই গুণ বেশি পারিশ্রমিকের নিয়মের কথা উল্লেখ করেন অরিন্দম। একজিকিউটিভ প্রোডিউসারের অভিযোগ, “আমায় স্বরূপদা হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তুমি তো কলকাতাতেও অন্য ছবির কাজ করবে। চুপচাপ থাকো। নইলে ‘ব্যান’ হয়ে যাবে।’ শেষে তিন গুণ বেশি পারিশ্রমিক দিয়েই শুটিং শেষ করেন প্রযোজক। তাঁর কথায়, “খরচ বেড়ে যাচ্ছে জানিয়ে স্বরূপবাবুর কাছে অনেক অনুরোধ জানিয়েছিলাম। তিনি কানেই তোলেননি!” বিষয়টি নিয়ে তাই নতুন সরকারের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন ‘প্রিন্স’ ছবির প্রযোজক। ইতিমধ্যেই বিষয়টি জানানো হয়েছে টলিউডের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম রুদ্রনীল ঘোষকে। নতুন সরকারের কাছে প্রযোজক শিরিন সুলতানার আর্জি, “এমন পরিবেশ তৈরি করে দিন, যাতে আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মজবুত হয়। স্বরূপবাবুর মতো মানুষেরা আদতে দুই বাংলার শত্রু। আমরা আরও বেশি করে ভারতে এসে কাজ করতে চাই।”

রুদ্রনীলের কথায়, “একটা সময় ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় প্রচুর ছবি হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক ভাল হোক, আমরা সবাই চাই। পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে, কিছু দিন আগে বাংলাদেশ যখন অস্থির, তখন ও পার বাংলার বেশ কিছু ব্যক্তিত্ব ভারত সম্পর্কে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। তাঁদের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন পদ্মাপারের শিল্পীরাও।” রুদ্রনীলের মতে, সেই সময়েও ভারত যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছে। কারণ, ও পার বাংলার জন্য আলাদা আবেগ কাজ করে এ পার বাংলার মনে। তার পরেও বিষয়টি আন্তর্জাতিক। ভারতে কাজ করা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে দুই দেশের শীর্ষনেতৃত্ব, মনে করিয়ে দেন বিজেপি অভিনেতা-বিধায়ক। পশ্চিমবঙ্গ তথা কলকাতায় কাজের প্রসঙ্গে তাঁর মত, “এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরাসরি কথা বললে মনে হয় বেশি ভাল হবে। তিনি প্রযোজক শিরিন সুলতানাকে সঠিক দিশা দেখাতে পারবেন।” শহরে বাংলাদেশি অভিনেতাদের কাজে আপত্তি! রুদ্রনীলের সঙ্গে টেকনিশিয়ানদের বৈঠকে উঠল প্রস্তাব। ‘ঘরের ছেলে’র কাছে আবদার ছিল ইন্ডাস্ট্রির টেকনিশিয়ানদের। মুখোমুখি বসতে হবে তাঁদের সঙ্গে। শুনতে হবে অভাব-অভিযোগ। গত ১৪ বছর ধরে যা নীরবে সয়েছেন তাঁরা। দীর্ঘ দিনের সহকর্মী টেকনিশিয়ানদের অনুরোধ রেখেছেন বিজেপির অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় দীর্ঘ সময় ধরে বৈঠক করেন। সেখানেই ‘শিল্প নির্দেশনা’ বিভাগের (আর্ট ডিরেকশন) জনৈক টেকনিশিয়ানের অনুযোগ, “শহরে বাংলাদেশি অভিনেতারা এসে কাজ করে যাচ্ছেন। এটা মেনে নিতে পারছি না। এই দিকটা যদি বিবেচনা করেন।” ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পরে রুদ্রনীলের সঙ্গে টেকনিশিয়ানদের এটাই ছিল প্রথম বৈঠক। সেই বৈঠকের সাক্ষী সাংবাদিকেরাও। ক্যামেরার সামনেই ওই টেকনিশিয়ান নিজের বক্তব্যের সপক্ষে একাধিক যুক্তি দেন। আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, “ও পার বাংলা থেকে কলকাতায় এসে শুটিং করে যান বাংলাদেশের অভিনেতা, পরিচালকেরা। টেকনিশিয়ানেরা যথাযথ পারিশ্রমিক পান না। ফলে, লাভ হয় বাংলাদেশের প্রযোজকদের। ভিন্‌দেশ থেকে এ দেশে এসে শুটিং করে লাভবান হবেন, কেন এটা হতে দেওয়া হবে?” তাঁর আরও দাবি, কাজ করতে এসে শহরের অনেক খুঁটিনাটি সম্পর্কে তাঁরা জেনে যান। ওই টেকনিশিয়ানের মতে, এত খুঁটিনাটি তথ্য জেনে যাওয়া বোধহয় মঙ্গলজনক নয়। ওই টেকনিশিয়ানের অনুরোধ কি আদৌ গ্রাহ্য হবে? উপস্থিত সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন রুদ্রনীলকে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলেন, “বিষয়টির পরিধি এবং গুরুত্ব অনেক। এটি আন্তর্জাতিক একটি বিষয়। এ রকম ঘরোয়া বৈঠকে এর নিষ্পত্তি এবং সিদ্ধান্ত হওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে আমি বা বাকি আরও তিন জন যাঁরা টলিউডের দায়িত্বে রয়েছেন, আমরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতেও পারি না।” অভিনেতা-রাজনীতিবিদ জানিয়েছেন, বিষয়টি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের উপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে একমাত্র সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। তিনি বিষয়টি দেশের শীর্ষমহলে অবশ্যই পৌঁছে দেবেন।

আগের সরকার বিদায় নিতেই টলিপাড়ায় গুঞ্জন, ইন্ডাস্ট্রিতে দুর্নীতির আখড়া ফেডারেশন। আগামী দিনে এই সংগঠনের অস্তিত্ব না-ও থাকতে পারে। বুধবার সকালে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় সংবর্ধনা দেওয়া হয় টালিগঞ্জের জয়ী বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীকে।ফেডারেশনের অফিস গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণ করে তিনিও তেমনই আভাস দেন। আগামী দিনে ইন্ডাস্ট্রিকে রাজনীতি এবং দুর্নীতিমুক্ত রাখতে সত্যিই কি ফেডারেশন থাকবে না? জবাবে রুদ্রনীল বলেন, “সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আমি বা রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের নেই। আমরা টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি, কলাকুশলীদের অভাব-অভিযোগ, চাহিদার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানাব। তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।” এই প্রসঙ্গে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ আরও জানান, দুর্নীতিমুক্ত ইন্ডাস্ট্রি দেখতে চায় নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ, টলিউডে যেন আগামী দিনে শুধুই কাজ হয়। সবাই যেন কাজ পান। ফেডারেশন, গিল্ড-সহ টলিউডের সমস্ত সংগঠনের প্রতিনিধি বাছা হবে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। ভোট দিয়ে প্রতিনিধিদের বাছবেন সদস্যরা। এ দিন এ কথা জানাতেও ভোলেননি রুদ্রনীল। আশ্বাস দিয়ে বলেন, “যা গিয়েছে তা যাক। আসুন, সবাই মিলে নতুন ভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখি।” এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, সৃজিৎ রায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। প্রযোজকদের মধ্যে ছিলেন অশোক ধানুকা, নিসপাল সিংহ রানে, ফিরদৌসল হাসান, সুশান্ত দাস, সৌরভ দাস-সহ অনেকেই। ‘বন্ধু’ রুদ্রনীলকে স্বাগত জানিয়ে প্রত্যেকের অনুরোধ, আর যেন কারও কাজ বন্ধ না হয়। কাউকে যেন প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে না হয়। ইন্ডাস্ট্রি বহিরাগতরা যেন আর কোনও সংগঠনের প্রতিনিধি নির্বাচিত না হন। কেউ যেন অত্যাচারিত না হন। পরমব্রত বলেন, “রাজনৈতিক আদর্শ প্রত্যেকের থাকবে। থাকবে ভিন্ন মত। কিন্তু কাজে যেন তার ছায়া না পড়ে। সবাই যেন মন দিয়ে সিনেমা, সিরিজ়, ছবি বানান।” বন্ধুর সুরে সুর মিলিয়ে রুদ্রনীলও বলেন, “রাজনৈতিক মত যার যার। কাজ সবার।” যাঁদের অনুরোধে এই বিশেষ বৈঠক, সেই কলাকুশলীরা কী বললেন? রূপসজ্জাশিল্পী সিমরন পাল-সহ একাধিক কলাকুশলী এ দিন কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানান, তাঁদের উপর ঘটে যাওয়া অত্যাচারের কথা। মতে এবং পথে না মিললে কী ভাবে দিনের পর দিন তাঁদের খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে, সে কথাও আজ প্রকাশ্যে বলে ‘বিচার’ চান প্রত্যেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles