Friday, May 22, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘আপত্তি গ্রাহ্য করেননি সুজিত’!‌ ৪ জুন পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজত!‌ নিয়োগে বিস্ফোরক দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাঁচু রায়

RK NEWZ ইডি হেফাজতের পরে সুজিত বসুকে ফের বিচারভবনে তোলা হয়। ৪ জুন পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিস্ফোরক দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাঁচু রায়। তিনি জানিয়েছেন, পুর নিয়োগের ক্ষেত্রে অয়ন শীলের সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে আপত্তি ছিল তাঁর। কেন বাইরের সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বোস তাঁর সেই আপত্তি গ্রাহ্য করেননি বলে বয়ান দিয়েছেন তিনি। এ দিকে দক্ষিণ দমদম পুরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান নিতাই দত্তকে দু’বার তলব করা সত্ত্বেও তিনি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দিয়ে হাজিরা এড়িয়েছেন। সুজিত বসুর সঙ্গে নিতাই দত্তর বক্তব্য যাচাইয়ের প্রয়োজন বলে আদালতে দাবি করেছে ইডির। পাশাপাশি সুজিত বোসকে ৪ জুন পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে সুজিত বসুর বিরুদ্ধে দু ‘কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ এনেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার জন্য আবেদন করেন ইডির আইনজীবী। প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর জামিনের আবেদন জানিয়ে তাঁকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পালটা দাবি করেছন তাঁর আইনজীবী। ইডি হেফাজতের পরে বৃহস্পতিবার সুজিত বসুকে ফের বিচারভবনে তোলা হয়। ইডির আইনজীবী যখন নিজের বক্তব্য পেশ করার সময় সুজিত বসুর আইনজীবীর তরফ থেকে বারবার বাধা ও হস্তক্ষেপ আসতে থাকে বলে জানিয়েছে আদালতের সূত্র। এতে ক্ষুব্ধ হন ইডির আইনজীবী। তবে সুজিত বসুর আইনজীবী নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান। এ দিন ইডি আদালতে জানায়, এই মামলায় বিপুল টাকার বেআইনি লেনদেন হয়েছে। প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা গোপাল চন্দ্র পোদ্দার নামে এক ব্যক্তির কাছে গিয়েছে, যার কোম্পানিতে গোপাল ও উত্তম সাহার নামে ৬৪% শেয়ার ছিল। এই পুর দুর্নীতি থেকে সুজিত বসু দু’কোটি টাকা লাভ করেছেন। অয়ন শীলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল নথি থেকে দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রায় ১৫০ জন প্রার্থীর অবৈধ নিয়োগে সুজিত বসুর সরাসরি যোগ মিলেছে। তিনি তখন ওই পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। এই বিপুল দুর্নীতির টাকা কোথায় গিয়েছে তার তদন্তের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থা আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত জেরায় অসহযোগিতা করেছেন। তিনি পরিবারের বিপুল সম্পত্তি ও আয়ের উৎসের দায় অন্যের উপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। অভিযুক্ত প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট ও সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন বলে দাবি করে তাঁর জামিনের বিরোধিতা করেছে ইডি।

সোনা পাপ্পু মামলায় শুক্রবার সাতসকালে শহরজুড়ে ইডির হানা। জমি দুর্নীতির তদন্তে কসবা, চক্রবেড়িয়া, রয়েড স্ট্রিটে হানা দিয়েছেন ইডির আধিকারিকরা। চক্রবেড়িয়ায় এক ব্যবসায়ী, রয়ে়ড স্ট্রিটে একটি হোটেল ও কসবায় এক পুলিশের সাব ইন্সপেক্টরের বাড়িতে তদন্তকারীরা অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। এই দুর্নীতি মামলায় ইডির হেফাজতে থাকা কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও সোনা পাপ্পুকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান বলে খবর। পাশাপাশি ডিসিপির মুর্শিদাবাদের কান্দির প্রাসাদোপম বাড়িতেও অভিযান চলছে। শুক্রবার সকালে ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা দিয়েছেন একদল আধিকারিক। এই ব্যবসায়ী সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ বলে সূত্রের খবর। জোর করে জমি দখল, বেআইনি লেনদেনে তাঁর কোনও যোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে রয়েড স্ট্রিটে একটি হোটলে হানা দিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। ম্যানেজারর সঙ্গে কথা বলে হোটেলে তল্লাশি শুরু করেন তাঁরা। মালিককে ডেকে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি কসবায় এক পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর রুহুল আমিন আলি শার বাড়িতেও হানা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। তিনি ওয়েলফেয়ার কমিটির প্রাক্তন কর্মকর্তা। এই পুলিশকর্মী প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ বলে খবর। এই পুলিশকর্মী ডিসিপির স্ত্রী ব্যবসায় পার্টনার বলেও জানা যাচ্ছে। তিনি জমি দুর্নীতিতে কোনওভাবে যুক্ত কি না, সব দিক খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। শহরের তিন জায়গায় তল্লাশির পাশাপাশি, প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহার মুর্শিদাবাদের কান্দির বাড়িতেও হানা দিয়েছেন একদল ইডির অফিসার। কান্দি পুরসভার ৮ ওয়ার্ডে এই বাড়িটি তাঁর পৈত্রিক বাড়ি বলে জানা যাচ্ছে। কান্দি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তথা শান্তনুর বোন গৌরী সিনহা বিশ্বাস এখানে থাকেন। কিন্তু প্রায় সাত দিন ধরে বাড়িটি তালা বন্ধ। এ দিন প্রায় ঘণ্টা দুয়েক অপেক্ষা করে তালা ভেঙে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতে ঢোকেন ইডির আধিকারিকরা। তল্লাশি চলছে।
জোর করে জমি দখল। সেখানে অবৈধ নির্মাণ। আর্থিক তছরুপ-সহ একাধিক অভিযোগে ইডি গ্রেপ্তার করেছে কসবা ত্রাস সোনা পাপ্পুকে। এই মামলাতেই গ্রেপ্তার হয়েছেন সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও এক ব্যবসায়ী। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ফের অভিযানে তদন্তকারীরা।

যেকোনও মুহূর্তে গ্রেপ্তারির আশঙ্কা। রক্ষাকবচের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে তাঁর আইনজীবী রক্ষাকবচের আবেদন করেন। মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন বিচারপতি। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর সমাজমাধ্যমে তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তাঁকে কার্যত হুমকি দিতে দেখা যায়। সেই ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “১৫ বছর ধরে অনেক সংযম দেখিয়েছিলাম। শান্তিতে রেখেছিলাম। কিন্তু আর তা হবে না।” বিজেপিকে প্রকাশ্যে হুমকি দিতেও শোনা গিয়েছে তাঁকে। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই দিলীপের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়। এরপর গত ১৪ মে, সকালে দিলীপ মণ্ডলের পৈলানের বাড়িতে যায় পুলিশ ও ব়্যাফ। বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি অভিযান চালায়। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িতে ঢুকে তৃণমূল বিধায়কের বিলাসবহুল জীবনযাপন দেখে তাজ্জব পুলিশ কর্মীরা। ওই বাড়িতে রয়েছে একাধিক দামী গাড়ি, সুইমিং পুল, দোলনা সহ কাঠের আসবাবপত্র। এছাড়াও বাড়িতে একটি গুহাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই তল্লাশি অভিযানের পর থেকেই বেপাত্তা বিধায়ক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ইতিমধ্যে গত ১৭ মে, রবিবার রাজ্য পুলিশের টাস্ক ফোর্স এবং ডায়মন্ড হারবারের জেলা পুলিশের আধিকারিকরা বিধায়কপুত্র অর্ঘ্য মণ্ডলের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালান। অর্ঘ্য-সহ পাঁচজনকে বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে এলাকায় অযথা অশান্তি পাকানোর অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে রক্ষাকবচের আর্জিতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল বিধায়ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles