RK NEWZ ওই যে দূরে, ওই পাহাড়টা টপকাতে হবে। পথ অতি দুর্গম, রুক্ষ, বিপদে ভরা। খিদে, তেষ্টা, ক্লান্তিতে শরীর অবশ হয়ে যাবে। মনে হবে, আর না। আর পারা যাচ্ছে না। এবার ফিরে যাই। বহুবার কাছে গিয়েও ফের নীচে পড়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু হার মানা তো রক্তে নেই। রাতের ঘন আঁধারে হাতে মশাল জ্বালিয়ে রাখো। বুকের সেই আগুন পথ দেখাবে। সেই যে কোন এককালে বাবার কোলে করে সফর শুরু। লাল-হলুদ জার্সির সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাত্রা শুরু। তারপর থেকে অক্লান্ত সফর চলছে, চলছে… অবশেষে স্বপ্নপূরণ। ২২ বছরের গ্লানি, ব্যর্থতা, যন্ত্রণা, কান্না মিটিয়ে সর্বোচ্চ শিখরে। ইস্টবেঙ্গল ফের ভারতসেরা। গত ২২ বছরের গল্পটার প্রতীকরূপ উপরের অংশটি। কিন্তু বিশ্বাস করতে অসুবিধা নেই যে, আজ ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের কাছে এই প্রতীকটাই বাস্তব। সেই কবে, ২০০৩-০৪ সালে সুভাষ ভৌমিকের কোচিংয়ে জাতীয় লিগ জয়। তারপর নাম বদলে আই লিগ হয়েছে। শুরু হয়েছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ। ইস্টবেঙ্গল ফেডারেশন কাপ জিতেছে, ঘরে সুপার কাপ এসেছে। ক্লাব শতবর্ষে পা দিয়েছে। মেয়েরা দু’বার দেশের সেরা হয়েছে। কিন্তু পুরুষ দল দেশের সেরা লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। হার একরকম। কিন্তু যেটা আরও যন্ত্রণার, সেটা হল আশা জাগিয়ে হার। আই লিগে চারবার রানার্সআপ। কোনওবার মাত্র এক পয়েন্টের জন্য লিগ হাতছাড়া হয়েছে। লাল-হলুদ ভক্তরা আজও আফসোস করেন, ২০১১-১২ মরশুমে ট্রেভর মর্গানের জমানায় সালগাওকারের বিরুদ্ধে ম্যাচে ২ গোলে এগিয়ে থেকেও না হারলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত ছিল। কিংবা ২০১৮-১৯ মরশুমে আলেজান্দ্রো গার্সিয়ার সময় আইজল ম্যাচটা যে কেন ড্র হল! গোকুলাম কেরালার বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ জিতেও সেই ব্যর্থতার আঁধারে মুখ গুঁজে থাকতে হল। আর আইএসএলে এতদিন পর্যন্ত শুধুই হতাশা। আইএসএলে ডার্বি মানে নিশ্চিত হার। মাঠের মধ্যে যেমন লড়াই ছিল, তার থেকেও কঠিন ছিল মাঠের বাইরের যুদ্ধটা। পড়শি ক্লাবে ট্রফি এসেছে, কটাক্ষ হজম করতে হয়েছে মোহনবাগান সমর্থকদের থেকে। বারবার কোচ বদল, কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইনভেস্টরদের ঝামেলা, কোভিডের মধ্যে ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ঘাড়ধাক্কা খাওয়ার অপমান। আর কত যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে? ওই পাহাড়টা টপকাতে আর কত বিনিদ্র রজনী কাটবে? এক-একটা বছর গিয়েছে, আর একঝাঁক অন্ধকার মুখ নীরবে স্টেডিয়াম ছেড়েছে। কেউ অভিমানে দূরত্ব বাড়িয়েছেন, আবার কেউ-বা দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিজ্ঞা করেছেন, এর শেষ দেখে ছাড়বেন।

“কী করে এর সঙ্গ ছাড়ি বলুন তো? ইস্টবেঙ্গল যে আমাদের মা।” বলছিলেন ‘প্রবাসে ইস্টবেঙ্গল’ ফ্যান ক্লাবের শুভজিৎ পাল। ব্যান্ডেলের বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে বর্তমানে চেন্নাইয়ে থাকেন। শেষ জাতীয় লিগ জয় বা আশিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্মৃতি আজও টাটকা। কিন্তু স্বীকার করে নেন, সেদিনের সুখস্মৃতির সঙ্গে আজকের আকাশপাতাল তফাৎ। তখন ইস্টবেঙ্গল মাঠে নামা মানেই চ্যাম্পিয়ন, আর আইএসএল জয় ২২ বছরের অপেক্ষার ফসল। শুভজিৎ বলতে থাকেন, “২০১৯-র শেষ ম্যাচে কোচিতে খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। সেদিন টিম হোটেলে সেলিব্রেশনের সমস্ত আয়োজন ছিল। লাড্ডু এনে রাখা ছিল। কিন্তু ওদিকে চেন্নাই জিতে যাওয়ায় চ্যাম্পিয়ন হতে পারলাম না। এবার যখন চেন্নাইয়ে ম্যাচ খেলতে এল, তখন কোচ (অস্কার ব্রুজোর) সঙ্গে কথা হয়েছে। উনিই বরং আমাদের আত্মবিশ্বাস দিয়ে গিয়েছেন। এতদিন অপেক্ষা করেছি, তাই আজকের আনন্দটা আরও বেশি। সংস্কার বলতে পারেন, তবে আজ সেভাবে কোনও আয়োজন ছিল না। সপ্তাহ শেষে ধুমধাম করে সেলিব্রেট করব।” উৎসবের প্রস্তুতি শুধু চেন্নাইয়ে নয়, আসমুদ্রহিমাচল জুড়ে। এমনকী দেশের বাইরেও৷ গোটা বিশ্বের ‘বাঙাল পোলা-মাইয়া’ আজ এক। ময়দানের প্রাচীন প্রবাদ, ইস্টবেঙ্গল খোঁচা খাওয়া বাঘ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। হ্যাঁ, লড়াইটা দীর্ঘ ২২ বছরের ছিল। কিন্তু রূপকথার শেষে রাজপুত্রের জয়। আজ থেকে আর শুধু ‘স্মৃতি সততই সুখের’ নয়, বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য রূপরেখা তৈরি হয়ে গেল। ‘ইস্টবেঙ্গল আলট্রাস’ গ্রুপের সদস্য কৃষ্ণেন্দু দত্ত যেমন বললেন, “এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। তবে আমি অতীত সাফল্য দেখেছি, আমি চাই আজকের প্রজন্ম এই দিনটা উপভোগ করুক। ওরা তো শুধু ব্যর্থতাই দেখেছে। ইউরোপীয় ফুটবলের চাকচিক্যের মধ্যেও মায়ের ক্লাবের পাশে দেখেছে।” ভারতীয় ফুটবলে ‘আলট্রাস সংস্কৃতি’ নিয়ে এসেছিল ‘ইস্টবেঙ্গল আলট্রাসই।’ প্রথম দিকে অনেকেই এই বিশেষ ধরনের সমর্থনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি। অনেক সমস্যা, ঝুটঝামেলা পেরিয়ে যেন এই দিনটার জন্যই যেন অপেক্ষা করেছিলেন কৃষ্ণেন্দুবাবুর মতো অনেকে। গোলপোস্টের পিছন থেকে তারা বলতে থামেননি, ‘ও ইস্টবেঙ্গল, এগিয়ে চলো। আমরা আছি, তোমারই পাশে।’ কৃষ্ণেন্দুবাবু বললেন, “আজ থেকে ইস্টবেঙ্গলে পালাবদল শুরু হল। এবার শুধুই সাফল্য আসবে।” তরুণ প্রজন্মের লাল-হলুদ সমর্থক বিদিশা রয় আবার শ্রদ্ধাশীল আগের প্রজন্মের প্রতি। তিনি বললেন, “আমি বাবা-কাকাদের কাছে সোনালি সময়ের গল্প শুনেছি। কিন্তু সুপার কাপ জেতা ছাড়া কোনও সাফল্য দেখিনি। আজ প্রথমবার মনে হল, মায়ের আদর পাচ্ছি। এতদিন শুধুই যন্ত্রণা পেয়েছি, গুমরে কেঁদেছি। আজও কাঁদছি। তবে সেটা সুখের কান্না। কিন্তু অনেকেই আছেন, যাঁরা এই দিনটা দেখে যেতে পারলেন না। মাতৃসম ক্লাবের জয়ে তাঁদের আত্মা যেন শান্তি পায়।” এভাবেই এক হয়ে যায় প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম। ওই যে ‘Then, Now, Forever’। ছিল, আছে, থাকবে। একশো বছরের স্পর্ধার আরেক নাম ইস্টবেঙ্গল। হারতে হারতে পালটা লড়াই করার নাম ইস্টবেঙ্গল। একদিনে হবে না, একদিন ঠিক হবে। সমর্থকরা হাল ছাড়েননি, ‘মায়ের’ সঙ্গ ছাড়েননি। ভোর হওয়ার আগের রাতের কালোয় কোটি-কোটি মানুষ প্রতিক্ষা করেছেন। কেউ জীবন বাজি রেখেছে, কেউ কেরিয়ার। কলেজ কেটে, মাইনের টাকা বাঁচিয়ে, মায়ের মৃত্যুর পর, নিজের বিয়ের দিন- সবার নিজের নিজের গল্প আছে। সব কটা গল্প একার, আবার সবার। সব কটা গল্প মিশে যায় একটাই শব্দে- ‘ইস্টবেঙ্গল’। লাল-হলুদ জার্সি পরলে আজও নিজেকে অপ্রতিরোধ্য মনে হয় অনেকের। ‘জয় ইস্টবেঙ্গল’ স্লোগান তুলে অনেকে ভাবেন সব যুদ্ধ জিতে নেওয়া যায়। তাঁদের বিশ্বাস আজ সত্যি হল। কল্যাণী, বারাসত, যুবভারতী, কিশোর ভারতী হয়ে ভারতীয় ফুটবলের রং আজ লাল-হলুদ। রাত বাড়ছে, রাত শেষ হচ্ছে। এমন একটা ভোর আসছে, যে দিনটা নতুন। দূরে শোনা যাচ্ছে চিরন্তন এক স্লোগান, ‘আমরা কারা…, জিতছে কারা…, ওই ছেলেটা…, উদ্বাস্তু…।’
চক্রবৎ পরিবর্তন্তে সুখানি চ দুখানি চ। এই সংস্কৃত শ্লোকের গভীর বাণী জীবনের সবক্ষেত্রেই সত্যি। কিন্তু আমরা তা মনে রাখি না। একটা দল যখন পরপর ছ’টা ম্যাচে হারে, তখন আত্মবিশ্বাস কোথায় পৌঁছয় তা বলাই বাহুল্য। সেই সময় তাদের মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, অন্ধকার কেটে গিয়ে আলো জ্বলে উঠবেই। কেবল লড়ে যেতে হবে। অস্কার ব্রুজো যে সময় ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্বে এসেছিলেন, সেই সময় এই কথাটাই মনে করিয়ে দেওয়ার দরকার ছিল। তিনি কীভাবে সেকথা বলেছিলেন, তা জানা নেই। কিন্তু শেষপর্যন্ত ৮টা জয় ও ৪টি ড্র-সহ ২৮ পয়েন্টে শেষ করেছিল লাল-হলুদ। আজ, বৃহস্পতিবাসরীয় রূপকথার রাতের ভিত্তিপ্রস্তর আসলে সেই ঘুরে দাঁড়ানোর মধ্যে দিয়েই নির্মিত হয়েছিল। অস্কার ব্রুজো এক আশ্চর্য স্বপ্নের নির্মাতার নাম। যে স্বপ্ন মনে করিয়ে দেয়, ‘সব পারে, মানুষ সব পারে’… হ্যাঁ, ‘কোনি’র ক্ষিদ্দার সেই সংলাপ, ‘ফাইট কোনি, ফাইট’ মনে পড়ে যাবেই। কার্লোস কুয়াদ্রাত সুপার কাপ জিতিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময়ের ট্রফি-খরা কেটে গিয়েছিল। বহুদিন পর ডার্বি জয়ও এসেছিল তাঁর আমলেই। কিন্তু অস্কার যে স্বপ্নবৃক্ষ রোপণ করতে পেরেছিলেন, সেটা করে উঠতে পারেননি কুয়াদ্রাত। তাই বিক্ষিপ্ত সাফল্যের বেশি কিছু অর্জন করা হয়নি। অস্কার জানতেন, অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার বিশ্বাসের সঙ্গে জুড়তে হবে লড়াই। যে লড়াই আসলে ইস্টবেঙ্গল ‘জার্মান’ দলের জন্মদাগ! অস্কার তা জানতেন না হয়তো। কিন্তু বুঝে গিয়েছিলেন দ্রুত। অনুভব করতে পেরেছিলেন ইস্টবেঙ্গল কেবলই একটা ক্লাব নয়। তা বংশানুক্রমে বইতে থাকা এক আবেগ, ভালোবাসার খরস্রোত। যে স্রোতের সামনে ভেসে যায় যুক্তিজাল। পরিস্থিতি যাই হোক, জিততেই হবে। কিন্তু চাইলেই তো হয় না। জীবনটা তো ‘চক দে ইন্ডিয়া’র চিত্রনাট্য নয়। শাহরুখ খানের জন্য চমৎকার সব সংলাপ তৈরি করাই ছিল। তিনি, অস্কার ব্রুজো সেই চিত্রনাট্য লিখেছেন রক্তমাংসের অক্ষরে! যে অক্ষর ছুঁয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় আজ থেকে শুরু করল ইস্টবেঙ্গল। ভারতসেরা হল লাল-হলুদ! সেই সাফল্যের রূপকার যে তিনিই… অস্কার ব্রুজো। অস্কার কি সত্যিই একজন স্বপ্নালু মানুষ? না। তিনি বাস্তবের মাটিতে পা রেখে চলেন। বরং কুয়াদ্রাত ছিলেন বেশ আবেগপ্রবণ। অস্কার বাইরে থেকে দেখলে বেশ গম্ভীর। সাংবাদিক সম্মেলনে অনেক সময়ই এমন সব কথা বলেন, যা মুহূর্তে খবরের শিরোনামে ‘বিস্ফোরক’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। বৃহস্পতিবারের ম্যাচের আগে পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন, জয় নিশ্চিত ধরে নিয়েই চ্যাম্পিয়ন টি-শার্ট তৈরি রাখার পক্ষপাতী আদপেই নন। পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি যদি আগে থেকেই উদযাপন নিয়ে ভাবতে শুরু করে দেন, তবে তিনি একজন ‘লুজার’। এই একটি মন্তব্যই বুঝিয়ে দেয়, বাস্তবের মাটিকে পা রেখে কেবলই লড়াই করে যাওয়াটুকু নিয়ে মাথা ঘামিয়েছেন অস্কার। কিন্তু… সেই মানুষটিই কাল জানিয়ে দিয়েছিলেন, রাতে ঘুম আসতে কোনও সমস্যা হবে না তাঁর। কেননা তাঁর চোখে একটা স্বপ্ন আছে। এটাই অস্কার ব্রুজোর সাফল্যের রসায়ন। বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে স্বপ্নের পতাকাকে আকাশে ভাসিয়ে রাখা! অস্কার যখন দায়িত্ব পান, ময়দানে এমন ব্যঙ্গও শোনা গিয়েছিল, ”ইস্টবেঙ্গল আইএসএল পাবে না। কিন্তু অস্কার পেয়েছে।” শেষপর্যন্ত সত্যিই ইস্টবেঙ্গল কোচ হয়ে উঠবেন অস্কার পুরস্কারের মতোই মহার্ঘ, কে ভেবেছিল!
অস্কার ব্রুজো একজন একরোখা মানুষ। নন্দকুমারকে যখন টানা খেলিয়ে যাচ্ছিলেন, প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত বদলাননি। অথচ দীর্ঘ সময়ের ডার্বি-খরা কাটানো ম্যাচের স্কোরার ছিলেন নন্দই। সেই খেলোয়াড়ই যেন কেমন হারিয়ে যাচ্ছিলেন মাঠে! অথচ অস্কার তাঁকে টানা খেলিয়ে বিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে থাকেন। ফল, মহামেডানের বিরুদ্ধে নন্দ জ্বলে উঠলেন। সাত গোলে জেতা ম্যাচের শেষ গোলটা তাঁরই ছিল। বাঁ পায়ের মাপা শটের সেই গোল বুঝিয়ে দিয়েছিল নন্দ ফিরছেন। এরপর মুম্বই এফসির সঙ্গে মরণ-বাঁচন ম্যাচের জয়সূচক গোলও তিনিই করেন বক্সের মাথা থেকে নেওয়া অনবদ্য শটে। এখানেই অস্কারের ম্যাজিক। তিনি প্রয়োজনীয় বারুদ জোগাড় করে একজোট করেন। এরপর দরকার থাকে স্রেফ একটা স্ফূলিঙ্গের। যা জন্ম নেয় ওই বারুদমাখা আত্মবিশ্বাস থেকেই। একজন কোচের এটাই কাজ। তিনি মাঠে নামবেন না। সাইডলাইনে দাঁড়াবেন। সেখান থেকে বারুদ ছুঁইয়ে দেবেন কেবল। আগুন জ্বলে উঠবে। উঠবেই। ‘চক দে ইন্ডিয়া’র কথা মনে পড়ে যায় এখানে এসেই। কবীর খান জানতেন, তাঁর হাতে যে মেয়েরা আছে এরা হয়তো নিজেরাও বিশ্বাস করে উঠতে পারেনি তারা বিজয়ী হতে পারে। সেই বিশ্বাসের বীজ পুঁততে হবে। সঙ্গে অনুশীলনে অনুশীলনে তৈরি করতে হবে জেতার অভ্যাস। অস্কারের আইএসএল সাফল্যকে তাই নিছক ফ্লুক বলে যাঁরা সরিয়ে রাখবেন, তাঁরা একেবারেই ভুল করবেন। মনে রাখতে হবে, ডুরান্ড ও আইএফএ শিল্ডেও ইস্টবেঙ্গল নকআউট পর্বে উঠেছিল। এর মধ্যে ডুরান্ডে ডার্বি জিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ছিটকে দিয়েও ডায়মন্ড হারবারের কাছে সেমিতে হার। আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে মোহনবাগানের কাছে হার। তবে টাইব্রেকারে। একেবারে শেষে গিয়ে ৫-৪ ব্যবধানে। হারটা হারই। তবু ইস্টবেঙ্গল খেলোয়াড়দের (এবং সমর্থকদেরও) মনের ভিতরে অস্কার ধীরে ধীরে বিশ্বাসটা পোক্ত করে দেন, তোমরা পারবে। পারবেই। সেই বিশ্বাসের ফসলই মিলল আজ। আইএসএলে বিজয়ী হল সেই দলটা, যারা গতবারও শেষ করেছিল নবম স্থানে। অস্কার নিজের চোখের সামনেই বদলে দিলেন, বদলে দিতে পারলেন। এরপরও তাঁকে ‘চক দে ইন্ডিয়া’র শাহরুখ বলব না?





